kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বড় হচ্ছে টাইলসের বাজার

সজীব আহমেদ   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় হচ্ছে টাইলসের বাজার

আবাসন খাতের প্রসারকে ঘিরে দেশের অন্যতম উদীয়মান শিল্প এখন সিরামিক। করোনা মহামারিতে বেশির ভাগ নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ধস নামে এই পণ্যের বাজারে। তবে অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করায় আবারও চাঙ্গা হচ্ছে এ ব্যবসা, বাড়ছে বিক্রি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনায় বন্ধ থাকা নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হওয়ায় সিরামিক পণ্যের বিক্রিও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা যায়নি। করোনার আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে বিক্রি ৭০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, দ্রুতই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবেন।

সিরামিক পণ্য উৎপাদনকারী মালিকরা বলছেন, ‘গ্যাসসংকটের কারণে সিরামিক পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে করোনা কাটিয়ে বাজারে চাহিদা তৈরি হলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ’

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ কমে নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হওয়ায় সিরামিক পণ্যের বাজারেও গতি ফিরতে শুরু করেছে, কিন্তু এখন গ্যাসসংকটের কারণে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার কারণে বাজারে পণ্যের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী মালপত্র দিতে পারছি না। ’

সিরামিকের উপখাত তিনটি তৈজসপত্র, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার। এসব পণ্য উৎপাদনের জন্য দেশে কারখানার সংখ্যা ৬৮টি। এর মধ্যে ২০টি তৈজসপত্র, ৩০টি টাইলসের ও ১৮টি স্যানিটারিওয়্যারের কারখানা। বছরে দেশে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার টাইলসের, প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার। স্যানিটারিওয়্যারের বাজার ৯০০ কোটি আর তৈজসপত্রের বাজারের আকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার। খাতটিতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ হাজার কোটি টাকা।

সম্প্রতি সরেজমিনে স্যানিটারিসামগ্রী ও টাইলস-মার্বেলের অন্যতম বাজার রাজধানীর বাংলামোটর ঘুরে দেখা যায়, ছয় শতাধিক স্যানিটারিসামগ্রী ও টাইলস-মার্বেলের দোকান রয়েছে এখানে। এসব দোকানে খুচরা ও পাইকারি—দুইভাবেই বেচাকেনা হয়ে থাকে।

বাংলামোটরে স্যানিটারিসামগ্রী ও টাইলস-মার্বেলের দোকান মদিনা এন্টারপ্রাইজের সেলস ম্যানেজার মো. সোহাগ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনায় সিরামিকের পণ্যের ব্যবসা অনেকটা থমকে যায়। যার কারণে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এখন বাজার অনেকটাই ভালো। করোনার আগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে ৭৫ শতাংশ সিরামিক পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বিক্রি আগের অবস্থায় যেতে বেশিদিন লাগবে না। ’

অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান সিরামিকস সিটি লিমিটেড দোকানের সেলস ম্যানেজার আল-আমিন বলেন, ‘এখন বাজার বেশি ভালো না হলেও খারাপ বলা যাবে না। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বা ডেভেলপাররা এখনো তাদের নির্মিত ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি করতে পারছে না, তাই তারা নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজও শুরু করছে না। যার কারণে সিরামিক পণ্যের বাজারের গতি সেভাবে বাড়ছে না। তবে এখন সব কিছুই যেহেতু স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে, এ বাজারও স্বাভাবিক হয়ে যাবে শিগগিরই। ’  

একই দিনে সরেজমিনে রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তায় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোডের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক টাইলস-স্যানিটারির দোকান। নাজ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. রাসেল বলেন, ‘এখন সব নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় ক্রেতারাও আসছেন। তাই বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সিরামিকের সব ধরনের আইটেম প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতোই বিক্রি হচ্ছে। ’ ডিবিএল সিরামিকসের ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, ‘করোনার মধ্যে আটকে থাকা নির্মাণকাজ অনেকে আবার শুরু করেছে তাই সিরামিক পণ্য বিক্রি বাড়ছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো দু-এক মাস লাগবে। ’

বিসিএমইএ তথ্য মতে, ১৯৬০-এর দশকে ক্ষুদ্র আকারে শুরু হওয়া সিরামিক এখন বৃহৎ শিল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ৬৬টি ব্র্যান্ড ছাড়াও ছোট-মাঝারি শতাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সিরামিকস খাতে। সরাসরি ৫৫ হাজার কর্মীর পাশাপাশি সংযুক্ত শিল্প মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এই খাতে।

উৎপাদিত সিরামিক পণ্য দেশের বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়। গত ১০ বছরে এই পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ। সিরামিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার (বেসিন, কমোড), ফুলের টব, মটকা, কিচেনওয়্যার, টেবিলওয়্যার, ডিনার সেট, টি সেট, কফি মগ, বাটি থেকে শুরু করে গৃহস্থালির বিভিন্ন জিনিসপত্র। দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত সিরামিকের তৈজসপত্র ছাড়াও ইটের টাইলস, টেরাকোটা, রিফ্রাক্টরিজ, সিমেন্ট, চুন, জিপসামসহ স্যানিটারির যেকোনো পণ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে বাংলাদেশের সিরামিক কম্পানিগুলো।



সাতদিনের সেরা