kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

ভারতে ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন মুকেশ আম্বানি

সবুজ জ্বালানি ঘিরে মহাপরিকল্পনা

গুজরাটে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, সবুজ ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন, সরঞ্জাম কারখানা তৈরি ও বিদ্যমান প্রকল্পগুলোতে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবুজ জ্বালানি ঘিরে মহাপরিকল্পনা

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন এশিয়ার শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি। তাঁর প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সম্প্রতি ভারতের গুজরাট সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী তাঁর প্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৫.৯ ট্রিলিয়ন রুপি (৮০ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে কম্পানিটি এই ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যদি মুকেশ আম্বানির এই সবুজ বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনে শূন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে। এর আগে গত জুন মাসে মুকেশ আম্বানি জানিয়েছিলেন, তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছেন।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী পাঁচ ট্রিলিয়ন রুপি (৬৭.৪ বিলিয়ন ডলার) আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বিনিয়োগ করা হবে গুজরাটে। সেখানে ১০০ গিগাওয়াটের একটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং সবুজ হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন করা হবে। এ ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ ও উদ্ভাবনে। যাতে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ হাইড্রোজেন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়।

৬০০ বিলিয়ন রুপি (৮.১ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করা হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলতে। যেখানে সৌর প্যানেল, ইলেকট্রোলাইজার এবং ফুয়েল সেল ইত্যাদি তৈরি করা হবে। বাকি ২৫০ বিলিয়ন রুপি (৩.৩৭ বিলিয়ন ডলার) আগামী তিন থেকে চার বছরে বিনিয়োগ করা হবে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর আধুনিকায়নে।

বর্তমান বিশ্বের তৃতীয় কার্বন নির্গমনকারী দেশ ভারত। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশটি অচিরেই চীনকে অতিক্রম করে বিশ্বের সবচেয়ে জনসংখ্যাবহুল দেশে পরিণত হবে। তাই দূষণমুক্ত পরিবেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ শতাংশ আসে কয়লা থেকে। কিন্তু দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভারত বর্তমানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, ২০৩০ সাল নাগাদ তার চেয়েও বেশি উৎপাদন করবে সৌর এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে।

তাই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। বর্তমানে তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা বেড়ে হয়েছে ১৫০ গিগাওয়াট, যা ভারতের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার ৪০ শতাংশ। মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতা ৩৯২ গিগাওয়াট।

ভারতের কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারের জলবায়ুবিষয়ক নীতি বিশেষজ্ঞ অরুণাভ ঘোষ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম দেশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে ভারত। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি। বিদ্যুৎ খাতকে কার্বনমুক্ত করার পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে ভারতের। ’

সূত্র : ফোর্বস ম্যাগাজিন, এএফপি।



সাতদিনের সেরা