kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

সেলুলয়েডে রাজনীতি

সিক্কিম

জোহরা ঝুমু   

৬ জানুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিক্কিম

ভারত, চীন, ভুটান ও নেপালের হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশের ছোট অঞ্চল নিয়ে সিক্কিম রাজ্য। ক্ষমতাধর প্রতিবেশীর সঙ্গে টেক্কা দিয়ে নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষা করা সিক্কিমের জন্য বরাবরই কষ্টকর ছিল। প্রতিবেশীদের অবাধ অবস্থান সিক্কিমের নৈমিত্তিক ঘটনা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদের নিজস্ব ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতি থেকে শুরু করে রাজনীতি সব কিছুতেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সিক্কিমের ওপর প্রতিবেশীদের আধিপত্য স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশীদের প্রভাব-প্রতিপত্তিকে সরিয়ে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব নিয়ে স্বাধীন সিক্কিমের স্বপ্নে এ অঞ্চলের নিয়ে মনোমুঙ্কর তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন বাংলা সাহিত্যের অসামান্য সাহিত্যিক ও পরিচালক সত্যজিৎ রায়। ১৯৭১ সালে নির্মিত এ তথ্যচিত্রের নামকরণ করা হয় অঞ্চলের নামেই অর্থাৎ সিক্কিম। নিছক বিনোদনের বাইরে এসে সিক্কিমের স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের লক্ষ্যে নির্মিত এ তথ্যচিত্রটি ১৯৭৫ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। সিক্কিম ও ভারত-দুই দেশের সরকারই যৌথভাবে নিষিদ্ধ করে এ তথ্যচিত্রটি। নিষিদ্ধের মূলে ভয় ছিল দুই দেশেরই। পঁচাত্তর সালে সিক্কিম ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়। কিন্তু এ তথ্যচিত্রের কারণে আবার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের বিদ্রোহ যাতে তীব্র আকার না নিতে পারে তাই দুই দেশই বন্ধ করে দেয় সিক্কিমের প্রচার। এমনকি হাতের কাছে পাওয়া এ তথ্যচিত্রের সব প্রতিলিপিও নষ্ট করে ফেলা হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আবার ২০০০ সালে সিক্কিমকে নতুন করে মুক্তি দেওয়া হয়। ৬০ মিনিটের এ তথ্যচিত্রটি গোটা বিশ্বকে বুঝিয়ে দেয় জুতসই সেলুলয়েড মাধ্যম খুব সহজে রাজনীতির অন্ধকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্ষম।

 



সাতদিনের সেরা