kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাড়ছে বাচ্চা ও খাবারের দাম

উপকূলে বন্ধ হচ্ছে মুরগির খামার

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী   

৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পিটুয়াখালী পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীবাড়ির বাসিন্দা মো. চান গাজী। আট বছর ধরে ব্রয়লার মুরগির খামার দিয়ে চলছিল তাঁর সংসার। ব্যবসায় যা লাভ হতো, তা দিয়ে ভালোই কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু চলতি বছর মুরগির বাচ্চা আর খাবারের দাম দফায় দফায় বাড়তে থাকায় লোকসানে পড়ে বাধ্য হয়ে খামার বন্ধ করে দেন চান গাজী।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে তিনি ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন। চান গাজী এখন পোলট্রিশিল্প ছেড়ে একটি ক্লিনিকে কাজ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পোলট্রি খামার নিয়ে আমার বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল। এখন সামান্য বেতনে চাকরি নিয়েছি। আমার বড় আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় সংসারে টানাপড়েন চলছে। সরকার যদি ১৮ থেকে ২০ টাকার মধ্যে বাচ্চার দর নির্ধারণ করে দেয় এবং ৫০ কেজি খাবার বস্তার দাম যদি এক হাজার ৬০০ বা ৭০০ টাকায় নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে নতুনভাবে খামারিরা আশা পাবে। ’ শুধু চান গাজী নন, পটুয়াখালীর বেশির ভাগ খামারির শেড এখন খালি পড়ে আছে।

শহরের আরেক খামারি শফিক মোল্লা বলেন, ‘আগে আমরা মুরগির বাচ্চা ১৮ থেকে ২০ টাকা করে কিনতাম আর এখন কিনতে হয় ৫০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে। মুরগির খাবার আগে ৫০ কেজি কেনা যেত এক হাজার ৭০০ টাকায়; কিন্তু এখন একই খাবার দুই হাজার ৫০০ টাকা। এত টাকা দিয়ে খামারে মুরগি উঠাইলে খরচের টাকাই ওঠে না। ’ খামারি মানিক মিয়া বলেন, ‘ক্ষুদ্র খামারিরা সবাই হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ধার-দেনায় নাজেহাল অনেকেই। যাদের লাখ লাখ টাকা অলস পড়ে আছে, তাদের টাকা ছাড়া এ ব্যবসা চলবে না। নতুন কেউ এ ব্যবসায় নামবেও না। এত ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা হয় না। যারা এর নিয়ন্ত্রক, তারা রীতিমতো অত্যাচার চালায় খামারিদের ওপর। ’

জানা গেছে, একটি ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা বর্তমানে ৬০ টাকা। সেই বাচ্চার ওজন এক কেজি বাড়াতে এক কেজি ৬০০ গ্রাম খাবার খাওয়াতে হয়। ওই খাবারের দাম ৮৩ টাকা। এর জন্য ওষুধ প্রয়োজন ১৫ টাকার। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ বিল, গাছের গুঁড়ি, শ্রম মিলে ব্যয় আছে আরো আট টাকা। ফলে এক কেজি ওজন পর্যন্ত একটি মুরগির পেছনে ব্যয় হয় ১৬৬ টাকা। অথচ ওই মুরগি মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা ১১৫ বা ১২০ টাকার বেশি দামে খামারিদের কাছ থেকে কেনেন না। বাচ্চা ও খাবারের দাম বাড়ায় পটুয়াখালীতে পোলট্রি খাতে ধস নেমেছে।

সোনালি খামারিদেরও একই অবস্থা। জেলার সবচেয়ে বড় লেয়ার খামারি বাউফলের সাঈদুর রহমান রিপন বলেন, ‘বর্তমানে লেয়ার বাচ্চা ৩০ টাকা, ডিমে আসা পর্যন্ত একটি মুরগি ৩৯১ টাকার খাবার খায়। ওষুধে ব্যয় হয় ৬০ টাকা, কর্মচারী ও বিদ্যুৎ খরচ ৪০ টাকা। একটি মুরগি ডিমে আসা পর্যন্ত ৫২১ টাকা ব্যয় হয়। ডিমের বাজারদর এখন সাত টাকা ১০ পয়সা, কখনো আবার সাত টাকা ২৫ পয়সা পর্যন্ত হয়। কিন্তু ডিম দেওয়া একটি মুরগিতে প্রতিদিন সব ধরনের খরচে ব্যয় হয় সাত টাকা। ফলে গত কয়েক মাসে লোকসান গুনতে গুনতে খামারিরা হাত গুটিয়ে ফেলেছে। ’

পোলট্রি খামার শিল্পে ধসের জন্য খামারিরা দায়ি করেছেন অব্যবস্থাপনাকে। খামারিদের অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ৫০ কেজি খাবার বস্তার দাম বেড়েছে কয়েক দফা। জানুয়ারিতে সব খাবারই ছিল এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। এখন বস্তাপ্রতি ৬০০, ৭০০ টাকা দাম বেড়েছে। বাচ্চার দাম দ্বিগুণের চেয়েও বেশি, বিশেষ করে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাচ্চা। একটি বড় সিন্ডিকেট এই বাচ্চা ও খাবারের দর নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা