kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

৬১তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস

ক্যাসি আর গ্যামবিনোর রাত

১০ ফেব্রুয়ারি [বাংলাদেশ সময় ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল] লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেপলস সেন্টারে বসেছিল ৬১তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আসর। সংগীত দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এই পুরস্কার অনুষ্ঠানের নানা দিক নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক ও মারজান ইমু

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ক্যাসি আর গ্যামবিনোর রাত

পারফরম করছেন মাইলি সাইরাস আর শন মেন্ডেস

তাদের চার

পুরস্কার ঘোষণার আগে তত আলোচিত ছিলেন না। অথচ সেই ক্যাসি মাসগ্র্যাভস ও চাইল্ডিস গ্যামবিনো জিতলেন সর্বোচ্চ চারটি পুরস্কার। ক্যাসি গেল বছর তাঁর ‘গোল্ডেন আওয়ার’ অ্যালবাম দিয়ে ছিলেন তুমুল আলোচিত। অ্যালবামটির জন্য অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, বেস্ট কান্ট্রি অ্যালবামের পুরস্কার জিতেছেন। অ্যালবামের দুই সিঙ্গেল ‘বাটারফ্লাই’ ও ‘স্পেসি কাউবয়’-এর জন্য জিতেছেন আরো দুটি।

চাইল্ডিস গ্যামবিনো, যিনি ডোনাল্ড গ্লোভার নামেও পরিচিত তিনি গ্র্যামির আসরে ছিলেন না। শোনা যাচ্ছে, অনুষ্ঠানে পারফরম করার আমন্ত্রণপত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। ‘দিস ইজ আমেরিকা’র জন্য রেকর্ডিং অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার, বেস্ট র‌্যাপ/সাং পারফরম্যান্স ও বেস্ট মিউজিক ভিডিও—গ্র্যামির গুরুত্বপূর্ণ চার পুরস্কারই গেছে তাঁর ঘরে। তাঁর বর্ণবাদবিরোধী গানটি গেল বছর বিলবোর্ডেও শীর্ষে ছিল।

 

ফ্লপ অ্যালিসিয়া!

এবারের আসরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ চারটি পুরস্কার পেয়েছেন ক্যাসি মাসগ্র্যাভস। অথচ তাঁরই নাম কি না ভুল বললেন উপস্থাপক! শুধু এটাই নয়, গ্র্যামিজুড়েই দৃষ্টিকটু অনেক ভুল করেন অ্যালিসিয়া কিজ; যদিও ১৪ বছর পর গ্র্যামিতে কোনো নারী উপস্থাপক পেয়ে সমালোচকরা খুশি হয়েছিলেন। অ্যালিসিয়া নিজেও ১৪টি গ্র্যামি জয়ী। অথচ ক্যাসির জায়গায় গায়িকাকে কেসি বলে সম্বোধন করেন।

 

বঙ্গটান বয়েজের ইতিহাস

গেল বছর কোরিয়ান ব্যান্ড বঙ্গটান বয়েজ বা ‘বিটিএস’ একটার পর একটা রেকর্ড গড়েছে। তাদের সিঙ্গেল ‘আইডল’ গড়েছিল সর্বোচ্চ ভিউয়ারশিপের রেকর্ড। গ্র্যামিতেও ইতিহাস গড়ল তারা। প্রথম কোরীয় ব্যান্ড হিসেবে প্রেজেন্টারের দায়িত্ব পালন করেছে তারা। আর অ্যান্ড বি ক্যাটগরির পুরস্কার ঘোষণা করে ‘বিটিএস’।

 

হঠা মিশেল

না, তিনি পুরস্কারে মনোনীত ছিলেন না। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে থাকবেন, এটাও জানা ছিল না। তাই গ্র্যামির মঞ্চে সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে দেখে চমকে যাওয়া স্বাভাবিক। গ্র্যামিতে মিশেল ওবামা এসেছিলেন মূলত নিজের গল্প বলতে। সংগীত কিভাবে তাঁকে জীবন চলায় এগিয়ে দিয়েছে সেটা জানাতে। “বিয়ন্সের ‘হু রান দ্য ওয়ার্ল্ড’ আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছিল। এটা ছাড়াও সংগীত সব সময়ই আমাকে নিজেকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। সংগীতের মাধ্যমেই দুঃখ, আশা, আনন্দের কথা বলতে পারি আমরা, একে অন্যের মনোভাব বুঝতে পারি,” বলেন মিশেল। গ্র্যামি থেকে ফিরে টুইট করেন মিশেল, ‘অ্যালিসিয়ার ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছিলাম। দারুণ সময় কাটল।’

 

কোথায় কেনড্রিক?

সর্বোচ্চ আটটি মনোনয়ন পেলেও মাত্র একটি পুরস্কার পেয়েছেন কেনড্রিক লামার। একই অবস্থা ড্রেকেরও। সাত মনোনয়ন পেলেও তিনিও জিতেছেন একটি। লামার না এলেও পুরস্কার নিতে এসেছিলেন ড্রেক। তবে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই তিনি গ্র্যামিকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন। শোনা কথা, লামার ও তিনি নাকি পারফরম করার আমন্ত্রণ পেলেও গ্রহণ করেননি। পুরস্কার নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ যারা ঝড়, জল, তুষারপাত সহ্য করে নিজের কষ্টের আয় দিয়ে গান শুনতে আসে তাদের কাছে এইসব [গ্র্যামি] কিছুই না।’ এরপর ড্রেকের মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

কার্ডি বির চোখে জল

২৬ বছর বয়সী র‌্যাপার কার্ডি বি তৈরি করলেন নতুন ইতিহাস। তিনিই প্রথম নারী, যিনি র‌্যাপ অ্যালবাম দিয়ে গ্র্যামি জিতলেন। এমন রেকর্ড করে স্বভাবতই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পুরস্কার নিতে এসে অঝোরে কাঁদছিলেন। পরে সামলে নিয়ে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান তাঁকে সম্মানিত করার জন্য। গেল বছর এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া তাঁর অভিষেক অ্যালবাম ‘ইনভেশন অব প্রাইভেসি’র জন্য পুরস্কার পেয়েছেন কার্ডি।

 

যত পারফরম্যান্স

কেটি পেরি, কার্ডি বি, অ্যালিসিয়া কিজসহ নামি প্রায় সব শিল্পীর পারফরম্যান্স ছিল। তবে গ্র্যামিতে সবচেয়ে নজরকাড়া পারফরম করেন শন মেন্ডেস আর মাইলি সাইরাস। বিভিন্ন অনলাইনের জরিপে এগিয়ে আসে তাঁদের ‘ইন মাই ব্লাড’ পারফরম্যান্স। লেডি গাগা ও অন্যদের ‘শ্যালো’ও বেশ আলোচিত হয়েছে। তবে প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী আরেথা ফ্রাংকলিনকে উৎসর্গ করে ফানটাসিয়া, অদ্রা ডে ও ইয়োলানডা অ্যাডামসের পারফরম্যান্স অন্য রকম আবহ তৈরি করেছিল।

 

আইডলের সঙ্গে

প্রথমবারের মতো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে নিজের সংগীতজীবনের আইডল এ আর রহমানের সাক্ষাৎ পেয়ে যান বাংলাদেশের গায়ক-সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ। মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর সঙ্গে একটি সেলফিও তোলেন। সেটি নিজের ফেসবুক ও ফ্যানপেজে শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড দেখতে আসা সার্থক!’ এ আর রহমানের দেখা পেয়ে বাংলাদেশের গায়ক তাহসানও তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলেছেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান দেখতে গেছেন তাহসান। দুজনই আমন্ত্রণ পেয়েছেন কাইনেটিক মিউজিকের পক্ষ থেকে।

 

একনজরে

স্থান

 স্টেপলস সেন্টার, লস অ্যাঞ্জেলেস

অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার  গোল্ডেন আওয়ার, ক্যাসি মাসগ্র্যাভস

রেকর্ড অব দ্য ইয়ার

দিস ইজ আমেরিকা, চাইল্ডিস গ্যামবিনো

সং অব দ্য ইয়ার

দিস ইজ আমেরিকা

সেরা একক পপ পারফরম্যান্স

জোয়ান, লেডি গাগা

সেরা পপ অ্যালবাম সুইটনার, আরিয়ানা গ্রান্দে

সেরা মিউজিক ভিডিও

 দিস ইজ আমেরিকা, চাইল্ডিস গ্যামবিনো

সেরা নবাগত শিল্পী

ডুয়া লিপা

উপস্থাপনা

অ্যালিসিয়া কিজ

সবচেয়ে বেশি পুরস্কার ক্যাসি মাসগ্র্যাভস ও চাইল্ডিস গ্যামবিনো [৪টি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা