kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ইউরোপীয় কমিশন কাজ করছে

বিকল্প পথে বিশ্ববাজারে আসবে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য

তিন মাসের মধ্যে ইউক্রেনের দুই কোটি টন খাদ্যশস্য বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হবে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিকল্প পথে বিশ্ববাজারে আসবে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য

বিকল্প পথে ইউক্রেনের গমসহ খাদ্যশস্য বিশ্ববাজারে আনতে কাজ করছে ইউরোপীয় কমিশন। এ জন্য ব্যবহার করা হবে সড়ক, রেল ও নদীপথ। ইউক্রেনের বেশির ভাগ খাদ্যশস্য রপ্তানি হতো কৃষ্ণ সাগরকেন্দ্রিক বন্দরগুলো দিয়ে। কিন্তু সেগুলো রাশিয়া অবরুদ্ধ করে রাখায় দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটাই অচল হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাহী শাখাটি জানায়, ইউক্রেন থেকে বিকল্প রুট গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে করে সীমান্তে যে সব খাদ্যশস্য জমা হয়ে আছে সেগুলো যেমন রপ্তানি করা সম্ভব হবে, তেমনি মানবিক সহায়তাও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে দ্রুত পৌঁছানো যাবে।

ইইউর পরিবহনবিষয়ক কমিশনার অ্যাদিনা ভ্যালেন বলেন, ‘ইইউর অবকাঠামো ব্যবহার করে তিন মাসের মধ্যে ইউক্রেনের দুই কোটি টন খাদ্যশস্য বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হবে। সন্দেহ নেই, এটা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ জন্য আমাদের সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং লজিস্টিক চেইন শক্তিশালী করতে হবে। নতুন রুট কাজে লাগাতে হবে এবং যত দূর সম্ভব বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে। ’

যুদ্ধে রাশিয়া ইউক্রেনের ওডেসা, চর্নোমস্কসহ সমুদ্রবন্দরগুলো দখল করে নেওয়ায় দেশটির পক্ষে খাদ্যশস্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে গম, সূর্যমুখী তেলসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে বিশ্ববাজারে। ইউক্রেনকে বলা হয় ইউরোপের রুটির ঝুড়ি। যুদ্ধের আগে প্রতি মাসে দেশটির ৪৫ লাখ টন কৃষিপণ্য সমুদ্রবন্দর দিয়ে রপ্তানি হতো। বিশ্বের ১২ শতাংশ গম, ১৫ শতাংশ ভুট্টা এবং দেশটির সূর্যমুখী তেলের অর্ধেক বিশ্ববাজারে আসত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গমের শীর্ষ দুই রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন। ইউক্রেনের সব বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ, অন্যদিকে রাশিয়ার পণ্য নিচ্ছে না জাহাজ কম্পানিগুলো। ফলে বিশ্ববাজারে এই দুই দেশের গম না আসায় দাম বাড়ছে অস্থিরভাবে। তাই বিকল্প উৎস খোঁজার তাগিদ তাদের। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানায়, ইউক্রেনকে বলা হয় ইউরোপের রুটির ঝুড়ি। এমনকি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক দেশকেও তাদের গমের জন্য ইউক্রেনের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় খাদ্য নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রধান বলেন, ৮০০ কোটি ইউরোর গম ইউক্রেনে আটকে আছে, তারা রপ্তানি করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিশ্ববাজারে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য আনতে ইউরোপ রেল ও সড়কে সরবরাহ বাড়ানোর গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রেন এরই মধ্যে অন্যান্য ইইউ দেশ ঘুরে অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটি কৃষ্ণ সাগর দিয়ে যা রপ্তানি হতো তার সামান্য মাত্র।

কমিশন জানায়, নতুন সরবরাহ রুট হবে সড়ক ও নদীপথ ঘিরে। ইউক্রেনের দানুবে নদীবন্দর ব্যবহার করা হবে। এ জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও করছে কমিশন। সূত্র : এপি, এএফপি

 



সাতদিনের সেরা