kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও নতুন প্রকল্প নিবন্ধন বাড়ছে

বিনিয়োগের খরা কাটছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনিয়োগের খরা কাটছে

মহামারি করোনার ধাক্কায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমলেও এখন বাড়তে শুরু করেছে। কয়েক মাস ধরে নতুন বিনিয়োগে প্রকল্প নিবন্ধন ও শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়ছে। বেসরকারি খাতের ঋণেও গতি ফিরেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় দেশি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশিরা এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পেও বিনিয়োগ করছেন। ফলে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনার আঘাত আসার পর টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি এবং কয়েক দফার লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নতুন বিনিয়োগ দূরে থাক, বিদ্যমান ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখাই অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে ওই সময় আমদানি-রপ্তানি, নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প নিবন্ধন ও বেসরকারি ঋণপ্রবাহ অস্বাভাবিক কমে গিয়েছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশ গতি এসেছে। আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প নিবন্ধন ও বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়ছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, নতুন প্রকল্প নিবন্ধন ও বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের বর্তমান চিত্র সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও বিডায় নতুন প্রকল্প নিবন্ধনের যেসব প্রস্তাব আসে, শেষ পর্যন্ত সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন না-ও হতে পারে। তাই বিডায় প্রকল্প নিবন্ধন বাড়লেও সেটা বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুব নির্ভরযোগ্য সূত্র নয়। কাঙ্ক্ষিত হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। ’ 

 

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রায় ২০ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে নিবন্ধিত মোট বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ১৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার। ফলে বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ছয় হাজার ৪৬২ কোটি টাকা বা ৪৬.৩৩ শতাংশ। এ সময়ে দেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা বা ৪৬.৩৬ শতাংশ। আর বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে ৫৯২ কোটি টাকা বা ৪৬.০৭ শতাংশ। এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ২৮ হাজার ৮৫০ জনের কর্মসংস্থান হবে। এ সময়ে রাসায়নিক, সেবা, প্রকৌশল, টেক্সটাইল ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে প্রায় ৫.৩৬ শতাংশ। এ সময়ে দেশে এফডিআই এসেছে ৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এফডিআই এসেছিল ৪২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলায়ও হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছ, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্যের এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ। একই সময়ে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫১ শতাংশ। এ সময়ে ১৮৩ কোটি ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২১.২১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি হয়েছে ১২৯ কোটি ডলারের, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫.৬৯ শতাংশ বেশি। এ সময়ে জ্বালানি তেল, শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, খাদ্যপণ্যের এলসি খোলা ও আমদানিও অস্বাভাবিক বেড়েছে।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতিতে বেসরকারি খাতের ঋণেও গতি ফিরেছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, গত অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৯.৪৪ শতাংশ বেশি। এটি গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের মাস সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.৭৭ শতাংশ। আর গত বছরের অক্টোবরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮.৬১ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা