kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

৭৩তম এমি অ্যাওয়ার্ডস

নেটফ্লিক্সের রাতে ‘দ্য ক্রাউন’-এর বাজিমাত

১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসেছিল ৭৩তম প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। এবার সর্বোচ্চ সাতটি পুরস্কার বাগিয়েছে নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘দ্য ক্রাউন’। বিস্তারিত লিখেছেন লতিফুল হক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নেটফ্লিক্সের রাতে ‘দ্য ক্রাউন’-এর বাজিমাত

নেটফ্লিক্সের বাজিমাত

২০১২ সালে প্রথম অরিজিনাল সিরিজ প্রচার করে নেটফ্লিক্স। কিন্তু আশ্চর্যভাবে গেল ৯ বছরে এমিতে একটাও বড় পুরস্কার বাগাতে পারেনি স্ট্রিমিং জায়ান্ট। সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ‘গেম অব থ্রোনস’-এর দাপট। তবে ঠিকই বাজিমাত করেছে তারা, ঘরে নিয়ে ফিরেছে ২৯টি এমি। ‘দ্য ক্রাউন’ একাই জিতেছে সাতটি পুরস্কার। এর মধ্যে আছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আউটস্ট্যান্ডিং ড্রামা সিরিজ, যা প্রথমবারের মতো জিতল নেটফ্লিক্স। তাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী এইচবিও এবার জিতেছে ২৮টি এমি। চমক দেখিয়েছে ডিজনি প্লাস। যাত্রা শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই ২২টি পুরস্কার ঘরে তুলেছে।

 

‘দ্য ক্রাউন’-এর জয়

৭৩তম এমিতে সবচেয়ে বেশি ১৩ মনোনয়ন পেয়েছিল অ্যাপল প্লাসের কমেডি সিরিজ ‘টেড ল্যাসো’। কিন্তু তাদের টেক্কা দিয়ে আসরে সর্বোচ্চ সাত পুরস্কার বাগিয়েছে কুইন দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাজত্বের গল্প নিয়ে ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজ ‘দ্য ক্রাউন’। এ পর্যন্ত চারটি সিজন শেষ হয়েছে এই সিরিজের। আউটস্ট্যান্ডিং ড্রামা সিরিজ ছাড়াও সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, পার্শ্ব-অভিনেতার পুরস্কারসহ ড্রামা ক্যাটাগরির সব পুরস্কারই বাগিয়েছে তারা। ড্রামা ক্যাটাগরির সব পুরস্কার একই সিরিজের পাওয়ার ঘটনা এমিতে এই প্রথম। এত পুরস্কার জিতলেও ‘দ্য ক্রাউন’ টিম এমির আসরে আনন্দ করতে পারেনি। কেবল অভিনেতা জশ ও’কনর এসেছিলেন। বাকিরা লন্ডনের এক বাড়িতে একত্রিত হয়ে টিভিতে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

 

জেসন, যশ ও কোলম্যানের প্রথম

‘দ্য ক্রাউন’-এর চতুর্থ সিজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে তরুণ অভিনেতা জশ ও’কনরকে। প্রিন্স চার্লসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। এ চরিত্রের অভিনয়ের জন্য আউটস্ট্যান্ডিং লিড অ্যাক্টর ইন আ ড্রামা সিরিজ ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছেন জশ। পুরস্কার নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছি, সবাইকে ধন্যবাদ। ‘দ্য ক্রাউন’-এর কল্যাণে গেল বছর আমার জীবনে স্বীকৃতি পাওয়ার সময় হয়ে থাকবে।” একই সিরিজে কুইন দ্বিতীয় এলিজাবেথ চরিত্রে অভিনয় করে প্রখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেত্রী অলিভিয়া কোলম্যান হয়েছেন আউটস্ট্যান্ডিং লিড অ্যাকট্রেস ইন আ ড্রামা সিরিজ। আগে অস্কার, বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব জিতলেও এমি বাকি ছিল ৪৭ বছর বয়সী অভিনেত্রীর। এবার পূর্ণ হলো সেটাও। কোলম্যান বলেন, ‘আমি এই সিরিজের প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগ করেছি, এরপর কী হয় দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’ অশ্রুসজল চোখে নিজের বাবাকেও স্মরণ করেন কোলম্যান, যিনি কিছুদিন আগেই কভিড আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

কমেডি সিরিজের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে ফেভারিট ছিল ‘টেড ল্যাসো’। অনুমিতভাবেই আউটস্ট্যান্ডিং কমেডি সিরিজ হয়েছে এটা। এই সিরিজের জন্য আউটস্ট্যান্ডিং লিড অ্যাক্টর ইন আ কমেডি সিরিজ হয়েছেন জেসন সিডেকিস। জনপ্রিয় এই মার্কিন কমেডিয়ানের এটাই প্রথম এমি। কমেডি ক্যাটাগরির সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন জিন স্মার্ট [হ্যাকস]। কমেডি ক্যাটাগরিতে সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা ও অভিনেত্রী হয়েছেন ‘টেড ল্যাসো’র ব্রেট গোল্ডস্টেইন ও হানা ওয়াড্ডিংহাম। ড্রামা ক্যাটাগরির পার্শ্ব-অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন ‘দ্য ক্রাউন’-এর টোবায়াস মেনজিস ও জিলিয়ান অ্যান্ডারসন।

 

বর্ণবাদ বিতর্ক

এবার এমিতে রেকর্ডসংখ্যক অশ্বেতাঙ্গ অভিনেতা-অভিনেত্রী মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু মূল পুরস্কারে তার প্রভাব দেখা গেল না। অভিনয় ক্যাটাগরিতে বড় কোনো পুরস্কার মেলেনি, ১২ পুরস্কারের সবই পেয়েছে শ্বেতাঙ্গরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

 

‘ওয়ান্ডাভিশন’ চমক

এ বছরের অন্যতম আলোচিত সিরিজ ‘ওয়ান্ডাভিশন’। ডিজনি প্লাস-এর প্রচার হওয়া মার্ভেলের সিরিজটি এমিতে কতগুলো পুরস্কার পাবে, এ নিয়ে ভক্তদের জল্পনার শেষ ছিল না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ক্যাটাগরিতেই পুরস্কার পায়নি মিনি সিরিজটি! পুরস্কার মিলেছে কেবল কস্টিউম, প্রডাকশন ডিজাইনের মতো অগুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে।

 

এমিতেও নারীদের জয়গান

কান থেকে ভেনিস—এ বছর বিভিন্ন উৎসবে দেখা গেছে নারীদের জয়গান। ব্যতিক্রম নয় এমিও। ড্রামা ও কমেডি ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছেন দুই নারী পরিচালক, যা এমির ইতিহাসে প্রথম। এইচবিও ম্যাক্স-এর কমেডি সিরিজ ‘হ্যাকস’-এর জন্য সেরা হয়েছেন লুসিয়া অ্যানিলো। ‘পুরস্কার পেয়ে পরাবাস্তব অনুভূতি হচ্ছে,’ প্রতিক্রিয়ায় বলেন তিনি। এ ছাড়া ‘দ্য ক্রাউন’-এর চতুর্থ সিজনের ফিনালে পর্ব ‘ওয়ার’ পরিচালনার জন্য সেরা হয়েছেন জেসিকা হবস। এমিতে ড্রামা ক্যাটাগরিতে নারী পরিচালকের জয় বিরল ঘটনা। এর আগে ২০১৭ সালে জিতেছিলেন রিড মোরানো [দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল]। তার আগে এ পুরস্কার জিতেছিলেন মিমি লেডার। সেটা ছিল ১৯৯৫ সালে!

এ ছাড়া এবার ‘আই মে ডেসট্রয় ইউ’ লেখিকা মিকাইলা কোল জিতেছেন আউটস্ট্যান্ডিং রাইটিংয়ের পুরস্কার।

 

কেট ও অন্যান্য

অন্য গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের মধ্যে আউটস্ট্যান্ডিং লিমিটেড অথবা অ্যান্থলজি সিরিজ হয়েছে ‘দ্য কুইনস গ্যাম্বিট’। এক দাবাড়ুর গল্প নিয়ে তৈরি এ সিরিজে অভিনয় করেন আনা টেইলর-জয়। অনেকে মনে করেছিলেন, তিনিই হবেন লিমিডেট অথবা অ্যান্থলজি ক্যাটাগরিতে সেরা অভিনেত্রী। কিন্তু খানিকটা চমকে দিয়ে এই পুরস্কার বাগিয়েছেন কেট উইন্সলেট। কেট এ পুরস্কার জিতেছেন এইচবিওর বহুল প্রশংসিত সিরিজ ‘মেয়ার অব ইস্টটাউন’-এর মেয়ার চরিত্র করে। পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি বলেন, ‘পর্দায় প্রধান নারী চরিত্র কেমন হতে পারে মেয়ার চরিত্রটি সে ধারণা বদলে দিয়েছে। এ জন্যই মেয়ার আমার হৃদয়ের কাছের। ব্রাড [সিরিজের নির্মাতা ব্রাড ইংলেসবি] এই পুরস্কার তোমার। তুমি এই মধ্যবয়সী নারীর চরিত্র তৈরি করেছ। যে একজন মা, অনেক দিন থেকেই আকর্ষণীয় নয়, কিন্তু তাকেই আমরা ভালোবাসি।’

 

এবং কভিড

গেল বছর এমি হয়েছিল ভার্চুয়ালি। মহামারির প্রভাব কাটিয়ে এবার পরিকল্পনা ছিল আগের মতোই জাঁকজমক অনুষ্ঠান করার। কিন্তু ডেল্টা ভেরিয়েন্টের চোখ-রাঙানিতে ভেস্তে যায় সে পরিকল্পনা। ঠিক হয় তারকারা সশরীরে হাজির থাকলেও দর্শকের মধ্যে কেবল ৫০০ জন সুযোগ পাবেন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার। তবে এমির নিয়মিত ভেন্যু মাইক্রোসফট থিয়েটারের বদলে অনুষ্ঠান হয় এল এ লাইভে। উপস্থাপনা করেন কমেডিয়ান সেড্রিক দ্য ইন্টারটেইনার।

 

সূত্র : এএফপি, ভ্যারাইটি



সাতদিনের সেরা