kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

পুরস্কারটি আলী যাকেরকে উৎসর্গ করছি

২০১৪ সালে ‘দেশা দ্য লিডার’ ছবিতে খল চরিত্রে পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেলেন ‘আবার বসন্ত’ ছবির জন্য। তারিক আনাম খানের সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরস্কারটি আলী যাকেরকে উৎসর্গ করছি

দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন। অভিনন্দন...

ধন্যবাদ। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার একজন অভিনেতার কাছে সব সময় স্বপ্নের মতো। দুবার এই পুরস্কার পেলাম। অনেক ভালো লাগছে। গেজেট প্রকাশের পর থেকে একের পর এক ফোন পেয়ে যাচ্ছি। শুভেচ্ছা জানিয়ে অনেকেই বার্তা পাঠাচ্ছেন। এ এক অন্য রকম অনুভূতি।

জুরি বোর্ডকে ধন্যবাদ আমাকে সেরা অভিনেতা মনোনীত করার জন্য। পুরস্কারটি সদ্যঃপ্রয়াত আলী যাকেরকে উৎসর্গ করছি। তিনি ছিলেন মঞ্চনাটকের একজন দিকনির্দেশক। তাঁর অবদান বলে শেষ করা যাবে না।

 

১৯৮০ সাল থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। এই সময়ে এসে পুরস্কার। কেমন লাগছে?

আমি সব সময় ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র চেয়েছি। ‘ঘুড্ডি’ ১৯৮০ সালে মুক্তি পেলেও আমার প্রথম ছবি সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’ (১৯৮১)। এরপর ‘সুরুজ মিয়া’ও করেছিলাম। পরে বেশ কিছু বাণিজ্যিক ছবির প্রস্তাব পেলেও করিনি। সত্যি বলতে, তখন যে ধরনের ছবি হতো সেই ধরনের ছবিতে নিজেকে ফিট মনে করিনি। ১৯৯৭ সাল থেকে নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করি। সোহানুর রহমান সোহান ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ডাকেন। এখন তো চলচ্চিত্রে ব্যস্ত সময় পার করছি। 

 

আবার বসন্ত নিয়ে কী বলবেন?

অনন্য মামুনকে ধন্যবাদ জানাই এই সময়ে এমন একটি ছবি তৈরি করার জন্য। এ ঘরানার ছবিগুলো বাণিজ্যিকভাবে সফল হয় না জেনেও মামুন ঝুঁকি নিয়েছে। স্পর্শিয়া এই সময়ের উঠতি অভিনেত্রী। সেও আমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিনয় করেছে। পুরো টিমটার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

 

এখন কী কী কাজ করছেন?

শিহাব শাহীনের ‘যদি কিন্তু তবুও’ ছবির শুটিং চলছে। কিছুদিন আগে শেষ করেছি নুরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘গাঙচিল’ ও ফজলুল কবির তুহিনের ‘গাঙকুমারী’ নির্মাণাধীন।

 

সবাই বলছেন চলচ্চিত্রের অবস্থা খুব নাজুক। অথচ এই সময়েও আপনি চলচ্চিত্রে নিয়মিত!

চলচ্চিত্রের সঙ্গে যাঁরা সংশ্লিষ্ট তাঁদের কাছে অনুরোধ মন-প্রাণ দিয়ে কাজ করার। ভালো গল্প বাছাই করতে হবে, নির্মাণেও হতে হবে আধুনিক। আমাদের দর্শক আছে, শুধু ভালো চলচ্চিত্রের সংখ্যাটা কম। সেটা পূরণ করতে পারলেই আবার চলচ্চিত্রে সুদিন ফিরে আসবে।

 

এক নজরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র : ন ডরাই ও ফাগুন হাওয়ায়

শ্রেষ্ঠ পরিচালক : তানিম রহমান অংশু [ন ডরাই]

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা : তারিক আনাম খান

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী : সুনেরাহ বিনতে কামাল

শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক : মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমন [মায়া দ্য লস্ট মাদার]

শ্রেষ্ঠ গায়ক : মৃণাল কান্তি দাস

শ্রেষ্ঠ গায়িকা : মমতাজ বেগম ও ফাতিমা-তুয-যাহরা ঐশী

শ্রেষ্ঠ সুরকার : প্লাবন কোরেশী ও সৈয়দ মো. তানভীর তারেক

 

ফ্যাক্টস

♦ অভিষেকেই বাজিমাত করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। প্রথম ছবি ‘ন ডরাই’তে নারী সার্ফারের চরিত্রে অভিনয় করেন সুনেরাহ। প্রথম ছবিতেই জিতলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার।

♦ এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘প্রথম’-এর ছড়াছড়ি। প্রথমবারের মতো সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন ‘ন ডরাই’ পরিচালক তানিম রহমান অংশু, শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে যৌথভাবে পুরস্কার পাওয়া দুজন প্লাবন কোরেশী ও সৈয়দ মো. তানভীর তারেকের এটা প্রথম পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে পুরস্কার পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমনেরও এটা প্রথম জাতীয় পুরস্কার।

♦ গেলবারের মতো এবারও খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন জাহিদ হাসান (সাপলুডু)। আগের বছরও ‘হালদা’ ছবির জন্য একই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

♦ এবার সর্বোচ্চ আট ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে মাসুদ পথিকের ‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’। তবে পরিচালক কোনো পুরস্কার পাননি। তাঁর আগের ছবি ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ২০১৪ সালে ছয়টি পুরস্কার পেয়েছিল। সেবার অবশ্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছিলেন পথিক।

♦ শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এবার পুরস্কার পেয়েছেন দেশের অন্যতম প্রধান কবি নির্মলেন্দু গুণ। ‘কালো মেঘের ভেলা’ ছবিতে গান লেখার জন্য এ পুরস্কার পান তিনি। ছবিটি তৈরি হয়েছে গুণেরই একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে।

♦ প্রযোজক হিসেবে অষ্টমবারের মতো পুরস্কার পেয়েছেন ফরিদুর রেজা সাগর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা