kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কর্মসংস্থানের বড় উৎস স্বরূপকাঠির ডকইয়ার্ড

কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে ১০ হাজার লোকের

হযরত আলী হিরু, স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর)   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর্মসংস্থানের বড় উৎস স্বরূপকাঠির ডকইয়ার্ড

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে ডকইয়ার্ডে নির্মাণ হচ্ছে জাহাজ

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) এলাকা জেলার প্রধানতম শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা। এই উপজেলার হাজার হাজার লোক জাহাজ নির্মাণ শিল্পে জড়িত। এককালে এ অঞ্চলে কাঠের তৈরি নৌকা ও ট্রলারের প্রচলন থাকলেও এখন স্টিলের তৈরি লঞ্চ, ট্রলার ও কার্গোর প্রচলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এসব নৌযান তৈরির লক্ষ্যে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর, সোহাগদল, সুটিয়াকাঠি, তারাবুনিয়া, নাওয়ারা, কালীবাড়ী, বরছাকাঠি, ডুবিরহাট ও বালিহারিতে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা এসব ডকইয়ার্ডে বিভিন্ন পেশায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত। তাঁদের দৈনিক মজুরি ২৮০ থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। শ্রমিক মো. নজরুল ইসলাম জানান, আগে কাজ করে সংসারের খরচ চালাতে খুব কষ্ট হতো। এখন ডকে কাজ করে ভালো মজুরি পাওয়ায় পরিবার নিয়ে বেশ সুখেই দিন কাটছে তাঁদের।

হাওলাদার ডকইয়ার্ডের কন্ট্রাক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, জাহাজ তৈরির জন্য যে প্লেট ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় ইদানীং জাহাজ নির্মাণ বা সংস্কারে মালিকদের আগ্রহ কমে গেছে। আগে প্রতি টন প্লেটের দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। এখন এর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়। শুধু ডকইয়ার্ডেই নয়, এই শিল্পকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, হার্ডওয়্যার, রং ও মেশিনারিজ দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানেও বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ছোট ছোট নৌযান তৈরি ও মেরামত করা হলেও বর্তমানে বড় বড় নৌযানও তৈরি হচ্ছে ডকইয়ার্ডগুলোতে। এমনকি বর্তমানে এখান থেকে তৈরি করা কার্গো ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্বরূপকাঠি ডকইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকার অন্যান্য শিল্পের মতো জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে এই শিল্পকে আরো প্রসারতা দিতে পারবেন।

অগ্রগতি ডকইয়ার্ড শিপ বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম হাসান জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও স্বরূপকাঠির নাওয়ারায় তাঁর দুটি ডকইয়ার্ড রয়েছে। ডক দুটিতে প্রায় ৩০০ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। চট্টগ্রামের এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্লেট, অ্যাঙ্গেল ও ঝালাই কাঠির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এগুলোর দাম বাড়ানোতে বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ ও সংস্কার কমে আছে। এ ছাড়া ডকে লোডশেডিংয়ের কারণে এবং বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি হওয়ায় আর্থিকভাবে তাঁরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ব্যবসায়ী নিজেদের উদ্যোগে এই ব্যবসা চালু করেছেন। সরকার এই সম্ভাবনাকে যাচাই করে কিভাবে আরো উন্নতি ঘটানো যায় সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে।’



সাতদিনের সেরা