kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

সহকর্মীদের স্মৃতিতে ওয়াসিম

বিদায় পোশাকি ছবির রাজপুত্র

বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে গতকাল পৃথিবী ছেড়ে গেলেন বাংলা পোশাকি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ওয়াসিম। কবরীর পর ওয়াসিম—একের পর এক মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন চলচ্চিত্রের বাসিন্দারা। ওয়াসিমকে স্মরণ করেছেন তাঁর দুই সহকর্মী আলমগীর ও রোজিনা

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদায় পোশাকি ছবির রাজপুত্র

মেজবাহউদ্দীন আহমেদ ওয়াসিম [১৯৪৭-২০২১]

আমরা মামা-ভাগ্নে

আলমগীর

আর কত নেওয়া যায়! আমার আপন বোন মারা গেল ১০ এপ্রিল। এর মধ্যে ফরীদ আহমেদও নেই। ১৭ এপ্রিল হারালাম কবরীকে। আর এখন ওয়াসিম! আমাদেরও তো বয়স হয়েছে। চারদিকের এত মৃত্যুসংবাদ নিতে পারছি না। দুশ্চিন্তা চেপে ধরেছে। ওয়াসিম ফিল্মে আসার আগে থেকেই আমার পরিচিত ছিল। আমি তখন অষ্টম কিংবা নবম শ্রেণিতে পড়তাম। সম্পর্কে আমরা মামা-ভাগ্নে। আমি তাকে মামা ডাকতাম, সে-ও আমাকে মামা ডাকত। আমার মামা ড. নাসিরুল্লার বাসায় থেকে ওয়াসিম বডি বিল্ডিং করত। এরপর চলচ্চিত্রে পা রাখল। একের পর এক জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়ে সবার মন জয় করে নিল। শুটিং স্পটে প্রায়ই দেখা হতো আমাদের। সে কী হাসি-ঠাট্টা! ওয়াসিমের মতো সহজ-সরল মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। কারো সঙ্গেও থাকত না, পাছেও থাকত না। নিজের কাজ নিয়ে সদা ব্যস্ত। জীবনের শেষের দিকে চলচ্চিত্রের ওপর কিছুটা ক্ষোভ জন্মেছিল ওয়াসিমের। তাকে নিয়ে গল্প তৈরি হয়নি বোধ হয় পঁচাশি সালের পর থেকে। বলতে গেলে বেকার সময় পার করেছে। এর মধ্যে স্ত্রীর অকালমৃত্যু, একমাত্র মেয়ের আত্মহত্যা ওয়াসিমকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।

ওয়াসিম নেই ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। চারদিকে মৃত্যুর এক ভয়াল থাবা তেড়ে আসছে। জানি না, কার ভাগ্যে কী আছে! ওয়াসিম ওপারে ভালো থাকুক।

 

আমার সর্বাধিক ছবির নায়ক তিনি

রোজিনা

তাঁর মৃত্যুর খবরে আমি ভাষাহীন হয়ে পড়েছি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আমাদের। নায়িকা হিসেবে আমার প্রথম ছবি ‘রাজমহল’-এর নায়ক তিনি। ভয়ে ভয়ে ছিলাম অনেক। ওয়াসিম ভাই তখন দেশের বড় সুপারস্টার। আমাকে যদি ‘না’ করে দেন তো ক্যারিয়ার ওখানেই শেষ। ভয়ের রেশটা কেটে গেল যখন ওয়াসিম ভাই ডেকে বললেন, ‘তুমি ভালো করবে। ছবিটির গল্প ভালো। মন দিয়ে অভিনয় করলে এই এক ছবি দিয়েই তারকাখ্যাতি পেয়ে যাবে।’ সত্যি তা-ই হয়েছিল। এই ছবির পর আমাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ছবি করেছি ওয়াসিম ভাইয়ের সঙ্গে। ফোক, ফ্যান্টাসি, সামাজিক, অ্যাকশন—সব ঘরানার ছবি আছে আমাদের! ওয়াসিম ভাই সব সময়ই আমার আবদার রাখতেন। গতবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কেউ ওয়াসিম ভাইকে ভোট দিতে আনতে পারছিল না। জায়েদ খান আমাকে দায়িত্ব দিল। আমি ওয়াসিম ভাইকে একটা ফোন দিলাম। ফোন রিসিভ করে বললেন, ‘আমার তো শরীর ভালো না! তার পরও তুমি বলেছ, না এসে উপায় কী?’ আমি প্রায় সময়ই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। ভালো-মন্দের খবর নিতাম। এক বছরেরও বেশি সময় তিনি অসুস্থ হয়ে বাসায় পড়ে ছিলেন।

একটা কথা না বললেই নয়, ওয়াসিম ভাই কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। ধূমপান করতেন না, এমনকি কোনো ধরনের বাজে নেশা তাঁর ছিল না। এমন নিপাট ভদ্র নায়ক বাংলা চলচ্চিত্রে আর আসবে কি না সন্দেহ। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।