kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

আমরা শুধু কনটেন্ট তৈরি করব

বর্তমানে কানাডায় আছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ। সেখান থেকেই ঘোষণা দিয়েছেন আপাতত সিনেমা নয়, ওয়েব কনটেন্ট নির্মাণ করবেন। অনলাইনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমরা শুধু কনটেন্ট তৈরি করব

হঠাৎ করে ওয়েবের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন?

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ। দুই বছর ধরে দর্শক হলে যাচ্ছে না। এদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কলাকুশলীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। ভেবে দেখলাম ওয়েব কনটেন্ট নির্মাণ করলে তাঁরা অন্তত কাজে ব্যস্ত থাকবেন। একসময় বছরে ৮-১০টি ছবি নির্মাণ করতাম আমরা। এই দুঃসময়ে বসে থাকলে ইন্ডাস্ট্রি আরো অচল হয়ে পড়বে। তাই ওটিটিতে পা রাখার সিদ্ধান্ত।

 

আপনারা কি ওটিটি প্ল্যাটফর্মও তৈরি করবেন?

না। শুধু কনটেন্ট তৈরি করব। বিক্রি করব আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্য ভাষায়ও ডাবিং করা হবে। বাংলাদেশে এখন যে বাজেটের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, জাজ মাল্টিমিডিয়া নিশ্চয়ই তার চেয়ে বেশি বাজেটে আরো ভালো কনটেন্ট নির্মাণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো অনায়াসেই আগ্রহী হবে।

 

এখনো জাজ মাল্টিমিডিয়ার তিনটি ছবি মুক্তি প্রতীক্ষিত। সেগুলোর কী করবেন?

করোনা পরিস্থিতি যদি ভালো হয় তাহলে হলেই মুক্তি দেব। নইলে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দিতে হবে। এ ছাড়া লগ্নি ফেরত পাওয়ার উপায় নেই। অবশ্য আমরা কনটেন্ট নির্মাণ করব জেনে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম যোগাযোগ করেছে।

 

জাজ মাল্টিমিডিয়ায় যাঁরা নিয়মিত কাজ করতেন ওয়েব কনটেন্টেও কি তাঁদের পাওয়া যাবে?

শুরু থেকেই আমরা নতুন মুখ উপহার দিয়ে আসছি। অনেকেই তারকা হয়েছেন আমাদের হাত ধরে। ওটিটিতেও নতুন মুখের সেই ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। এর মধ্যে কয়েকজনকে গ্রুমিংও করানো হচ্ছে। তাঁদের সবার মধ্যেই সম্ভাবনা আছে।

 

তাহলে কি পুরনো তারকারা সুযোগ পাবেন না?

তাঁদের নিয়েও কাজ করব। আমাদের আগের ছবিগুলোতে দেখবেন নতুন মুখের সঙ্গে পরিচিত মুখও ছিল। বাপ্পী-মাহির ছবিতে যেমন অমিত হাসান ছিলেন, তেমনি সাইমন-মাহির সঙ্গে আনিসুর রহমান মিলন ছিলেন। সিয়াম-পূজার সঙ্গেও বাপ্পারাজ ছিলেন। ওয়েব কনটেন্টের ক্ষেত্রেও তাই হবে। তবে সিয়াম, পূজা, নুসরাত, আরিফিন শুভদের ক্ষেত্রে গল্পটা অন্য রকম। মাঝেমধ্যে তাঁদের কেন্দ্র করেই কনটেন্ট তৈরি করব।

 

সারা দেশের ২৮৩টি হলে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ডিজিটাল প্রজেক্টর ছিল। সেগুলোর এখন কী হবে?

আপাতত এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিকও তো হতে পারে। তখন আবার মেশিনগুলো চলবে। তবে লগ্নিকারক হিসেবে এটাকে এখন লস প্রজেক্ট বলেই ধরে নিচ্ছি। মেশিনগুলো কিনতে ২০ কোটিরও বেশি টাকা লেগেছিল। মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবসায় সেই লগ্নি ওঠানো সম্ভব হয়নি।

 

ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে জাজ মাল্টিমিডিয়া সব সময় বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতার কলাকুশলীদেরও প্রাধান্য দিয়েছে। ওয়েব কনটেন্টেও কি সেই ধারাবাহিকতা থাকবে?

একদমই না। বাংলাদেশে এখন নতুনরা অনেক ভালো করছেন। ভালো নির্মাতা, গল্পকার ও অভিনেতার অভাব নেই। এখন উল্টো ভারতীয়রা বাংলাদেশের নির্মাতা ও অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করছেন নিয়মিত। সফলও হচ্ছেন তাঁরা। আমি কেন শুধু শুধু ঝুঁকি নেব?



সাতদিনের সেরা