kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বৈশ্বিক পর্যটনে তিন চ্যালেঞ্জ

করোনার বিধি-নিষেধ তুলে নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈশ্বিক পর্যটনে তিন চ্যালেঞ্জ

ভিয়েতনামে পাহাড়ঘেরা কাচের ঝুলন্ত ব্রিজে প্রকৃতি উপভোগ করছেন পর্যটকরা

করোনা মহামারি কেটে গেলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। এতে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এর পরও ভাটা পড়েনি মানুষের ভ্রমণ আগ্রহে। করোনা-পরবর্তী সময়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বৈশ্বিক পর্যটনশিল্প।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা ইউএনডাব্লিউটিও সর্বশেষ ট্যুরিজম ব্যারোমিটারে জানায়, ২০২২ সালের প্রথম পাঁচ মাসে আন্তর্জাতিক পর্যটক গমনে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। এই সময়ে ২৫ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক গমনের রেকর্ড করা হয়েছে। যেখানে আগের বছর একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে সাত কোটি ৭০ লাখ পর্যটক গমন হয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধি এসেছে ৪৬ শতাংশ। ফলে করোনা-পূর্ববর্তী ২০১৯ সালের হিসাবে পুনরুদ্ধার ঘটেছে প্রায় অর্ধেক।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা কেটে গেলেও বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বৈশ্বিক পর্যটন শিল্প। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পর্যটক গমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট তো রয়েছেই। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকেই জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে পর্যটন গন্তব্যগুলোতে।

ইউএনডাব্লিউটিও মহাসচিব জুরাব পলোলিকাশভিলি বলেন, সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের বেশ কিছু অঞ্চলে পর্যটন খাতে পুনরুদ্ধার গতি পেয়েছে। তবে তিনি সাবধান করে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বছরের বাকি দিনগুলোতে এ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

২০২১ সালের তুলনায় ইউরোপে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পর্যটক আগমন বেড়েছে ৩৫০ শতাংশ। এ অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ করোনাসংক্রান্ত সব ধরনের ভ্রমণ বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যেও পর্যটক গমনে প্রবৃদ্ধি এসেছে ১৫৭ শতাংশের বেশি।

আফ্রিকায় ১৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। এ ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে পর্যটক আগমনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯৪ শতাংশের বেশি। যদিও তা ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় এখনো ৯০ শতাংশ কম। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের প্রথম ভাগে বিশ্বে পর্যটন গমন কমেছিল ৬৫ শতাংশের বেশি। এ সময় বিপুলসংখ্যক কর্মী চাকরি হারায়।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনে দিন দিন বদলে যাচ্ছে পর্যটক আকৃষ্ট করার মতো গন্তব্যগুলো। ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তীব্র দাবদাহ, ধ্বংসাত্মক ঝড়, গলতে থাকা বরফ, শীর্ণকায় হয়ে আসা সৈকত—এমন নানা সমস্যায় বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়েছে বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

স্পেনের সমুদ্রসৈকত এস ট্র্যাংক বিচ মায়োর্কা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ক্রমে গ্রাস করছে এই সৈকতকে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, আগের চেয়ে সৈকতটি অন্তত ৪০ মিটার ছোট হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় একদিন মায়োর্কার মতো আকর্ষণীয় পর্যটন সৈকতগুলো সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে যাবে।

এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব টের পেতে শুরু করেছে; যেমন—ক্যারিবীয় দ্বীপ বাহামা। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ডরিয়ানের আঘাতে দ্বীপটি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ধস নামে।



সাতদিনের সেরা