kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এক মৌসুমেই ১৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি

২০১৫ সালে পেয়ারাগাছের ১০০ চারা দিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন দেলোয়ার হোসেন

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক মৌসুমেই ১৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি

২০১৫ সালে ১০০ পেয়ারা গাছের চারা দিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন দেলোয়ার। ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাগানে প্রথম ৮৫টি মাল্টাগাছ লাগান। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর কর্মযজ্ঞ। গতি আসতে থাকে তাঁর কার্যক্রমেও। বর্তমানে তাঁর বাগানে এক হাজার ১০০টি গাছে মাল্টা ধরেছে। চলতি মৌসুমে সাত লাখ টাকার শুধু মাল্টাই বিক্রি করার আশা করছেন তরুণ এ উদ্যোক্তা। দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাত লাখ টাকায় মাল্টা বিক্রি হলে সব খরচ বাদে লাভ থাকবে চার লাখ টাকা। এ ছাড়া বাগানের অন্যান্য ফল বিক্রি করেও বেশ মুনাফা পাব। সব মিলিয়ে ১৩ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছি। আগামী বছর উৎপাদন খরচ কমে যাবে। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তখন আরো বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

দেলোয়ার হোসেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে ২০১৪ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন। স্নাতক পাসের পর তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকায় বায়িং হাউসে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি গড়ে তোলেন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুই ব্যবসায় তাঁকে লোকসান গুনতে হয়।

এরপরই তিনি ফল চাষে আগ্রহী হন। গ্রামের বাড়ি ফিরে নিজেদের জমিতে পেয়ারাগাছ লাগিয়ে ফলের বাগানে হাত দেন। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে মাল্টা চাষে পেয়েছেন সাফল্য। স্বপ্ন এখন তাঁর হাতের মুঠোয়। প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আরো বড় সাফল্যের পেছনে ছুটে চলেছেন তরুণ এ উদ্যোক্তা।

দেলোয়ার পর্যায়ক্রমে বাগানের জমির আয়তন ও বিভিন্ন ধরনের ফলগাছের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ৬০০ শতাংশ জমিতে চার হাজার পেয়ারা, এক হাজার ১০০ মাল্টা, ৬০০ লেবু, ৩০০ কলা, ৩৫০ পেঁপে, বারোমাসি ২৬০ আম, দার্জিলিংয়ের কমলা ৮৫, চায়না কমলা ৬৪, বারোমাসি আমড়া ৪০, লটকন ৩০, কদবেল ২৫, জাম্বুরা ২০, কাশ্মীরি কুল ও বনসুন্দরী ১৪০, ডালিম আট, চেরিফল ছয়, বাউকুল, আপেল কুল ও রামবুটানগাছ চারটি রয়েছে। এসব গাছে বেশ ফলও ধরেছে। এরই মধ্যে তিনি পেয়ারা, বারোমাসি আমড়া, আম, মাল্টা ও পেঁপে বিক্রি শুরু করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছেই সবুজ রঙের মাল্টা ঝুলছে। মাল্টাগুলো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া আকারভেদে প্রতি পিস পেঁপে ৩০ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি মণ পেয়ারা এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণ আমড়া বিক্রি হচ্ছে।

দেলোয়ার জানান, তিনি নাটোর থেকে মাল্টার চারা সংগ্রহ করেছেন। অন্য সব গাছের চারা এনেছেন দিনাজপুর ও ঝিনাইদহ থেকে। তাঁর বাগানে বর্তমানে নিয়মিত চারজন শ্রমিক কাজ করছেন। অনিয়মিত আরো বেশ কয়েকজন শ্রমিককে কাজে লাগান। দেলোয়ারের উদ্যোগ দেখে স্থানীয় কৃষি বিভাগও তাঁকে সহায়তা করছে।

দেলোয়ার আরো বলেন, ‘পেয়ারা দিয়ে বাগান শুরু করলেও পরে মাল্টার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। আমি মাটির গুণাগুণ নিয়ে টেনশনে ছিলাম। তবে আমাদের এই মাটি যথেষ্ট উপযুক্ত। ফল খুবই মিষ্টি। বাজারে বর্তমানে বারি-১ জাতের মাল্টা বিক্রি করছি। সবুজ মাল্টা মিষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে মানুষের সংশয় আছে। তবে লোকজন এসে মাল্টা খেয়ে কিনে নিচ্ছেন।’ আগাছা পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাগানের খরচ কমে আসে। পানি দিতে তিনি পাইপ ব্যবহার করেন। যন্ত্রের সাহায্যে তিনি নিড়ানির কাজ করছেন।

বাগানে পেয়ারা নিতে আসা গোড়াই এলাকার রাইজ উদিন বলেন, ‘এই বাগান থেকে আমি নিয়মিত পেয়ারা কিনি। এখন মাল্টাও নিচ্ছি। সবুজ মাল্টাগুলো খেতে ভারি মিষ্টি ও সুস্বাদু। হলুদ রঙের মাল্টার দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা দাম কম হওয়ায় সবুজ রঙের মাল্টায় আগ্রহী হয়ে উঠছে।’

দেলোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত চারা সংগ্রহে তাঁর প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাগানের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ‘বারি-১ জাতের মাল্টা খুবই রসাল ও মিষ্টি। অপরিপক্ব অবস্থায় মাল্টা খাওয়া উচিত নয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দুই একর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাঁকে সার, চারা, ওষুধ, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা