kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

১৩ হাজার কোটি টাকা আমানত বেড়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের

২০০ কোটি টাকা কমেছে খেলাপি ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৩ হাজার কোটি টাকা আমানত বেড়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের

গ্রামীণ ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১২ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। মুহাম্মদ ইউনূসের সময়কালে ২০১০ সালের জুলাই মাসে ৯ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা থেকে আমানতের পরিমাণ বেড়ে চলতি বছরের জুলাই মাসে ২৩ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। চলতি জুলাই মাসে এক কোটি সদস্যের মাইলফলক অতিক্রম করেছে গ্রামীণ ব্যাংক। ২০১০-১১ সালের তুলনায় বর্তমানে ১৭ লাখ ঋণ গ্রহীতা সদস্য বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছর খেলাপি ঋণও কমেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ঘেঁটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু হয়। ইউনূস অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির পর থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে আট বছরে নতুন নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ হিসেবে এক লাখ ৫২ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা বিতরণ করে।

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রহিম খান বলেন, ‘একসময় গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। এখন সেই গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতা কাটিয়ে উঠে ব্যাংকে লাখ লাখ টাকা আমানত রাখছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো সময় যাচ্ছে। পদোন্নতি নীতিমালা করে একসঙ্গে দুই হাজার ৬০০ কর্মীর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা নতুন উদ্দীপনায় কাজ করছেন। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটি এগিয়ে যাচ্ছে। ’

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন করা। দারিদ্র্য বিমোচন করা। এই দারিদ্র্য বিমোচন করার জন্যই আমরা আমাদের ক্রমাগত কর্মপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সদস্যভুক্ত করার পর তার যোগ্যতা অনুযায়ী সে যেই কাজে পারদর্শী সেই কাজের বিচারে আমরা ঋণ দেই। এভাবেই আমাদের ঋণের পরিধি বাড়ছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০ সালের ডিসেম্বর  মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭০৪.২৪  কোটি টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খেলাপি ঋণ ২৯৮৫.১২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ডিসেম্বর ২০২১ সালে খেলাপি ঋণের ব্যালেন্স হয় ৩০৩৫.০৬ কোটি টাকা। তবে চলতি আগস্ট ২০২২ মাসে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮৩৫.০৬ কোটি টাকা।  

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ ব্যাংকের মোট জোনের সংখ্যা ৪০টি। গত মার্চ মাস থেকে ৪০টি জোনই লাভে আছে। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের মোট শাখার সংখ্যা দুই হাজার ৫৬৮টি। জুলাই মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক শাখা (৯৩%) লাভে আছে। ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ঋণ নিয়ে বানানো বাড়ির সংখ্যা ছিল ছয় লাখ ৯১ হাজার। ২০২০ সালের জুনে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে সাত লাখ ৬২ হাজার। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের বাইরে গরিব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অনেক ধরনের চাহিদা পূরণেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।



সাতদিনের সেরা