kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

ভালো কাজের স্পৃহা ছিল

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালো কাজের স্পৃহা ছিল

মুজিবুর রহমান দিলু [১৯৫২—২০২১]

গতকাল ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে পৃথিবী ছেড়ে গেলেন মুক্তিযোদ্ধা অভিনেতা মুজিবুর রহমান দিলু। তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার এবং বিটিভির সাবেক প্রযোজক খ ম হারুন

 

ফেরদৌসী মজুমদার

‘সংশপ্তক’ নাটকে অভিনয়ের সময় দিলুর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। খুব বিনয়ী ছিল। সব সময় সংযত থাকত। আমাকে আন্টি বলে ডাকত। তার বাচনভঙ্গিটাও ছিল দারুণ। অপ্রোয়জনে কাউকে কিছু বলত না। আমি জানতাম না সে অভিমানে অভিনয় থেকে দূরে ছিল। কিছুদিন আগে শুনলাম বিষয়টা। এটা হতাশাজনক। দিলু অনেক ভালো অভিনেতা। তার মধ্যে ভালো কাজ করার স্পৃহা ছিল। ‘সংশপ্তক’-এ তাকে যখন বড় মালুর চরিত্রে নেওয়া হলো মনে মনে খুব ভয় পেয়েছিল। কারণ ছোট মালু দর্শকদের হৃদয়ে আসন করে নিয়েছিল। সে কি পারবে ছোট মালুর মতো দর্শকপ্রিয় হতে! সারাক্ষণ ছেলেটা চিন্তায় থাকত। আমাকেও বলত, ‘আন্টি, আমি খুব দুঃচিন্তায় থাকি। যদি দর্শক আমাকে ফিরিয়ে দেয়!’ দিলু পেরেছিল। ছোট মালুর মতো বড় মালুও পেয়েছিল মানুষের ভালোবাসা। দিলুর মতে তার চেহারা ভালো না, এ নিয়ে হতাশা কাজ করত মনে। অবশ্য অভিনয় দিয়েই সেটা পুষিয়ে দিয়েছে সে। মাঝখানে দিলু অনেক অসুস্থ ছিল। কোমায় ছিল অনেক দিন। তখন তার স্ত্রীর সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হতো। খোঁজখবর নিতাম সব সময়। কিন্তু করোনার কারণে নিজেও মানসিকভাবে ভালো নেই। ফলে অনেক দিন দিলুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। জানি না এই করোনা আর কত গুণীজনকে কেড়ে নেবে! একের পর এক প্রিয় মানুষদের হারাচ্ছি। দিলুর আত্মা শান্তি পাক এটাই এখন চাওয়া।

 

ছিলেন প্রচার বিমুখ মানুষ

খ ম হারুন

আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। অভিনয়ে আসার আগে থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। প্রচারবিমুখ মানুষ ছিলেন দিলু। এত বড় একজন মুক্তিযোদ্ধা অথচ কখনো মানুষকে বলতেন না। এমনকি সরকারের কাছে কোনো সুযোগও নিতেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন দিলু ‘ঢাকা ড্রামা’ প্রতিষ্ঠা করেন। নিজেই নির্দেশনা দিতেন। ‘আমি গাধা বলছি’ নাটকটি তখন দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। মঞ্চপাড়ায় খুব সুনাম কুড়ান দিলু। বিটিভিতে ‘সংশপ্তক’ ও ‘সময় অসময়’ করার পর দিলুকে সারা দেশ চিনেছিল। এত বড় একজন অভিনেতা অথচ কোনো অহংকার ছিল না। আমার প্রযোজনায় একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। কখনো তাঁর জন্য ইউনিটকে বসে থাকতে হয়নি। নীরব এবং স্বল্পভাষী মানুষ ছিলেন। আমার প্রযোজনায় তাঁর অভিনীত ‘মহাপ্রস্থান’, ‘কিছুতো বলুন’সহ অনেক নাটক জনপ্রিয় হয়েছিল। দিলু শেষ দিকে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী ছিলেন। আমার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ ছিল। ২০০৫ সালে যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখনই তাঁর মনটা ভেঙে যায়। খুব হতাশ থাকতেন। আজ দিলু নেই। কত স্মৃতি যে মনে পড়ছে! তিনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা