kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

পণ্যবাজার স্থিতিশীল হবে আগামী বছর

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রকাশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পণ্যবাজার স্থিতিশীল হবে আগামী বছর

এ বছর টানা বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, যা ২০২২ সালেও অব্যাহত থাকবে। এটি বৈশ্বিক পণ্যবাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করছে, এমনকি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো থেকে রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চলে যেতে পারে। পণ্যবাজার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পূর্বাভাসে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ শীর্ষক এ পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে জ্বালানির মূল্য গড়ে ৮০ শতাংশ বেশি থাকবে আগের বছরের তুলনায়। এমনকি ২০২২ সালেও তা উচ্চমূল্যে থাকবে। তেলের চেয়েও দাম বেশি বেড়েছে গ্যাস ও কয়লার। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এ বছর গড়ে থাকবে প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলার, যা ২০২০ সালের চেয়ে বাড়তি থাকবে ৭০ শতাংশ। ২০২২ সালে গড়ে ৭৪ ডলার থাকবে। তবে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী জ্বালানি তেলের দাম এরই মধ্যে প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংক মনে করে, সরবরাহ বাড়তে থাকলে আগামী বছরের দ্বিতীয় ভাগে জ্বালানির দাম কমতে থাকবে এবং ২০২৩ সালে স্থিতিশীল হবে। তবে কৃষিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম এ বছর উচ্চমূল্যে থাকলেও ২০২২ সালে কমে আসবে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ‘জ্বালানির ঊর্ধ্বগতি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিতে সাময়িক ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতিনির্ধারণে চাপ বাড়বে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে অনেক পণ্যের দাম এমন পর্যায়ে গেছে যা ২০১১ সালের পর আর দেখা যায়নি। যেমন—সরবরাহ সংকট ও বিদ্যুতের চাহিদার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। তবে আশা করা যায় সরবরাহে উন্নতি ঘটলে ২০২২ সালে দাম কমে আসবে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরো বেড়ে যেতে পারে।

করোনার প্রকোপ কমতে থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরবরাহ সংকট কেটে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে ধাতব পণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমে আসতে পারে। তবে এ বছর ধাতব পণ্যের মূল্য গড়ে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

কৃষিপণ্যের বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, করোনার প্রকোপে গত বছর একেবারেই কমে গিয়েছিল নিত্যপণ্যের দাম। এ বছর কৃষিপণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে ২৫ শতাংশ বেশি রয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানায়, সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে ১০ বছরে সর্বোচ্চ হয়েছে। এর আগের মাস আগস্টেও দাম বেড়েছিল। বিশেষ করে দাম বেড়েছে খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেলের।

রোমভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, গত মাসে খাদ্য সূচক বেড়ে হয়েছে ১৩০ পয়েন্ট, যা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ। এ দাম আগের মাসের চেয়ে বেড়েছে ২ শতাংশ, কিন্তু ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের চেয়ে বেড়েছে ৩২.৮ শতাংশ। ২০২১ সালে রেকর্ড খাদ্যশস্য উৎপাদিত হলেও ভোগ এর চেয়ে বেশি হবে, ফলে চাহিদায় দাম বাড়ছে।



সাতদিনের সেরা