kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

তারকার ডায়েরি

প্রকৃতি অনেক সহ্যের পর এবার প্রতিশোধ নিল

করোনার কারণে টানা ঘরবন্দি। কী করছেন তারকারা? খানিকটা আভাস মিলবে ওপার বাংলার অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের লেখায়

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকৃতি অনেক সহ্যের পর এবার প্রতিশোধ নিল

সকাল ৯টা

এখন ব্রেকফাস্টে ফল খাচ্ছি বেশি, ভিটামিন সি যে ফলে আছে। এই সংক্রমণের সঙ্গে ইমিউনিটির কথা তো বারবার বলা হচ্ছে। কত কী-ই তো সেই কবে থেকে বারবার বলা হয়েছে! কে শুনেছে! আমি পরিবেশসচেতন বলেই আমার মনে হয়েছে, প্রকৃতি অনেক সহ্যের পর এবার প্রতিশোধ নিল।

 

সকাল ১০টা

ইদানীং অনেক ছবি দেখা হচ্ছে। ‘প্যারাসাইট’ দেখলাম। ছবিটা ভালো। তবে এ ধরনের সোশ্যাল স্যাটায়ার আগেও দেখেছি।

আর একটা ছবি দেখলাম, ‘প্ল্যাটফর্ম’। আমার মনে হয়, এই সময়ে সবার এই ছবিটি দেখা উচিত। ‘হান্টারস’ সিরিজটা শেষ করলাম। ‘টেস্ট’ সিরিজ দেখলাম। হিন্দি সিরিজ ‘অসুর’ শেষ করেছি দুই দিনে।

 

দুপুর ১টা

এবার এক্সারসাইজ করব। এক ঘণ্টা চলবে। তারপর লাঞ্চ। শুনছি, মানুষের বেরোনো নিয়ে চারদিক সরগরম। আমাদের মতো গরিব দেশে যেখানে বস্তি এলাকায় এক ঘরে ১০ জন মানুষ থাকে, সেখানে তো অর্ধেক লোক রাস্তায় শোয়। তারা আর কী করবে? তারা এমনিতেই বাড়িতে থাকতে পারে না।

তাই তারা অনেক সময় মন্দির, মসজিদেও যাচ্ছে। সবার বড় বাড়ি, এক ঘরে ইচ্ছা না হলে বারান্দা, অন্য ঘরও আছে। তবু বলব, এই অবস্থায়ও অনেকটাই কাজ হচ্ছে। আর যেটুকু হচ্ছে না সেটা নিয়তির ওপর ছাড়তে হবে।

 

দুপুর ৩টা

সকালে ছবি দেখলে দুপুরে বই পড়ছি। সেবাস্টিয়ান অরটিজের ‘ঘোস্টস অব ক্যালকাটা’ পড়ছি, আর তাহমিমা আনমের ‘গোল্ডেন এজ’। মাঝে মাঝে উল্টোটাও হচ্ছে।

 

বিকেল সাড়ে ৫টা

নিজের লেখায় মন দেওয়ার চেষ্টা করছি। আইডিয়া লিখে রাখছি। কিছু নোটস নিয়ে রাখছি। আমাদের কয়েকজনের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। রাজ, শুভশ্রী, রুদ্র, পদ্মনাভ, আবীর, আমি। এই গ্রুপে টুকটাক কথা চলতেই থাকে। তবে ইকার [অভিনেতার বান্ধবী] জন্য হঠাৎ হঠাৎ চিন্তা হচ্ছে!

 

রাত ৮টা

ফোনে কথা হলো ইকার সঙ্গে। জুন অবধি ওকে নেদারল্যান্ডসেই থাকতে হবে। ফোনে কথা বলে বুঝি, ও অত টেনসড নয়। আসলে ডাক্তার হিসেবে ওকে রোজ বের হতে হয়। কাজের মধ্যে থাকে। ওকে নিয়ে আমার বেশি চিন্তা হয়। আজ পাওলির সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ মেসেজে কথা হলো।

 

রাত ৯টা

জানি না কেন এই সময় গিটার নিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। সুর বের করে আনতে বেশ লাগে। মনে হয়, নিজের সঙ্গে থাকছি। গান গাওয়ার চেয়ে গিটার বাজাতে অনেক বেশি ভালো লাগে। অনেক সময় পেরিয়ে যায়। শুতে শুতে রাত ১২টা। ইকা সাবধানে থাকুক...

 

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা