kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

একমত ১৩৬ দেশ

ন্যূনতম কর হবে ১৫%

বাণিজ্য ডেস্ক   

১০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ন্যূনতম কর হবে ১৫%

বহুজাতিক কম্পানিগুলোর কর ফাঁকি বন্ধে তাদের ওপর ন্যূনতম কর নির্ধারণের একটি চুক্তি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। সর্বশেষ দেশ হিসেবে গত শুক্রবার হাঙ্গেরি চুক্তিতে আসার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ড ও এস্তোনিয়াও একমত হয়েছে। ফলে ন্যূনতম করপোরেট কর ১৫ শতাংশ নির্ধারণের ব্যাপারে সম্মত এখন ১৩৬টি দেশ।

চার বছর ধরে উন্নত দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) বিশ্বে ন্যূনতম করপোরেট কর হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে দেশগুলোকে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু এর চেয়ে কম করপোরেট কর থাকা দেশগুলো  প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সংস্থার পক্ষ থেকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে এখন তারাও সম্মতি জানাচ্ছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই ঐতিহাসিক চুক্তিটি কাজে পরিণত হবে।

ওইসিডির মহাসচিব ম্যাথিয়াস করম্যান বলেন, ‘আজকের এ চুক্তির ফলে আমাদের আন্তর্জাতিক করহার আরো ন্যায্য হবে এবং এ নিয়ে আরো ভালোভাবে কাজ করা যাবে। এটা কার্যকর বিশ্বায়ন গড়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বিজয়।’

এই ১৩৬ দেশ বিশ্বের মোট জিডিপির ৯০ শতাংশ ধারণ করে। এ চুক্তির ব্যাপারে আরো চারটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশগুলো হচ্ছে কেনিয়া, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। দেশগুলো সম্মতি দিলে ঐকমত্যে আসা দেশের সংখ্যা হবে ১৪০টি। ওইসিডি জানিয়েছে, ২০২২ সালে এ ব্যাপারে একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা হবে। সে অনুযায়ী ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন দেশ করপোরেট কর সংস্কার করবে।

 বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বহুজাতিক কাম্পানিগুলোর বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টায় চার দশক ধরে বিভিন্ন দেশের সরকার করপোরেট করহার কমানোর যে প্রতিযোগিতা চালিয়ে আসছিল, সেটির অবসান ঘটানোই এই চুক্তির লক্ষ্য।

এ চুক্তির জন্য আলোচনা চলছিল চার বছর ধরেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমর্থন আর কভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক অভিঘাত সেই আলোচনাকে আরো বেগবান করে।

জার্মানির অর্থমন্ত্রী ওলাফ শলৎস রয়টার্সকে বলেন, ‘কর খাতে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আজ আমরা নিলাম।’ নিজ দেশের উচ্চ হারের কর এড়াতে প্রায় সব বড় কম্পানির কম করহারের দেশগুলোতে ব্যবসা নিবন্ধনের যে প্রবণতা বছরের পর বছর ধরে চলছে, এবার তা কমার সুযোগ তৈরি হবে।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, ‘সুষম করব্যবস্থার ক্ষেত্রে এখন আমাদের একটি স্পষ্ট পথ তৈরি হলো। বহুজাতিক বড় কম্পানিগুলো যেখানেই ব্যবসা করুক, তারা তাদের ন্যায্য হিস্যা দেবে।’

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জেনেট ইয়েলেন এ চুক্তিকে আমেরিকান পরিবার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এই চুক্তি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

ওইসিডি জানিয়েছে, এ চুক্তির ফলে যদি ন্যূনতম করও আরোপ করা হয়, তাহলে বছরে অন্তত ১৫০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব বাড়বে। পাশাপাশি কম্পানিগুলো যেসব দেশে ব্যবসা করে, সেসব দেশে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফা স্থানান্তর হবে এবং সেই লাভের ওপর আরো কর আরোপের অধিকার তৈরি হবে।

গুগল, অ্যাপল, অ্যামাজন ও ফেসবুকের মতো টেক জায়ান্ট এবং বড় কম্পানিগুলোর আয় আয়ারল্যান্ড বা অন্য কোনো ‘করস্বর্গে’ স্থানান্তরের মাধ্যমে কম কর দিয়ে বেশি মুনাফা করার পথও এই প্রক্রিয়ায় বন্ধ হবে।

সম্প্রতি নেটওয়ার্ক দি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) ফাঁস করা প্যান্ডোরা পেপারস নথিতে দেখা যায়, কিভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অফশোর কম্পানি ব্যবহার করে কম করের দেশ বা অঞ্চলে (ট্যাক্স হেভেন বা করস্বর্গ) অর্থ পাঠিয়ে দেশকে করবঞ্চিত করছে। ওইসিডির চুক্তির ন্যূনতম কর ১৫ শতাংশ কার্যকর হলে এই প্রতিযোগিতাও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি।



সাতদিনের সেরা