kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

‘পাঁচ দিন পর ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছি’

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘পাঁচ দিন পর ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছি’

আজম খান ও আলম খান

পপগুরু ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তাঁকে স্মরণ করেছেন তাঁরই বড় ভাই সংগীত পরিচালক আলম খান

আজম মারা যাওয়ার দিনদশেক আগে স্কয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে যাই। তখন আমার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। হাসপাতালে শুয়েই আজম জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই, চিকিৎসা করাতে কোথায় যাচ্ছেন?’ বললাম, ‘ব্যাংকক।’ সে  বলল, ‘ব্যাংকক কেন? সিঙ্গাপুরে যান। ওখানকার চিকিৎসা বেশি ভালো।’ আমি বললাম, ‘সেখানে খরচও অনেক বেশি। আমার কাছে তো এত টাকা নাই।’ সে বলল, ‘আপনি যান। টাকা আমি দেব।’ তাকে বললাম, ‘তাহলে তুই দেশে চিকিৎসা নিচ্ছিস কেন? তুইও তো সিঙ্গাপুর যেতে পারতি।’ তার জবাব ছিল, ‘আমার শরীরটা অত ভালো না, সিঙ্গাপুর যেতে পারব না। দেখি, দেশেই ভালো চিকিৎসা হবে আশা করি।’

নিজের কথা না ভেবে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য সে আমার কথা ভাবল, টাকা দেওয়ার কথা বলল। এটা আসলে ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

২ জুন আমি ব্যাংককে চলে যাই। ৫ জুন আমার অপারেশন হয়। সেদিনই আজম মারা যায়। কিন্তু হাসপাতালে ক্রিটিকাল অবস্থায় থাকায় আমার সঙ্গে থাকা বড় ছেলে আরমান আমাকে খবরটি দেয়নি!

দেশে থাকা আমার বড় ভাই সাঈদ খান তখন বড় কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আজম মারা গেল। আলমের অপারেশন হলো। আমি এ শোক বইতে পারব না। আজমের লাশের কাছে যেতে পারব না।’ পরে যখন সবাই তাঁকে বোঝায় আমার অপারেশন সফল হয়েছে, আমি সুস্থ আছি; তখনই তিনি আজমের লাশের কাছে যান।

১০ জুন ব্যাংকক থেকে দেশে রওনা করি। বিমানবন্দরে নামার পর আরমান বুঝল খবরটি আমি এখন জেনে যাব, আর লুকিয়ে লাভ নেই। তখনই সে আমাকে বলল, ‘আব্বা, একটা দুঃসংবাদ আছে! আজম চাচা মারা গেছে।’ অর্থাৎ পাঁচ দিন পর ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদটা পেয়েছি। খবরটা শুনে প্রায় দুই মিনিট আমি স্তম্ভিত হয়ে ছিলাম। এটা আমার জন্য কত বড় একটা আঘাত ছিল বলে বোঝাতে পারব না!

অনুলিখন : রবিউল ইসলাম জীবন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা