kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাবমেরিন কেবলের বিদ্যুতে আলোকিত রাঙ্গাবালী

এম সোহেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাবমেরিন কেবলের বিদ্যুতে আলোকিত রাঙ্গাবালী

রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুতের আলোতে হারিয়ে গেছে রাতের আঁধার

‘স্বপ্নেও ভাবি নাই যে আমাগো এই দেশে কারেন (বিদ্যুৎ) আইবে। অনেক ভালো লাগে ঘরে এহন কারেনবাতি জ্বলে।’ ৭৫ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগম এভাবেই জানালেন নিজের অনুভূতি। তাঁর চোখেমুখে উচ্ছ্বসিত আনন্দ। পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি। সাগর-নদীবেষ্টিত জনপদের বাসিন্দা হওয়ায় কখনোই বিদ্যুতের আলোয় জীবন যাপন করা হয়নি তাঁর। কিন্তু জীবনের শেষার্ধে এসে বিদ্যুতের আলোয় তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল।

শুধু আনোয়ারাই না, এমন আনন্দে মেতেছে স্থানীয় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পটুয়াখালীর বিদ্যুিবহীন জনপদ রাঙ্গাবালীতে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে উপজেলাবাসী। গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঝাড়বাতি দিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়। ফোটানো হয় আতশবাজি। এতে উচ্ছ্বসিত উপজেলার মানুষ।

পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের করা এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিববুর রহমান মহিব। এ সময় তিনি বলেন, ‘শতভাগ বিদ্যুতায়ন হলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুেসবার উদ্বোধন করবেন। আজ পরীক্ষামূলক চালু হলো।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উপকেন্দ্র নির্মাণ করে এ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাবুুরহাট থেকে তেঁতুলিয়া নদী হয়ে মুজিবনগর দিয়ে চরকাগজল-চরবিশ্বাস অতিক্রম করে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছায় এই দ্বীপ উপজেলায়।

এ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে তেঁতুলিয়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও আগুনমুখা নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার সাবমেরিন কেবল স্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ উপকেন্দ্রের মাধ্যমে সাড়ে ২৯ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা যাবে। এরই মধ্যে দুই হাজার ৯৫০ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যরাও বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে।

বিদ্যুৎ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা উপজেলার বাহেরচর বাজারের প্রত্যাশা বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী সুস্মিতা রানী বলেন, ‘আমরা এত দিন সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে কাজ করতাম। এতে অনেক সমস্যা হতো। কেননা একজন কাস্টমারকে ভালো সার্ভিস দিতে হলে অবশ্য ভালো মেশিন ব্যবহার করতে হয়, যা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পরিচালনা করা যায় না। বিদ্যুৎ আসার ফলে ভালো সার্ভিস দিতে পারব, পাশাপাশি নতুন নতুন কাজের মাধ্যমে কাস্টমাররা নতুন সেবা পাবে।’

ওই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী শাহিন মুন্সি বলেন, ‘রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুৎ একটা স্বপ্ন ছিল। সাগর-নদী পেরিয়ে বিদ্যুৎ আসবে কল্পনা করি নাই। আমাদের দাবি পূরণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (গলাচিপা-রাঙ্গাবালী) প্রকৌশলী মাইনউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদি কাজ শেষ হয়, তাহলে এর মধ্যে অথবা পরবর্তী যেকোনো সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করতে পারেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, আজ তা সত্যি হলো। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো রাঙ্গাবালী। এই বিদ্যুতের কারণে এখানকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।’



সাতদিনের সেরা