kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

হচ্ছে না পেন্সিলে আঁকা পরী

অনুদানের টাকা ফেরত দিচ্ছেন অমিতাভ

রংবেরং প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অনুদানের টাকা ফেরত দিচ্ছেন অমিতাভ

অমিতাভ রেজা চৌধুরী

হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’র পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পেয়েছিলেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। অনুদানের ৬০ লাখ টাকার প্রথম কিস্তি ১৮ লাখ টাকাও পেয়েছিলেন। চূড়ান্ত করেছিলেন পাত্র-পাত্রী ও লোকেশনও। কিন্তু শুটিং শুরুর আগেই অমিতাভ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছবিটি নির্মাণ না করার। এমনকি অনুদান কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকাও ফেরত দেবেন বলেও জানিয়েছেন। অমিতাভ বলেন, ‘একজন নির্মাতা হিসেবে এটা আমার ব্যর্থতাই বলা চলে। কত মানুষ অনুদান চেয়ে পান না, আর আমি ফেরত দিচ্ছি।’

‘আয়নাবাজি’ নির্মাতা ১০ বছর ধরে ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিন বছর ধরে চিত্রনাট্য করেছেন রঞ্জন রব্বানীকে নিয়ে। তারও আগে দুইবার সরাসরি হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও বারবার ছবি নির্মাণের বিষয়ে আলাপ করেছেন। এত প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যাচ্ছেন কেন? অমিতাভ বলেন, ‘সরকারি টাকা মানে জনগণের টাকা। জনগণের সম্পদ নষ্ট করতে চাই না। স্পষ্ট দেখতে পারছি, ট্রাস্টি বোর্ডের (হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তাঁর সাহিত্য ও নির্মাণ বিষয়ে কিছু নিয়ম তৈরি করে এই বোর্ড) শর্তগুলো মেনে ছবিটি শেষ পর্যন্ত বানাতে পারব না। তার চেয়ে টাকাটা ফেরত দেওয়াই উত্তম।’

উল্লেখ্য, দেড় যুগ আগে নির্মাতা আবু সাইয়ীদ হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে ‘নিরন্তর’ ও ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’র জন্য অনুমতি নেন। ২০০৬ সালে লেখকের উপন্যাস অবলম্বনে ‘নিরন্তর’ নির্মাণ করলেও ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ আর করেননি। পরবর্তী সময়ে আবু সাইয়ীদের কাছ থেকে ছবিটির অনুমোদন নেন অমিতাভ। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকেও অনুমতি নেন।

ট্রাস্টি বোর্ড কী শর্ত দিয়েছে সেটা না প্রকাশ করলেও অমিতাভের কথায় স্পষ্ট মূলত তাদের শর্তের কারণেই এত প্রস্তুতি নিয়েও পিছিয়ে আসতে হচ্ছে তাঁকে, ‘১০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েও আমি বোর্ডটির শর্তের মধ্যে থেকে ছবিটি করতে পারছি না। আমাকে সরকার ৬০ লাখ টাকা দিলেও আরো সমপরিমাণ টাকা লগ্নি করতে হবে। সেটাও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু শেষে এসে যখন শর্তগুলো জানলাম তখন নিরুপায় হয়ে গেছি।’

তবে ‘স্বপ্নের ছবি’ করতে না পারলেও ট্রাস্টি বোর্ডের শর্তগুলোর প্রতি সম্মান জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা