kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রেকর্ড মুনাফা করল কেরু

হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে ভালো মুনাফা এসেছে

হাবিবুর রহমান, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেকর্ড মুনাফা করল কেরু

সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোং এবার প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। চিনি কারখানা থেকে বরাবরের মতো লোকশান হলেও অন্য বিভাগগুলো তা পুষিয়ে দিয়ে এই মুনাফা অর্জিত হয়। অন্যান্য মৌসুমে মিলটিতে কিছু না কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও এবার কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই চিনিকলের ৯৪ মাড়াই দিবস শেষ করে।

জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছে ৭২ কোটি, ৯টি খামারে তিন কোটি ৮৫ লাখ ও পরীক্ষামূলক খামারে ২০ লাখ টাকাসহ মোট ৭৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা লোকসান হয়। আর মুনাফা এসেছে ডিস্টিলারি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, বায়োফার্টিলাইজার এবং দেশি-বিদেশি মদ থেকে। এসব বিভাগ থেকে ১০৪ কোটি ৪৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের রাজস্ব খাতায় ভ্যাট ও শুল্ক দেওয়া হয়েছে ৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, ৯টি খামারের তিন কোটি ৮৫ লাখ ও পরীক্ষামূলক খামারে ২০ লাখ টাকা পুষিয়ে দিয়েও রের্কড মুনাফা ২৮ কোটি ৪২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। চিনিকলটিতে গত কয়েক মাড়াই মৌসুমে প্রতিনিয়ত যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও ২০২১ মৌসুম কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই মাড়াই মৌসুম শেষ করে। ২০২১-মাড়াই মৌসুমের ৯৪ দিবসে এক লাখ ১১ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেখ মো. শাহাবুদ্দীন জানান, গত অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ৯টি খামারে তিন কোটি ৮৫ লাখ ও পরীক্ষামূলক খামারে ২০ লাখ টাকা। চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছে ৭২ কোটি টাকা। মোট লোকসান হয়েছে ৭৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। মুনাফা অর্জিত হয়েছে ডিস্টিলারি বিভাগের হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং বায়োফার্টিলাইজার, ভিনেগার, দেশি-বিদেশি মদ থেকে। এসব খাত থেকে মুনাফা অর্জিত হয়েছে ১০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বায়োফার্টিলাইজারে ভিনেগার থেকে অর্জিত হয়েছে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে ৫৫ লাখ টাকা। সরকারের রাজস্ব খাতে ৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের লোকসানগুলো পুষিয়ে দিয়েও কেরুর মুনাফা দাড়িয়েছে ২৮ কোটি ৪২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের দ্বিগুণেরও বেশি।

মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গিয়াস উদ্দীন বলেন, ‘কাঁচামালের অভাবে চিনি কারখানায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে আমরা ভাবছি, কিভাবে চিনি খারখানা থেকে মুনাফা অর্জন করা যায়। উন্নত জাতের রসালো আখের চাষ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কাঁচামাল বাড়ানো গেলে সহজেই চিনি কারখানা থেকেও মুনাফা অর্জিত হবে।’

মহাব্যবস্থাপক আবু সাঈদ বলেন, ‘এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কেরু অ্যান্ড কোং। সব ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে কেরুজ চিনিকলের। কোনো সময় এই প্রতিষ্ঠান থেকে লোকসান গুনতে হয় না। চিনি, সার ও খামারে লোকসান হলেও ডিস্টিলারি ও বায়োফার্টিলাইজার বিভাগ থেকে তা পুষিয়ে যায়। ২০২০ অর্থবছরে মিলটিতে ১৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছিল। গত অর্থবছরে চিনি ও খামার থেকে লোকসান হলেও অন্যান্য বিভাগ তা পুষিয়ে দিয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের দ্বিগুণ প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। আশা করছি, আগামী দিনে আরো বেশি মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে।’



সাতদিনের সেরা