kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

৬২তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস

বিষণ্নতা থেকে ফিরে গ্র্যামি জয়

২৬ জানুয়ারি রাতে [বাংলাদেশ সময় ২৭ জানুয়ারি সকাল] যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসেছিল ৬২তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। সংগীত দুনিয়ার সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরস্কারের বিস্তারিত নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিষণ্নতা থেকে ফিরে গ্র্যামি জয়

বিলি আইলিশ ও ফিনিয়েস ও’কনেল

বিলির রেকর্ডের রাত

২০১৮ সাল। বিষণ্নতায় মুষড়ে পড়েছেন। ঠিক করলেন আত্মহত্যা করবেন। কিন্তু কী ভেবে সতেরোতম জন্মদিনের ঠিক আগে সিদ্ধান্ত পাল্টালেন। ভাগ্যিস বদলেছিলেন, না হলে ৬২তম গ্র্যামিতে কে ইতিহাস গড়ত? ২০১৮ সাল

শেষ হওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতাকেও পেছনে ফেলেন বিলি আইলিশ। ২০১৯ সালে ঘুরে দাঁড়ান প্রবলভাবে। গেল বছর রাতারাতি পরিণত হন সারা দুনিয়ার তরুণদের চোখের মণিতে। সেখান থেকেই গ্র্যামিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয় মনোনয়ন। তখনই ধারণা করা হয়েছিল ঝড় তুলবেন। হয়েছেও তাই। এবারের গ্র্যামি কার্যত পরিণত হয়েছে ‘বিলিময়’। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারসহ যৌথভাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি পুরস্কার ঘরে তুলেছেন ১৮ বছর বয়সী গায়িকা। পাঁচটি না বলে দশটিও বলা যায়। অন্য পুরস্কারগুলোও তাঁদের বাড়িতেই গেছে। কারণ তাঁর বড় ভাই ফিনিয়েস ও’কনেলও জিতেছেন সমান পাঁচটি গ্র্যামি!

বিলির এই আশ্চর্য উত্থান ‘হোয়েন উই অল ফল অ্যাস্লিপ, হয়ার ডু ইউ গো?’ দিয়ে। এই অ্যালবামের সবচেয়ে হিট গান ‘ব্যাড গাই’। যা গেল বছর টানা ১৯ সপ্তাহ টপ চার্টের শীর্ষে থেকে কয়েকটি রেকর্ড গড়ে। এই অ্যালবাম ও ‘ব্যাড গাই’ গানের জন্য অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার, বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছেন বিলি। এ ছাড়া সেরা নবাগত শিল্পীর পুরস্কারও বাগিয়েছেন। ১৮ বছরের বিলিই সবচেয়ে কম বয়সে অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার জিতলেন। আগে ২০ বছর বয়সে রেকর্ডটি গড়েছিলেন টেইলর সুইফট। বিলি হলেন প্রথম নারী এবং দ্বিতীয় শিল্পী, যিনি একই বছর রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার এবং সেরা নবাগত শিল্পীর পুরস্কার জিতলেন। ১৯৮১ সালে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ক্রিস্টোফার ক্রস।

প্রথমবার মনোনয়ন পেয়েই পাঁচটি পুরস্কার জেতার কৃতিত্ব শ্রোতাদের দিয়ে বিলি বলেন, ‘যদিও আজকের রাতে তাদের নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে না, তবে সত্যিটা হলো শ্রোতারা না থাকলে আমরা কেউই এখানে আসতাম না।’ বিনয়ী বিলি আরো বলেন, তিনি জিতলেও ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ আসলে ‘থ্যাংক ইউ, নেক্সট’-এর জন্য আরিয়ানা গ্রান্দেরই জেতা উচিত ছিল। তাঁর বড় ভাই গায়ক, গীতিকার, প্রযোজক ফিনিয়েস পুরস্কারগুলো জিতেছেন বোনের সঙ্গে কাজ করেই। সেদিকে ইঙ্গিত করে বিলি বলেন, ‘আমরা বেডরুমে মিউজিক করতাম, এখনো করি। আজকালকার ছেলেমেয়েরা যারা ঘরে গান বানায় তাদের জন্য এই পুরস্কার।’

গ্র্যামিতে বাজিমাত করার আগে গেল বছর বিলবোর্ডের ‘ওম্যান অব দ্য ইয়ার’ হয়েছেন বিলি। কিছুদিন আগে সর্বকনিষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জেমস বন্ড ছবির থিম সং করেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় রেডিওর করা জরিপে গেল বছরের সেরা শিল্পীও হয়েছেন।

 

পারফরম করছেন আরিয়ানা গ্রান্দে

তারুণ্যের জয়গান

এবারের গ্র্যামি যেন ছিল তরুণদেরই। অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার ক্যাটাগরিতে টেইলর সুইফটকে মনোনয়ন না দিয়ে বার্তাটা আগেই দিয়েছিলেন গ্র্যামি ভোটাররা। ক্যারিয়ার শুরুর পর এবারই প্রথম এ ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাননি তিনি। বিলির মতোই ছয় ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী র্যাপার লিল নাস এক্স। শেষ পর্যন্ত গায়ক জিতেছেন দুই ক্যাটাগরিতে। সর্বোচ্চ আট ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়ে চমকে দিয়েছিলেন লিজো। তাঁর তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘কজ আই লাভ ইউ’ দিয়ে মনোনয়নগুলো বাগিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্তু ঘরে ফিরেছেন তিনটি পুরস্কার নিয়ে। পুরস্কার না পেলেও ইতিহাস গড়েছে আলোচিত কোরীয় ব্যান্ড ‘বিটিএস’। তারাই প্রথম কোরীয় ব্যান্ড যারা মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যামির আসরে পারফরম করেছে, দেশটির প্রথম ব্যান্ড হিসেবে মনোনয়নও পেয়েছিল তারা।

 

নেই তাঁরা

তারুণ্যের জয়গান থাকলেও এবার গ্র্যামিতে ছিল না বড় তারকাদের উপস্থিতি। পুরস্কার পাবেন না জেনেই বোধ হয় অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে টেইলর সুইফট জানিয়েছেন, তিনি এবার পারফরম করবেন না। আসেননি সেলেনা গোমেজও। অনুপস্থিত লেডি গাগা, বিয়ন্সেরা। তবে এবার গ্র্যামিতে সবচেয়ে হতাশ হয়েছেন সম্ভবত আরিয়ানা গ্রান্দে। তাঁর ‘থ্যাংক ইউ, নেক্সট’ ছিল গেল বছরের অন্যতম আলোচিত অ্যালবাম। কিন্তু পাঁচটি মনোনয়ন পেয়েও কোনো পুরস্কার জোটেনি গায়িকার ভাগ্যে।

 

গ্রান্দে আর লিজোর পারফরম্যান্স

এবারের গ্র্যামি শুরুই হয়েছে লিজোর পারফরম দিয়ে। তিনি তাঁর হিট ‘ট্রুথ হার্টস’ দিয়ে মঞ্চ মাতান। পুরস্কার না পেলেও অসাধারণ পারফরম করেন আরিয়ানা গ্রান্দে। ‘ফাস্ট ম্যান’ গেয়ে অনুষ্ঠানে হাজির বাবার চোখে জল আনেন কামিলা কাবেলো। পারফরম করেন বিলি আইলিশ, লিল নাস এক্স প্রমুখ। তবে আলাদাভাবে নজর কাড়েন ডেমি লোভাটো। ২০১৮ সালে মাত্রাতিরিক্ত মাদক গ্রহণ করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর এই প্রথম পারফরম করলেন তিনি। তাঁর ‘অ্যানিওয়ান’ পারফরম্যান্সের পর সবাই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়।

গেলবারের মতো এবারও গ্র্যামি উপস্থাপনা করেন অ্যালিসিয়া কিজ। সঙ্গে পারফরমও করেন গ্র্যামিজয়ী গায়িকা। তিনি ছাড়াও অনেক শিল্পীই সদ্য প্রয়াত মার্কিন বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্টকে স্মরণ করেন। কোবি খেলতেন লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের হয়ে। যে দলের হোম ভেন্যু স্টেপলস সেন্টারেই হয়েছে এবারের গ্র্যামি।

সূত্র : এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা