kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

কালীগঞ্জের বসন্তপুর নৌবন্দর

বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ফের চালুর দাবি

এস এম আহম্মাদ উল্লাহ বাচ্চু, কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা)   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ফের চালুর দাবি

কাস্টমসের ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া পুরনো স্থাপনা

কালীগঞ্জের বসন্তপুর বন্দরটি সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ জনপদের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নৌবন্দরটি কালীগঞ্জের ইছামতী, কালিন্দী ও (এককালের যমুনা) বর্তমানে কাঁকশিয়ালী নদীর ত্রিমোহনায় অবস্থিত। নদীর এপারে বাংলাদেশের মথুরেশপুর ও ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন। ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিঙ্গলগঞ্জ থানা।

বিজ্ঞাপন

বসন্তপুর গ্রামটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এলাকাটি প্রাচীনকাল থেকে সব দিক দিয়ে সমৃদ্ধ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা প্রতাপাদিত্যের চাচাতো ভাই রাজা বসন্ত রায়ের নামানুসারে বসন্তপুর গ্রামের নামকরণ করা হয়। আঞ্চলিক গুরুত্ব বিবেচনায় পাকিস্তান সৃষ্টির শুরুর দিকে স্থানীয় জনগণের চাহিদা অনুসারে বন্দরটি তৎকালীন সরকার নির্মাণ করে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় পর্যন্ত বন্দরটির সব কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। তখন এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হতো বিভিন্ন প্রকার পোশাক, পিতল-কাসা, হাঁড়ি-পাতিল, ফলফলাদি, মুদিসামগ্রী, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা ইত্যাদি। কাস্টম ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কার্যক্রমও ছিল রমরমা। কিন্তু পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্দরের সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ পর্যন্ত দুই দেশের মানুষ এই নদীপথ দিয়ে চলাচল করত। স্বাধীনতার পর আর বন্দরটি চলেনি। স্থানীয়দের দাবি, ফের নৌবন্দরটি চালু করার। এটি চালু হলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের প্রসার ঘটবে। চোরাচালান ও পাচার রোধ হবে এবং অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে বলে তাঁদের দাবি।

স্থানীয়রা জানান, বসন্তপুর নৌবন্দর যদি পুনরায় চালু হয় তাহলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। ইছামতী ও কালিন্দী নদী হয়ে সুদূর বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন মান্দারবাড়িয়া সি-বিচ, হেরোইন পয়েন্ট ও দুবলারচর দিয়ে ডায়মন্ডহারবার, পূর্ব-মেদেনীপুরের বন্দর এবং দীঘা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে। অন্যদিকে ভারতের অংশে টাকী, হাসনাবাদ, বসিরহাট হয়ে কলকাতা পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও সুলভ হবে। এ ছাড়া কাঁকশিয়ালী নদীকে ড্রেজিং করে প্রবহমান খোলপেটুয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করলে নৌপথে খুলনা অঞ্চলসহ রাজধানী পর্যন্ত অবাধ নৌবাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত হবে।

নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি শেখ ফিরোজ কবির কাজল বলেন, ‘বসন্তপুরে পুনরায় বন্দরটি চালু হলে ব্যবসায়ীসহ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ’

বসন্তপুর থেকে ভোমরা স্থলবন্দরটি ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। বসন্তপুর নৌবন্দরটি পুনরায় চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বর্ণদ্বার উন্মোচিত হবে এবং সেই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে। এরই মধ্যে বসন্তপুর পোর্ট এলাকায় প্রশাসনের সহযোগিতায় রিভারড্রাইভ ইকোপার্ক নামের একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। যেখানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ দর্শকের সমাগম ঘটে। কালীগঞ্জ, শ্যামনগর, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার লোক চিকিৎসা, ভ্রমণ, বাণিজ্য, ইত্যাদি কারণে ভারতে যাতায়াত করেন। নৌবন্দরটি পুনরায় চালু হলে দূরবর্তী ভোমরা স্থলবন্দরে না গিয়ে সহজে সাশ্রয়ীভাবে বসন্তপুর নৌবন্দর ব্যবহার করতে পারবে।

এদিকে জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি জি এম নূর ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বসন্তপুরে পুনরায় নৌবন্দর স্থাপনের দাবি তুলছেন। সাতক্ষীরার ২৫ লাখ মানুষের প্রাণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নৌ মন্ত্রণালয়কে আধুনিক নৌবন্দর স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্ব্বয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক বিআইডাব্লিউটিএর ঢাকার অতিরিক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সমীক্ষা টিম গত ১৮ জুন সরেজমিনে কালীগঞ্জের বসন্তপুরে পরিদর্শনে আসে। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিদর্শকদল কথা বলে।

বসন্তপুর নৌবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান বলেন, এককালে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল বসন্তপুর নৌবন্দর। এটি যদি পুনরায় চালু করা হয় তাহলে এ অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।



সাতদিনের সেরা