kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে পায়রা ও কুয়াকাটায়

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে পায়রা ও কুয়াকাটায়

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত সাজানো হয়েছে নতুন সাজে।

উদ্বোধন করা হয়েছে পদ্মা সেতু। এ উপলক্ষে কুয়াকাটা পৌর শহরের প্রবেশ সড়কের আধা কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় সমাজসেবকদের উদ্যোগে একাধিক তোরণ ও আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। প্রাণ ফিরে পেয়েছে দক্ষিণ উপকূলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার কুয়াকাটা ও দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা। এর ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক শহরের ব্যবসায়ীরা চাঙ্গা হবেন এবং দেশ রাজস্ব আয়ে সমৃদ্ধ হবে বলে বিশিষ্টজনরা মত দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কুয়াকাটার হোটেল মালিকরা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রুমভাড়া ৫০ শতাংশ হ্রাস করেছেন। মৎস্যবন্দর আলীপুর, মহিপুরের বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দুটি সাজিয়েছে। সময় গুনছে তারা ৫৬ দিনের। কারণ ৫৬ দিনের অবরোধ শেষ হলেই দুটি মৎস্যবন্দর থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন মোকামে সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি করতে পারবে। আর দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রার প্রথম জেটির কাজও এগিয়ে চলছে দ্রুত। কারণ ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জেটির মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ২০২২ সালেই শুরু করতে চায়। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা তাঁদের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটাতে জমি ক্রয়সহ নানা পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন।

কুয়াকাটার হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. ওহিদুজ্জামান সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কারণে কুয়াকাটা হবে পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্পট। যোগাযোগব্যবস্থার দিক দিয়ে কক্সবাজার থেকে খুবই কাছে কুয়াকাটা। আর এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনন্য। ’

কুয়াকাটার জল তরণি ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান জানান, কুয়াকাটাকে নতুন দিগন্তে উন্মোচিত করে দেবে পদ্মা সেতু। ইকো-ট্যুরিজমের প্রসার ঘটবে। সারা বছর পর্যটকে মুখর থাকবে কুয়াকাটা।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, কুয়াকাটার আমূল পরিবর্তন হবে। ঢাকা-কুয়াকাটার দূরত্ব ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার স্থলে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় নামবে। এর ফলে কয়েক গুণ বেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুয়াকাটার পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার জানান, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা রাখবে এই পদ্মা সেতু। কুয়াকাটায় দ্বিগুণ নয়, শতগুণ বেড়ে যাবে পর্যটক।

কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম বেপারী বলেন, বাণিজ্যিকভাবে কলাপাড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য ছিল শত বছরের। কিন্তু উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে ধান-নদী-খাল—এই তিনের সমন্বয়ের বরিশালের শস্য উৎপাদনকারীরা তেমন দাম পেতেন না। এখন গভীর সমুদ্র থেকে আহরিত মৎস্যসম্পদসহ সব কিছু দ্রুত দেশের বিভিন্ন মোকামে পৌঁছে যাবে। এতে দামও পাওয়া যাবে যথাযথ। ফলে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

পায়রা সমুদ্রবন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, ‘পদ্মা সেতুর ফলে পায়রা সমুদ্রবন্দর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আর পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু হলে বহুগুণ বেড়ে যাবে রাজস্ব। দেশি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ইউরোপ, জাপান, কোরিয়া, ভারতসহ অন্যান্য দেশ এখানে ইনভেস্ট করবে এবং তারা ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করছে। আগামী বছরের মার্চ মাসে বন্দরের ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রথম জেটি নির্মাণকাজ শেষ হবে। এরপর পুরোদমে চলবে এই বন্দর থেকে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি। আমরা প্রত্যাশা করছি, পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর হবে দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার। ’

 



সাতদিনের সেরা