kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

অনুকূল আবহাওয়ায় খুশি কৃষকরা

এবার রেকর্ড লবণ উৎপাদন

♦ কক্সবাজার
♦ কক্সবাজারে উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার টন লবণ
♦ মাঠে মজুদ আছে প্রায় ৫ লাখ টন

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবহাওয়াসহ সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় এবার কক্সবাজারে সন্তোষজনক লবণ উৎপাদিত হয়েছে। টানা বর্ষণের সঙ্গে সঙ্গেই লবণের এবারের মৌসুম শেষ হয়েছে। এবার ১৮ লাখ ৩২ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে, যা গত ৬১ বছরের মধ্যে রেকর্ড বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)। মাঠে এখনো চাষিদের প্রচুর লবণ মজুদ রয়েছে, যা বিসিকের উৎপাদনের হিসাবে নেই।

বিজ্ঞাপন

সেই হিসাবে উৎপাদনের মোট পরিমাণ আরো অনেক বেশি। তবে সরকার নির্ধারিত উৎপাদনের চেয়ে পাঁচ লাখ টন লবণ কম উৎপাদিত হয়েছে। এর পরও ঘাটতির আশঙ্কা করছেন না বিসিক ও লবণ ব্যবসায়ীরা।

বিসিকের কক্সবাজারের লবণ প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জাফর ইকবাল ভুঁইয়া বলেন, সরকার চলতি মৌসুমে লবণের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ২৩.৩৫ লাখ টন। চাহিদাও রয়েছে এর প্রায় কাছাকাছি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন পাঁচ লাখ টন কম হলেও লবণের সংকট সৃষ্টির তেমন আশঙ্কা নেই।

চাষিরা বলেছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা না হলে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরো বেড়ে যাবে। লবণ চাষি ও বিসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার চার কারণে মাঠে বেশি লবণ উৎপাদিত হয়েছে। এবারের পুরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। শীতে অতিরিক্ত কুয়াশা যেমন পড়েনি, তেমনি আবার আগাম ঘন ঘন বৃষ্টিপাতও হয়নি। বিদেশ থেকে ঢালাও আমদানি বন্ধ থাকায় মাঠ পর্যায়ে লবণের দামও ছিল ভালো। এ কারণে চাষিরা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে ছিলেন। এবার লবণ চাষের জমির পরিমাণও আট হাজার একর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার একরে।

টেকনাফের সাবরাং এলাকার লবণ চাষি মোহাম্মদ শফিক মিয়া বলেন, ‘এবার আমাদের বেশ ভাগ্যের মৌসুম গেছে। উৎপাদন যেমন হয়েছে, তেমনি দামও পাচ্ছি। বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না করায় আমরা বেজায় খুশি। আমাদের দাবি, আগামী মৌসুমের আগ পর্যন্ত যেন লবণ আমদানি করা না হয়। ’

কুতুবদিয়া দ্বীপের চাষি আবদুল্লাহ আল মামুন সোহেল জানান, কুতুবদিয়া দ্বীপের চাষিরা এবার একরে ৭০০ থেকে ৮০০ মণ করে লবণ পেয়েছেন। গেল মৌসুমে পেয়েছিলেন ৫০০ থেকে ৬০০ মণ করে। কক্সবাজারের লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামশুল আলম আজাদ বলেন, ‘আমরা প্রতি মণ লবণ এখন চাষিদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছি ৩৭৫ টাকা করে। অবশ্য মাঠ পর্যায়ে তা ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ’

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) বলছে, লবণ চাষের জমি ও চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এবার ৬৩ হাজার ২৯১ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। এই পরিমাণ জমিতে চাষির সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ২৩১। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১৮.২৪ লাখ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছিল।

সৌরতাপে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানিতে ১৯৬০ সাল থেকে কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন শুরু হয়। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় লবণ চাষ হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা