kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

এয়ার ইন্ডিয়া নিয়ে বাজি

সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের মিশনে টাটা

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংকটকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের মিশনে টাটা

স্বাধীনতার পর বিশ্বের দরবারে ভারতের গর্বের প্রতীক হয়ে ওঠে এয়ার ইন্ডিয়া। দেশ-বিদেশ দাপিয়ে বেড়ানো এই বিমান সংস্থাকে ডাকা হতো ‘আকাশের মহারাজা’ বলে। লাভে রেখে যাওয়া সেই মহারাজাকে ৬৮ বছর পর ‘অসুস্থ’ বা লোকসানি অবস্থায় আবার ফিরে পেল টাটা গ্রুপ।

প্রায় ১৮ হাজার কোটি রুপিতে (২.৪ বিলিয়ন ডলার) কিনে নিয়ে এই বিমান সংস্থাটির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে টাটা। গত সম্প্রতি ক্রয়ের পর এক টুইট বার্তায় টাটা সন্সের ইমেরিটাস চেয়ারম্যান রতন টাটা উচ্ছ্বসিত ভাষায় লেখেন, ‘ওয়েলকাম ব্যাক, এয়ার ইন্ডিয়া।’ তিনি বলেন, ‘এয়ার ইন্ডিয়াকে দাঁড় করাতে যদিও ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে, তবুও এটা টাটার জন্য এভিয়েশন খাতে বিশাল সুযোগ।’

১৯৩২ সালে জাহাঙ্গীর রতনজি দাদাভাই (জেআরডি) টাটার হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই বিমান সংস্থার। সে সময় নাম ছিল টাটা এয়ারলাইনস। ১৯৪৬ সালে নাম পাল্টে রাখা হয় এয়ার ইন্ডিয়া, কিন্তু ১৯৫৩ সালে ভারত সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয় করে নিয়ে নেয়। তার পরও ২৫ বছর এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন জাহাঙ্গীর রতনজি দাদাভাই টাটা। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালে তাঁকে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের বোর্ড থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

এভাবেই এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়ন্ত্রণ যায় সরকারের হাতে। এরপর কয়েক দশক প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখালেও আস্তে আস্তে লোকসানের দিকে এগিয়ে যায়। ২০০৯ সাল থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার পেছনে সরকারের গচ্চা যায় ১.১ ট্রিলিয়ন রুপি (১৪.৭ বিলিয়ন ডলার)। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে ভারত সরকার। আর সেই চ্যালেঞ্জ লুফে নিল টাটা গ্রুপ। চুক্তি অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার মোট ৬১৫ বিলিয়ন রুপি দেনার এক-তৃতীয়াংশের দায় নেবে টাটা। বাকিটা একটি প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তরিত হবে।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও পুরনো কম্পানি টাটা গ্রুপ। ১০০ দেশে কম্পানিটির কর্মী রয়েছে আট লাখের ওপর। ১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন জামশেদজি টাটা। বর্তমানে চা থেকে শুরু করে সফটওয়্যার, স্টিল, কেমিক্যাল, হসপিটালিটি, ভোক্তা পণ্য, যোগাযোগসহ আরো বিভিন্ন খাতে টাটার ব্যবসা বিস্তৃত। টাটার রয়েছে ২৯টি তালিকাভুক্ত অধীন কম্পানি, যার সম্মিলিত বাজার মূলধন ২৫০ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে ভারতীয় বিমান সংস্থা ভিস্তারাতে টাটার রয়েছে ৫১ শতাংশ মালিকানা, এয়ারএশিয়া ইন্ডিয়াতেও রয়েছে ৮৪ শতাংশ মালিকানা। এই দুটির সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়া যোগ হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল খাতের ২৭ শতাংশ টাটার দখলে গেল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকসানি এয়ার ইন্ডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে টাটা যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছে, এটা এভিয়েশন খাতে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মিশনেরই অংশ। আন্তর্জাতিক রুটে ভারতের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া কিনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতের আকাশ বাণিজ্যে টাটার অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করল।

এয়ার ইন্ডিয়াকে লাভে পরিণত করার চালেঞ্জ মোকাবেলায় টাটা সফল হবে জানিয়ে বিমান পরিবহন বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্টিন কনসালটিংয়ের সিইও মার্ক ডি মার্টিন বার্ত সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গতানুগতিক প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকতায় রূপান্তর করার অভিজ্ঞতা টাটার রয়েছে। এরই মধ্যে তারা অনেক ভালো কাজ করেছে। সুতরাং আমি মনে করি না এয়ার ইন্ডিয়াকে সঠিক পথে আনতে তাদের খুব বেশি বেগ পেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের আর্থিক সক্ষমতা অনেক ভালো, ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং কাজের ক্ষেত্রেও তারা কৌশলী। ফলে একটি ব্যবসাকে কিভাবে সফল ও লাভজনক করতে হয় এ ক্ষেত্রে টাটার চেয়ে ভালো আপনি আর কাউকে পাবেন না।’

এই অধিগ্রহণের ফলে টাটা ভারতীয় বিমানবন্দরগুলোতে বছরে আরো চার হাজার ৪০০ অভ্যন্তরীণ এবং এক হাজার ৮০০ আন্তর্জাতিক ল্যান্ডিং স্লট পাবে। আর বিদেশে পাবে ৯০০ স্লট, যার মধ্যে আছে আকর্ষণীয় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর। টাটা নতুন-পুরনো মিলিয়ে ১২০টি এয়ারক্রাফট পাবে। ভারত থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ৫০ শতাংশ চালায় এয়ার ইন্ডিয়া।

সূত্র : এএফপি, হিন্দুস্তান টাইমস



সাতদিনের সেরা