kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

‘বাসুদাই আমাকে ফেরদৌস বানিয়েছেন’

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বাসুদাই আমাকে ফেরদৌস বানিয়েছেন’

‘হঠাৎ বৃষ্টি’ দিয়ে শুরু। এরপর ‘চুপি চুপি’, ‘টক ঝাল মিষ্টি’, ‘এক কাপ চা’ থেকে ‘হঠাৎ সেদিন’—বাসু চ্যাটার্জির পাঁচটি ছবিতে কাজ করেছেন ফেরদৌস আহমেদ। প্রিয় পরিচালকের বিদায়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন অভিনেতা

তখন ‘বুকের ভেতর আগুন’ ছবির শুটিং করছিলাম। সেটে শুনলাম, ভারতের নামকরা পরিচালক বাসু চ্যাটার্জি বাংলাদেশে এসেছেন। এ দেশের নায়ক নিয়ে ছবি করবেন। বাসুদাকে বাবার কল্যাণে আগে থেকেই চিনতাম। বাবা তাঁর ছবি খুব পছন্দ করতেন।

হঠাৎ এক রাতে [প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আশীর্বাদ চলচ্চিত্রের কর্ণধার] হাবীব খান ভাইয়ের ফোন। সকাল ৮টার মধ্যে আমাকে গুলশানের একটি ক্লাবে দেখা করতে বললেন। বাসুদা থাকবেন সেখানে! পরদিন ঠিক ৮টায় ক্লাবটিতে গেলাম। বেশ কয়েকজনের মধ্যে বাসুদাকে চিনতে কষ্ট হলো না। সাদা চুল, সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, পরিপাটি মানুষটাই বাসুদা। আমাকে দেখে বললেন, ‘তুমি কি শুধু জিন্স আর টি-শার্ট পরো?’ আমি না বুঝেই বললাম, ‘না। সব ধরনের পোশাকই পরি।’ জানতে চাইলেন, ড্রাইভিং পারি কি না। বললাম, ‘অল্প অল্প।’ তিনি শিখে নিতে বললেন। আমাকে স্ক্রিপ্টটা দিয়ে বললেন, পড়ে জানিও। ভালো লাগলে তোমাকে নিয়েই কাজটি করতে চাই। তখন হাবীব বললেন, ও কী জানাবে! আপনার ছবি করছে, এটাই ওর বড় অর্জন। তিনি বললেন, ‘না। ওর নিজের ভালো-মন্দ বলার অধিকার আছে।’

এক সপ্তাহ পর কলকাতা গেলাম। পরদিন বাসুদার সঙ্গে দেখা হলো হোটেলে। আমাকে নিয়ে কয়েকটি শপিং মল ঘুরে জামা-কাপড় কিনে দিলেন। তখনো মনে হয়নি ছবিটি আমি করব। এত বড় বড় তারকা থাকতে আমাকে কেন নেবেন? হঠাৎ বাসুদা বললেন শুটিং। সেদিন বেশ বৃষ্টি হচ্ছিল। বাসুদার সঙ্গে প্রথম দেখার দিনও বৃষ্টি ছিল, প্রথম শুটিংয়ের দিনও বৃষ্টি আর আজ [গতকাল] তিনি মারা গেলেন, আজও বৃষ্টি! প্রথম দিন শুটিংয়ের পর বাসুদা আমার খুব আপন হয়ে গেলেন। সত্যি বলতে, বাসুদাই আমাকে ফেরদৌস বানিয়েছেন। একজন মানুষ বানিয়েছেন।

বাসুদার সঙ্গে শেষ দেখা ২০১৯ সালে। তাঁর ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্তি নিয়ে কলকাতায় একটা অনুষ্ঠান হয়েছিল। তিনি আমাকে সেই অনুষ্ঠানে পরিচয় করে দিয়েছিলেন আলাদা এক মর্যাদার সঙ্গে। বাসুদা ছিলেন আমার বাবার মতো। জীবন সম্পর্কে অনেক কিছুই শিখেছি তাঁর কাছ থেকে।

বেশ কয়েক মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর দুই মেয়ে আমার ভালো বন্ধু। তাদের সঙ্গে কথা হতো নিয়মিত। বিশেষ করে রূপালী [গুহ] খুব কাছের। তাঁর পরিচালনায় ‘পরিচয়’ ছবিতে অভিনয় করেছি। আজ [গতকাল] সকালে যখন ফোন পেলাম ভাবছিলাম দাদার সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু হায়! শুনলাম তিনি নেই। তাঁর পরিচালনায় আরো ছবিতে অভিনয়ের এক অতৃপ্তি থেকে গেল। 

অনুলিখন : সুদীপ কুমার দীপ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা