kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

সা ক্ষা ৎ কা র

সব কিছুর আগে মানুষের জীবন

গতকাল থেকে নতুন করে এক হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে মৌসুমী আক্তার সালমার ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশন’। আগের সপ্তাহে তারা সহায়তা দেয় আরো ২০০ পরিবারকে। গায়িকার সঙ্গে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব কিছুর আগে মানুষের জীবন

নতুন করে এক হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন সম্পর্কে বলুন

৩১ মার্চ ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে আমরা ২০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিই। সেটা ছিল রাজধানীর হাজারীবাগের আশপাশে। তখন মূলত দুস্থ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে বেছে নিই। কিন্তু আমরা আমাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জরিপ চালিয়ে বুঝতে পারি, শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারও এখন সংকটে আছে। আমাদের এবারের উদ্যোগ তাদের জন্যই। এখন প্যাকেটিংয়ের কাজ চলছে। একটু পরই বেরিয়ে পড়ব। আজ ও আগামীকাল এগুলো মানুষের হাতে পৌঁছে দেব।

 

প্যাকেটে কী কী থাকছে?

এবারও আগের মতোই প্রতিটি প্যাকেটে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল ও আধালিটার তেল। নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। একটি পরিবারের মুখেও যদি হাসি ফোটাতে পারি সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা। এর বাইরেও ‘সাফিয়া ফাউন্ডেশন’ ছোট আকারে বিভিন্নভাবে মানুষকে সাহায্য করছে। 

 

শুনেছি, নিজ হাতে রান্না করা খাবারও মানুষের হাতে তুলে দেবেন?

এই কাজগুলো শেষ হলেই সেটা শুরু করব। সেই উদ্যোগটি গৃহহীন মানুষের জন্য। খাদ্য পৌঁছাতে গিয়ে দেখেছি, অনেক মানুষ রাস্তায় শুয়ে-বসে আছে। অথচ সারা দিন কিছুই মুখে দেয়নি। তাদের তো কাঁচা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে লাভ নেই। দিলে রান্না করা খাবারই দিতে হবে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ প্যাকেট খাবার রান্না করব। তারপর তাদের হাতে পৌঁছে দেব।

 

শিশুদের নিয়েও পরিকল্পনা করেছেন?

আমাদের পেজে অনেকেই জানিয়েছে, ছোট বাচ্চাদের দুধ কেনার টাকা তাদের হাতে নেই। বিষয়টি আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। কারণ আমার নিজেরও বাচ্চা আছে। এমন কিছু পরিবারের তালিকা করেছি। তাদের বাচ্চাদের জন্য অন্তত দুই মাসের দুধের ব্যবস্থা করব। 

 

সাফিয়া ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান আপনি সঙ্গে আছেন আপনার স্বামী সানাউল্লাহ সাগর অন্য কেউ কি সহায়তা করছে?

এখন পর্যন্ত বলতে গেলে আমরাই চালিয়ে নিচ্ছি। গুটিকয়েক মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে। কেউ ৫০০ টাকা বিকাশ করেও অংশ নিচ্ছে। সেদিন নিশিতা বড়ুয়া একটা অ্যামাউন্ট দিয়েছে। মানুষের সাহায্য আরো বেশি পেলে আমরাও মানুষকে আরো বেশি সাহায্য করতে পারব।

 

করোনার কারণে আপনিও তো অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন

সেটা তো হয়েছিই। মার্চ মাসে ২০টি শো বাতিল হয়েছে। এপ্রিলেও ১৮-১৯টি শো চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু এখন তো কিছু করার নেই। এ মুহূর্তে সব কিছুর আগে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে কত টাকা আসবে। এখন সবারই উচিত নিরাপদে থাকার পাশাপাশি যতটা পারা যায় মানুষকে সাহায্য করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা