kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ

তেল-গ্যাসের উচ্চমূল্য

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত বেড়ে চলেছে জ্বালানির দাম। জ্বালানি তেল ও গ্যাসে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া। ফলে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির জ্বালানি বিশ্ববাজারে আসা অনিশ্চয়তায় দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের তাগিদ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

বিজ্ঞাপন

সংস্থার মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে পরিবেশ ও অর্থনীতিতে এর দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব পড়বে। কার্বন গ্যাস নির্গমন কমানো সহজ হবে, গ্যাসের অতিরিক্ত দাম কমবে এবং সরবরাহ উদ্বেগ কমে আসবে, এমনকি এতে বায়ুর মান বাড়বে এবং কয়লা থেকে সরে আসা সহজ হবে।

সম্প্রতি ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলতি বছর জ্বালানিসংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের তেলসংকট দেখা দেয়। যদিও এমন দুর্যোগে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি আসে। তবে দুর্ভোগ থাকবেই। কারণ এ সময় জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যায়, কমে যায় বেশির ভাগ দেশের প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দেখা যায় বিশৃঙ্খলা। এমন সংকট সামাল দিতে সরকারগুলো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার ঝুঁকতে পারে জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে, যা জলবায়ুর স্থিতিশীলতা কঠিন করে তুলতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতি এড়াতে অবশ্যই ঝুঁকি নিতে হবে, এমন জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে, যা জলবায়ু নিরাপত্তায় ভূমিকা পালন করতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানিসংকটে দেশে দেশে রাজনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সম্ভবত ধনী বিশ্বের ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে হয়েছে। পরিবারগুলো জ্বালানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। তাই ঝুঁকি সত্ত্বেও জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।

এ অবস্থায় বৈশ্বিক সংস্থাগুলো সরকারগুলোকে মৌলিক সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের মতে, পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারগুলোকে গ্রিডের সক্ষমতা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় উন্নতি করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে।

জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা বিষয়ক আইইএর পরিচালক কিসুকে সাদামোরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বলানিসংকটের এ সময়ে জ্বালানি ব্যবহারে যেমন সাশ্রয় হতে হবে, তেমনি নির্মল জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কারণ এতে দীর্ঘ মেয়াদে সংকটের সমাধান হবে এবং বৈশ্বিক জলবায়ুতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ’

সূত্র : ইকোনমিস্ট, এএফপি



সাতদিনের সেরা