kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

তারকার ডায়েরি

সবাই ভালো আছে তো?

ঘরবন্দি এ সময়ে কী ভাবছেন তারকারা? খানিকটা আভাস মিলবে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর এই লেখায়

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবাই ভালো আছে তো?

পরিবারের সঙ্গে ঋতুপর্ণা

সকালে ঘুম ভাঙল দেরিতে। রাতে ছবি দেখছি, বই পড়ছি, নানা চিন্তা আসছে, শুতে শুতে বেশ দেরি হচ্ছে। সকালে উঠি রোদের আলো পেয়ে। বিছানা থেকেই এত সুন্দর আকাশ দেখা যায়! আগে ব্যস্ততার জন্য এভাবে আকাশ দেখেছি কি?

 

সকাল ১০টা

আজ ঠিক করেছিলাম মেয়ের ওয়ার্ডরোব গুছিয়ে রাখব। সকাল থেকে চারবার ডেকেছি গাজুকে। তিনি উঠছেন না। আমার ছেলে আমার মেয়েকে একটা নাম দিয়েছে, ‘ডি কিউ’ মানে ড্রামা কুইন!

 

সকাল সাড়ে ১০টা

আমি সঞ্জয়ের ফরমায়েশি চা বানালাম। দেখলাম, সেটা খেয়ে ও চাঙ্গা হলো। শুধু তা-ই নয়, বলল, আমার হাতের রান্না খাবে সবাই। আর গাজু বলল, ‘মা, ডিম খাব।’ আমি ডিমের একটা স্পেশাল রান্না করি। কিন্তু এবার একটু বদলালাম। রোল করলাম। সবাই বলছিল, তুমি পারবে না। আমি বললাম, দেখি না।

 

দুপুর ১টা

রোল বানাতে চেষ্টা করলাম। সালাদ বানালাম। রেড সালাদ। এখন রোজের খাবারে লেবুর রস, গোলমরিচ, রসুন রাখার চেষ্টা করছি।

গাজু বলল, ‘মা, আমি ম্যাশ মেলজ রোস্ট করে খাব?’ আমি তো জানি না সেটা কী!

ওমা, দিব্যি দেখলাম ম্যাশ মেলোজ রোস্ট করল মেয়ে। কেমন দিব্যি বড় হয়ে যাচ্ছে!

 

দুপুর ২টা

আমাদের লাঞ্চ হলো। আগের দিনের কিছু লেফটওভার ছিল। আমি বাড়িতে নিয়ম করেছি, খাবার নষ্ট করা চলবে না। এখন এত মানুষ ঠিক করে খেতেই পারছে না। পরিস্থিতি সবার জন্য সঙ্গিন।

 

সন্ধ্যা ৬টা

ছেলেকে অনেক কষ্ট করে বের করে আনলাম ঘর থেকে। বললাম, আমাদের সঙ্গে আজ খেলতেই হবে। আমার ছেলে খুব ভালো কার্ডস গেম খেলে। ও আমায় শিখিয়ে দিল। খেলা শেষে উঠতে যাব, ছেলে বলল, ‘মা, আমার সঙ্গে মিনিট পনেরো ওয়ার্কআউট করবে চল।’

 

রাত সাড়ে ৯টা

বই পড়ছিলাম। আচমকা শুনি সুরের আওয়াজ। সঞ্জয় সরোদ নিয়ে বসেছে। তারপর খেয়াল করলাম, ও গাজুকে ছোট সরোদ নিয়ে আসতে বলল। গাজু নিমরাজি। তবু গিয়ে বসল বাবার কাছে। শুরু হলো বাবা-মেয়ের সরোদের আলাপ। সুরে ভরে উঠল বাড়িটা। এমন মুহূর্ত শেষ কবে তৈরি হয়েছিল আমার বাড়িতে? হয়েছিল কি? আমার বিশ্বাস, এখন অনেক বাড়িতেই এমন না-হওয়া অনেক কিছু হয়ে যাচ্ছে, যা হয়তো আগে হয়নি। রাত হয়ে আসছে। জানতে ইচ্ছা করছে বাড়িতে আত্মীয়রা কেমন আছে। মা? ভাই? শাশুড়ি? সবাই ভালো আছে তো?

 

রাত ১০টা

ডিনার টেবিলে আমরা সবাই। একসঙ্গে চারটে চেয়ার তো ভর্তি হয়নি কত দিন! আজ সব ভরা!

 

রাত ১১টা

এ সময়ে আমি নেটফ্লিক্স দেখি। আজ ছেলের হুকুমে নেটফ্লিক্স বন্ধ। ছেলে এফ ওয়ান ফর্মুলার কার রেস দেখাবেই আমাকে। দেখছিলাম। ঘুমিয়ে পড়লাম। দেখি সঞ্জয় ডাকছে, বলছে ঘরে শুতে। ও বলল, ‘রেস শেষ হয়ে গিয়েছে!’ আচ্ছা, এত স্পিড দিয়ে কী হবে? স্পিডেও ব্রেক লাগাতে হয়। আজ যেমন স্পিড বন্ধ। রেস করতে করতে আমরা বড্ড বড় রেসে ঢুকে গিয়েছি। আর এখন আমি রেস করতে চাই না।

আমি বাঁচতে চাই।

আনন্দবাজার থেকে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা