kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নতুন কালো সোনা পেল নাইজেরিয়া

টায়ার থেকে হচ্ছে টাইলস

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টায়ার থেকে হচ্ছে টাইলস

পরিত্যক্ত টায়ার থেকে তৈরি করা টাইলস

জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল নাইজেরিয়া এবার আরেক ধরনের কালো সোনা পেল। এই কালো সোনা হচ্ছে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার। যা এত দিন ছিল যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা জঞ্জাল, পরিবেশদূষণের কারণ, তা এখন রিসাইকলের মধ্য দিয়ে পরিণত হচ্ছে সম্পদে। দেশটির উদ্যোক্তা ইফেডোলাপো রানসিউ খুঁজে বের করলেন মূল্যবান এই কালো রত্ন।

বিজ্ঞাপন

তিনি গড়ে তুললেন নতুন শিল্প-কারখানা ‘ফ্রিটাউন ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রিসাইকল’। এই কারখানার মাধ্যমে পুরনো টায়ার গলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ডিজাইনের ইট, ফ্লোর টাইলস এবং অন্যান্য পণ্য, যা জনবহুল আফ্রিকায় বেশ চাহিদা তৈরি করেছে।

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম ইবাদান শহরে গড়ে ওঠা নিজের কারখানায় বসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন রানসিউ। তিনি বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিনের চিন্তা ছিল পরিত্যক্ত জিনিস থেকে নতুন কিছু করে দেখানো। বিশেষ করে টায়ার দেশের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে, যা পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ। তাই এই টায়ার থেকেই নতুন পণ্য তৈরি শুরু করলাম। আমরা টায়ার ঘিরে পুরোপুরি একটি ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। ’

তিনি বলেন, ‘পরিত্যক্ত জিনিসের ব্যবস্থাপনা নাইজেরিয়ার জন্য অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। গ্রাম থেকে শুরু করে শহর—সর্বত্র ময়লা-আবর্জনা একটি সাধারণ দৃশ্য। এমনকি নিরাপদ কোনো ব্যবস্থাপনা না থাকায় বাসিন্দারা অনেক সময় রাতে এসব পরিত্যক্ত জিনিস পুড়িয়ে ফেলে। বিশেষ করে টায়ার নিয়মিত রাস্তাঘাটে ফেলে দেওয়া হয়। এমনকি ড্রেনে এসব টায়ার ফেলায় নালা-নর্দমাও বন্ধ হয়ে যেত। আর এখন দৃশ্য পুরোটাই বদলে গেছে। ’

তিনি জানান, ফ্রিটাউন তাদের কাজে লাগাল, যারা ময়লা খোঁজাখুঁজি করে। তারা পরিত্যক্ত টায়ার এনে দিতে লাগল এবং প্রতিটির বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় মুদ্রা ৭০ থেকে ১০০ নায়রা (০.১৭-০.২৪ ডলার)।

নাইজেরিয়ায় ফ্রিটাউন কাজ শুরু করে ২০২০ সালে মাত্র ৪ জন কর্মী নিয়ে। কিন্তু কাজের পরিমাণ বাড়তে থাকায় কর্মীর সংখ্যাও বেড়ে হয় ১২৮ জন। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি টায়ার রিসাইকল করে পাকা ইট, টাইলস থেকে শুরু করে আরো কিছু পণ্য তৈরি করেছে।

লাগোস জেট স্কি রাইডার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা হুসাম আজেম বলেন, ‘যারা রিসাইকলের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের উপকার করছে, তাদের সহায়তা করা উচিত। তাই আমরা প্রতিষ্ঠানটির তৈরি পাকা ইট কিনে শিশুদের জন্য প্লে গ্রাউন্ড তৈরি করেছি। ’ তিনি বলেন, ‘টায়ারের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতকর জিনিসকে নতুন করে পণ্যে রূপান্তর করা নিঃসন্দেহে বড় একটি উদ্যোগ। ’ সূত্র : রয়টার্স।



সাতদিনের সেরা