kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

এন্ড্রু কিশোরের পাশে প্রধানমন্ত্রী

সাবিনা ইয়াসমিনের কৃতজ্ঞতা

ক্যান্সার আক্রান্ত সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় পূর্ণ সহায়তার নির্দেশ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কিছু কথা বলেছেন সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবিনা ইয়াসমিনের কৃতজ্ঞতা

ফাইল ছবি

এন্ড্রু কিশোর আমার দীর্ঘদিনের সহশিল্পী। আমরা একসঙ্গে অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছি। আমাদের অনেক গানই শ্রোতারা গ্রহণ করেছেন। গান করতে গিয়ে দুজনের বন্ধুত্বও গাঢ় হয়েছে। সে বন্ধুটি, সে মানুষটি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়ি। আমি নিজেও একই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম, সবার দোয়ায় ফিরেও এসেছি। কিন্তু এন্ড্রু কিশোরের বিষয়টি ভিন্ন। তাঁর চিকিৎসার প্রাথমিক ধাপেই প্রয়োজন পড়ে দুই কোটি টাকার বেশি, যা নিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হয় কিশোরের পরিবারকে। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁর রাজশাহীর বাড়িটিও বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে সবার আগে সিঙ্গাপুর যাওয়ার প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এন্ড্রু কিশোরকে ১০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু মোটা অঙ্কের অর্থ হওয়ায় আমরা এ নিয়ে খুব চিন্তার মধ্যে ছিলাম। ঠিক এমন সময় কিশোরের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি সব সময় যেভাবে শিল্পীদের পাশে থাকছেন, সহযোগিতা করছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দিন এটা হয়নি। সংগীত, চলচ্চিত্র, নাটক—সব শাখার মানুষকেই তিনি এমন সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। সে জন্য তাঁর প্রতি আমার এবং আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। যিনি শিল্পীদের জন্য এতখানি করবেন, এমন প্রধানমন্ত্রী আমরা দ্বিতীয়বার পাব কি না সন্দেহ আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই একজন শিল্পীমনা মানুষ। আমি যতদূর জানি, তিনি নিজেই একসময় ছায়ানটে সেতার বাজানো শিখেছেন। তাঁর ভাই শেখ কামালও সেতার বাজাতেন। আমি নিজে তাঁদের বাসায় গিয়ে ছাদে বসে বসে বঙ্গবন্ধুকে ‘জন্ম আমার ধন্য হলো’ গানটি অনেকবার শুনিয়েছি। যখনই গিয়েছি তখনই বঙ্গবন্ধু আমার কাছে গানটি শুনতে চাইতেন। আমাকে মেয়ের মতোই স্নেহ করতেন। তাঁর ছেলে [শেখ কামাল] এবং ছেলের বউ [সুলতানা কামাল] আমার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে পড়ত। গেলেই বলতেন, ‘মা, আমাকে ওই গানটির [জন্ম আমার ধন্য হলো] দুটি লাইন শোনা।’ কামাল নিজেও গান করত। ক্লাসেও আমাদের গান শোনাত। বলা যায় প্রধানমন্ত্রীর পুরো পরিবারই সংগীতপ্রিয়। আর তাই তো আমরা যখন এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার অর্থ নিয়ে চিন্তিত, তখন তিনি পাশে এসে দাঁড়লেন। এ খবরটি আমার ভেতর কী যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তা প্রকাশ না করে পারছি না। আমার মনে হয়েছে, এই সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনি যেভাবে সব সময় আমাদের পাশে আছেন, আমরাও ঠিক তেমনি আপনার পাশে আছি। আপনার পরিবারের সঙ্গে আমি সব সময়ই ছিলাম। আপনি যে আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন, সেটাও সবাই জানেন।

আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন থেকেই হাসিনা আপার সঙ্গে জানা-শোনা ও  হৃদ্যতা। নিমতলীতে আগুন লাগা থেকে শুরু করে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া পর্যন্ত চারদিকে কার কোথায় কী হচ্ছে সব খবরই উনি রাখেন। পুরো দেশ-জাতি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ, আমি তো অবশ্যই। সেই কৃতজ্ঞতার কথাই এখানে প্রকাশ করতে চেয়েছি।

অনুলিখন : রবিউল ইসলাম জীবন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা