kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

বিদায় গণমানুষের গায়ক...

করোনাভাইরাসের কাছে হেরে শুক্রবার রাতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ফকির আলমগীর। তাঁকে স্মরণ করেছেন তাঁর দুই সহকর্মী

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদায় গণমানুষের গায়ক...

তাঁকে ছাড়া কোনো আন্দোলনই অকল্পনীয়

নাসির উদ্দীন ইউসুফ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

ফকির আলমগীরের সঙ্গে পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে ১৯৬৭, ৬৮ ও ৬৯ সাল পর্যন্ত সরাসরি রাস্তায় আন্দোলন করেছিলাম। কত কত স্মৃতি! একবার পল্টন ময়দানে আমরা আন্দোলনরত, একের পর এক স্লোগান আর গণসংগীতে মুখর ময়দান। সবে ফকির গলা ছেড়ে গান ধরেছেন, আমাদের সবার রক্ত তখন আরো গরম। এর মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ওপর টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ করল। সবাই যে যেদিক পেরেছে ছুটে পালিয়েছে। আমি চোখেমুখে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। কোথা থেকে একটা ভেজা রুমাল এনে আমাকে দিলেন ফকির। চোখ মুছে নিতে বললেন। সেদিন থেকেই আমরা একে অন্যের খুব কাছের মানুষ হয়ে গেলাম। ফকির আমাকে লিডার ডাকতেন। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি আসার আগেই আমাকে ফোন দিতেন। বলতেন, ‘লিডার, আর তো সহ্য হচ্ছে না। শহীদ মিনারে কখন যাব!’ ফকিরকে ছাড়া আসলে ২১ ফেব্রুয়ারি কল্পনাই করা যায় না, তাঁকে ছাড়া আসলে কোনো আন্দোলনই অকল্পনীয়। ১৯৭১ সালে বিজয়ের পরও থেমে থাকেননি তিনি। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছিলেন সম্মুখযোদ্ধা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিরুদ্ধে, ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চেও তরুণদের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করেছেন তিনি। এমন একজন মানুষ আজ নেই ভাবতেই পারছি না। তাঁকে ছাড়া গণসংগীত কল্পনা করা কঠিন। তবু জানি, কেউ না কেউ হাল ধরবে, এগিয়ে নেবে এই মাধ্যম। তবে ফকিরকে আর পাব না।

 

 

সংগীতে আমার চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ফকির

ফেরদৌস ওয়াহিদ পপ গায়ক

আমাদের পরিচয় ১৯৭৩ সালে। দুজন তখন দুই ধারার সংগীতচর্চা করতাম—আমি পপ আর সে গণসংগীত। পরে তো ফকির পপ সংগীতেও সফল হলো। এ কারণে আমি বলি, সংগীতে আমার চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ফকির। গণসংগীতে গণমানুষের মন জয় করেছিলই, পপ সংগীতেও মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। দুই ধারার সংগীতে সফল হওয়াটা চাট্টিখানি কথা নয়। আমাদের মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। অনেকেই ভাবত, আমরা একে অন্যের শত্রু। বাস্তব পুরোপুরি ভিন্ন। আমার আয়োজনে ফকির দেশের বাইরে অনেক শো করেছে। সেসব শো নিয়ে অনেক স্মৃতি। বছর দশেক আগে দুজন মালদ্বীপ গিয়েছিলাম শোতে অংশ নিতে। প্রতি রাতেই শো, শেষ হতো মধ্যরাতে। হোটেলে ফিরে খেয়েদেয়ে ঘুমাতে ঘুমাতে ভোর। আমার আবার সকালে ওঠার অভ্যাস। ফ্রেশ হয়ে নাশতা করতাম। ফকির ঘুম থেকে উঠেই সে কী অভিমান! ‘আমাকে ডাকলি না! তুই স্বার্থপর’—আরো কত অভিযোগ।

ফকির অনেক কষ্ট করে এত দূর এসেছে। পোড় খাওয়া মানুষ বলেই এতটা অর্জন তার, এতটা সম্মান। একটা কথা না জানালেই নয়, আমিই তাঁর বিয়ের পাত্রী ঠিক করি। আমার হাতেই তার সংসার জীবনের সূচনা ঘটে। মানুষকে খুব সম্মান করতে জানত ফকির। আমাকে ডাকত এলভিস প্রিসলি, আমিও তাকে বলতাম গণসংগীতের বাঘ।

ফকিরের সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল দেড় মাস আগে, বিটিভিতে। দুজন আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলাম। তবে আড্ডা হয়েছিল অনেক। এই শেষ দুজনের আড্ডা, গল্প। ওপারে ভালো থাকুক বন্ধু, এই দোয়া করি।

 

জনপ্রিয় ১০ গান

# ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে

# মায়ের একধার দুধের দাম

# মন আমার দেহঘড়ি

# আহারে কাল্লু মাতব্বর

# সান্তাহার জংশনে দেখা

# চল সখিনা দুবাই যাব

# কালো কালো মানুষের দেশে

# ঘর করলাম নারে আমি

#  নাম তার ছিল জন হেনরি

#  বনমালী তুমি