kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

করোনায় আয় কমেছে ৮৪ শতাংশ ঋণগ্রহীতার

ইনাফি বাংলাদেশের প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনায় আয় কমেছে ৮৪ শতাংশ ঋণগ্রহীতার

করোনার কারণে মাইক্রো ফিন্যান্সের ঋণগ্রহীতার এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা ও মাইক্রো ইকোনমিকস ঋণগ্রহীতার তিন লাখ ৮৮ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক এনজিওদের নেটওয়ার্ক ইনাফি বাংলাদেশের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল শনিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের গ্রাহকদের ওপর করোনার প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইনাফি বাংলাদেশের প্রগ্রাম ম্যানেজার তাসনুভা ফারহিম। তিনি বলেন, ৯টি জেলার ৪৪২ জন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতা ও ২২টি ক্ষুদ্রঋণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২১ সালে ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ৪৪২ জন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার মধ্যে ১৪০ জন মাইক্রো ফিন্যান্স এবং ১৪৬ জন মাইক্রো ইকোনমিকসের গ্রাহক। আর ১৫৬ জন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাকে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ পুরুষ ও ৮২.৫ শতাংশ নারী।

৮৩.৯০ শতাংশ ঋণগ্রহীতা জানিয়েছেন, করোনায় তাঁদের আয় কমেছে, ২৮ শতাংশ চাকরি হারিয়েছেন, ২১ শতাংশ কিস্তির টাকা দিতে পারেননি। এ ছাড়া সাড়ে ৫ শতাংশ জানিয়েছেন চাহিদামাফিক ঋণ তাঁরা পাননি। ঋণগ্রহীতাদের ৫০ শতাংশ জানিয়েছেন, করোনায় তাঁরা সঞ্চয় ভেঙে জীবন ধারণ করেছেন। ৫৩.২৩ শতাংশ ঋণ নিয়ে, ৪৭.৫৮ শতাংশ খরচ কমিয়ে এবং ২১.৭৭ শতাংশ সম্পদ বন্ধক রেখে করোনার সময় পার করেছেন। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, করোনাকালে ডিজিটাল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (ডিফিএস) ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধের ব্যবহার বেড়েছে। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ২.৫ শতাংশ করোনার আগে ডিফিএস ব্যবহার করলেও ২০২০ সালের পর তা ১৩.৩ শতাংশ হয়েছে।

অন্যদিকে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১.৪ শতাংশ জানিয়েছে, নানা সমস্যার কারণে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে যেতে পারেনি, একই সংখ্যক জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান চালাতে তাদের নানাবিধ সমস্যা হয়েছে। ২৩.৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এনজিও প্রতিষ্ঠান অন্তরের ফাউন্ডার মো. ইমরানুল হক চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইক্রো ফিন্যান্স রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফসিউল্লাহ। এতে বক্তব্য দেন ইনাফির চেয়ারপারসন এস এন কৈরি, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাহবুবা হক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সাকিব মাহমুদ।



সাতদিনের সেরা