kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

ভোগ্য পণ্য ও স্মার্টফোন ব্যবসায় নামছে প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোগ্য পণ্য ও স্মার্টফোন ব্যবসায় নামছে প্রাণ

দেশের স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তিতে শিল্পায়নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন বছরের শুরু থেকেই তেল-আটা, ময়দা, লবণ, স্মার্টফোন, হ্যান্ডফোন, ব্যাটারি, পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে নতুন করে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কম্পানিটি। এতে নতুন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে তারা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রাণ আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘নতুন বছরে নতুন শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং নতুন নতুন পণ্য বাজারে আনার কাজে হাত দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ। এতে প্রায় এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। যার ফলে ২০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনারা জানেন, আমরা প্রাণ ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়াসহ নানা দেশে পণ্য রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছি। আশা করি আমাদের এই নতুন খাতগুলোর পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারব। ’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এরই মধ্যে সয়াবিন বীজ প্রসেসিং ও তেল পরিশোধন, আটা, লবণ, ডাল, স্টার্চ, ফিডমিলসহ কয়েকটি পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে গাজীপুরের মুক্তারপুরে কালীগঞ্জ অ্যাগ্রো প্রসেসিং লিমিটেড (কেএপিএল) নামে নতুন একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির কাজ করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। ১৮০ বিঘা আয়তনের এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এখন স্থাপনা নির্মাণ ও মেশিন বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ থেকে এই কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসতে পারে।  

নরসিংদীতে অবস্থিত প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্মার্ট ও ফিচার ফোনের পাশাপাশি হেডফোন, ব্যাটারি, চার্জারসহ বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাকসেসরিজ উৎপাদন করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আগামী মার্চেই নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত প্রোটন ব্র্যান্ডের এসব ফোন ক্রেতাদের হাতে আসতে পারে। এ জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

দেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এবার গার্মেন্ট কারখানা করছে প্রাণ গ্রুপ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই কারখানার উদ্বোধন করা হতে পারে। এখানে বিভিন্ন ধরনের অন্তর্বাস ও পোলো শার্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার ৫০০ লোকের কর্মসংস্থান হবে। যেখানে গ্রামীণ নারীরা কাজের সুযোগ পাবেন।      

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এরই মধ্যে ৪০ বছর অতিক্রম করেছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গ্রুপের বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ের গল্প শোনান গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল। সেই সঙ্গে তুলে ধরেন আগামী দিনের ব্যবসার নানা পরিকল্পনা।

দেশের উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র জনগণের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি ও কৃষিকাজে সেচের পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে টিউবওয়েল ও কৃষি সহায়ক যন্ত্রপাতি তৈরির মাধ্যমে ১৯৮১ সালে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড (আরএফএল) নামে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের যাত্রা শুরু। পরে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে মনোনিবেশ করে এবং ১৯৯৩ সালে নরসিংদীতে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য একটি কারখানা স্থাপন করা হয়। এরপর প্রাণ-আরএফএল গ্রুপকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ড্রিংকস, সস, জেলি, চানাচুর, চিপস, মসলা, চকোলেট, বেকারি, ফ্রোজেন ফুডস, টয়লেট্রিজ, দুগ্ধজাত, হাউসওয়্যার, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

আগামী দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে কামরুজ্জামান কামাল জানান, দেশে ভোগ্য পণ্যের বিশাল বাজারের বড় অংশে রয়েছে ভোজ্য তেল, আটা, ময়দা, সুজি, ডাল, চিনি, লবণ। আপাতত চিনি ছাড়া সব ধরনের ভোগ্য পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে প্রাণ গ্রুপ। এ জন্য গাজীপুরের মুক্তারপুরে নতুন কারখানা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা