kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পণ্যছাড়ে অনলাইন পদ্ধতিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যছাড়ে এবার অনলাইন ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি শিপিং লাইন এই পদ্ধতিতে কাজ করবে, সফলতা শেষে সব শিপিং লাইনের জন্য এই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হবে।

এত দিন বন্দর থেকে পণ্যছাড়ের ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতি, অর্থাৎ ডকুমেন্ট নিয়ে সরাসরি গিয়ে আবেদন এবং অনুমতি নিতে হতো। এই পদ্ধতি চালু হলে সেই পুরনো পদ্ধতির অবসান হবে।

বিজ্ঞাপন

ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে, কাগজপত্র জাল করে বন্দর থেকে পণ্য ছাড় নেওয়া বন্ধ হবে; একই সঙ্গে পণ্যছাড়ের অনুমতি পেতে সময়ও সাশ্রয় হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (সদস্য ও পরিকল্পনা) জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ছয়টি শিপিং কম্পানি দিয়ে আমরা এই কাজটি পরীক্ষামূলকভাবে করতে চাই। সেখানে ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারলে ডিজিটাল চট্টগ্রাম বন্দরে এটি আরেকটা বড় অগ্রগতি হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা অপরিহার্য। বন্দর ২৪/৭ খোলা থাকলেও স্টেকহোল্ডাররা সমানতালে খোলা থাকে না। এই পদ্ধতিতে দিনে-রাতে এমনকি বন্ধের দিনও কাজ করার সুযোগ আছে। ’

তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ফাইলে একটি কিউআর কোড থাকবে বন্দর গেটে কর্তব্যরত কর্মকর্তা সেই কোড স্ক্যান করেই নিশ্চিত হবেন চালানটি সঠিক কি না। এর ফলে জালিয়াতি যেমন বন্ধ হবে, তেমনি বিপুল সময় সাশ্রয় হবে। ভোগান্তি কমবে। ’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ছয়টি শিপিং লাইনকে এই পদ্ধতি চালুর জন্য নির্বাচিত করেছে। সেগুলো হচ্ছে এপিএল বাংলাদেশ লিমিটেড, মায়ের্কস লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স বিডি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স, ওশান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেডিটেরানিয়ান শিপিং কম্পানি।

 

জানতে চাইলে ওশান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘এই কাজটা করতে পারলে অনেক বড় অগ্রগতি হবে। ব্যবসা সহায়ক হবে এবং ঝামেলা-হয়রানিমুক্ত হবে। আমরা নিজেরাও চাই এই পদ্ধতিতে যেতে, চট্টগ্রাম বন্দরও চাইছে সেটা চালু করতে। আগামী শনিবার আমরা ছয় কম্পানি এ বিষয়ে বসে একটা ফাইন টিউনিং করব। নতুন সিস্টেমে কোথায় দুর্বলতা, ত্রুটি আছে। এরপর বন্দরের সঙ্গে বসে সেটি দুর করার চেষ্টা করব। ’

জানা গেছে, অনলাইনে এই পদ্ধতি চালু করতে এরই মধ্যে একটি পোর্টাল তৈরি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই পোর্টালে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, শিপিং এজেন্টকে লগইন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জাহাজ থেকে নামানো পণ্য বন্দর থেকে ছাড়ের আগে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রথমে ‘পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম’ পোর্টালে লগইন করে ইলেকট্রনিক ডেলিভারি অর্ডার (ইডিও) পেতে আবেদন করবে; একই সঙ্গে সেই আবেদনের তথ্য শিপিং লাইন ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারকে অবহিত করবে। এরপর জাহাজের মেইন লাইন অপারেটর বা শিপিং লাইন একই পোর্টালে লগইন করে চালানের বিপরীতে মাসুল আদায় করবে। এরপর এই আবেদন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারকে পাঠাবেন এবং নির্ধারিত সময় উল্লেখ করবে। পরবর্তী সময়ে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারও একইভাবে লগইন করে নিজেদের মাসুল আদায় করে, সেই ডেলিভারি অর্ডার পোর্টালে আপলোড করবে।

এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার সেই ইডিও দেখে যাচাই করবে এবং অনুমোদন দেবে। পুরো কাজটি করতে কত সময় লাগবে সেটি এখনো নিশ্চিত নন চট্টগ্রাম বন্দর, শিপিং লাইন বা বন্দর ব্যবহারকারীরা।



সাতদিনের সেরা