kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কাল

ডিজিটাল সেবা আরো বাড়বে

সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, এমডি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক

জিয়াদুল ইসলাম   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিজিটাল সেবা আরো বাড়বে

‘দেশে ৬০টির মতো ব্যাংক আছে। প্রতিটি ব্যাংকে কেউ না কেউ গ্রাহক হিসেবে সেবা নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গ্রাহকের সেই আস্থার জায়গায় যেতে সক্ষম হয়েছি। শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, এটিএম বুথ ও ডিজিটাল অ্যাপসের মাধ্যমে সারা দেশে সেবা ছড়িয়ে দিতে পেরেছি। এটি আমাদের বড় অর্জন।’ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী এসব কথা বলেন।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৯৯৯ সালের  ২৫ অক্টোবর ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক নামে যাত্রা শুরুর পর ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়। গত ২২ বছরে ১৯৩টি শাখা খোলা হয়েছে। উপশাখা খোলা হয়েছে ১০৮টি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে খোলা হবে আরো ১৪টি উপশাখা। ফলে উপশাখার সংখ্যা দাঁড়াবে ১২২। ৮০টির মতো এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে। সারা দেশে এটিএম মেশিন রয়েছে ২০০টি। আমানতের পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২০ সালেও ছিল ৪২ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা।

ওয়াসেক মো. আলী মনে করেন, এই অভাবনীয় অর্জন সম্ভব হয়েছে ব্যাংকটির প্রতি মানুষের অগাধ আস্থা ও কর্মীদের টিমওয়ার্কের কারণে।

তিনি বলেন, “আমাদের ব্যাংকের স্লোগান হলো—সবার জন্য, সব সময়। এই জায়গাটা থেকে আমরা শাখা ব্যবস্থাপকদের সব সময় এই বার্তা দিয়ে থাকি ‘সেবা, সেবা, সেবা’। আমাদের শক্তি হচ্ছে সেবা। সেবার মান যেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়, এটা যেন কোনো অবস্থায়ই পড়ে না যায়। সেবার ক্ষেত্রে কখনো আপস করতে যেয়ো না।” তিনি বলেন, “আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মকে আরো সম্প্রসারিত পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য রয়েছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা। এফএসআইবিএল ‘ক্লাউড অ্যাপস’-এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খোলাসহ সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন। অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে পাসপোর্টের ফি পরিশোধসহ ১৯৬ ধরনের চালান ফি প্রদান করতে পারছেন।”

করোনাকালে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল মন্তব্য করে ওয়াসেক মো. আলী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করা। তবু সেবা কখনো বন্ধ রাখা হয়নি।’

এমডি বলেন, ‘আরেকটা অর্জন হলো—আমরা ক্ষুদ্র, নারী ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ পৌঁছে দিতে পেরেছি। তাদের পরিবারগুলোতে আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। আবার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ঋণ নিয়ে যথাসময়ে ফেরত দেন। তাঁদের মধ্যে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা কম।’ তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ করতে গেলে কু-ঋণ হবেই। কু-ঋণ নেই, এমন কোনো ব্যাংক নেই। তবে ভালো গ্রাহক নির্বাচন করা গেলে কু-ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। এ জন্য আমরা সব সময় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্বাচনের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে থাকি, যাতে বিনিয়োগের টাকা যথাসময়ে ফেরত আসে।’

করোনার ক্ষতি মোকাবেলায় সিএমএসএমই খাতে সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের সুবিধা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ যেখান থেকেই এসেছে, সেটাকে একেবারে ভিত্তিহীন বলা যাবে না। তবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধা না পাওয়ার পেছনে কারণও আছে। তাঁরা কিন্তু ব্যাংকের শাখায় সেভাবে যোগাযোগ করেননি। করোনা সংকটের মধ্যে হয়তো তাঁরা বিনিয়োগ সুবিধা নিতেই সাহস করছিলেন না। আগে যেটা নিয়েছি, সেটা নিয়ে যে অবস্থায় আছি, সেখান থেকে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারব কি না এমন দ্বিধা হয়তো তাঁদের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে করোনা আরো দীর্ঘায়িত হবে কি না। তবে আমি মনে করি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরও প্রণোদনার সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ যত্নবান।’

ঋণের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার পরও বেসরকারি খাতে ঋণ আশানুরূপ না বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঋণের সুদ যখন বেঁধে দেওয়া হলো, তার আগেই দেশে করোনা হানা দেয়। করোনার কারণে নতুন বিনিয়োগে যেতে মানুষ সাহস করছে না। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে বিনিয়োগে যথেষ্ট গতি আসবে বলে আশা করছি।’



সাতদিনের সেরা