kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জলঢাকায় খাদিজা আক্তারের সাফল্য

শখের কফিবাগানে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

আসাদুজ্জামান স্টালিন, জলঢাকা (নীলফামারী)   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শখের কফিবাগানে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

খাদিজা আক্তারের বাগানে দুই হাজার ৮০টি কফিগাছসহ ২০ প্রজাতির ফলগাছ আছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

শখের বশে করা কফিবাগনই এখন বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে খাদিজা আক্তারের পরিবারে। নীলফামারীর জলঢাকার এ উদ্যোক্তা ২০১৪ সালে তাঁর স্বামীকে হারান। সন্তানদের সহযোগিতায় শুরু করেন পরিশ্রম ও সৃষ্টিশীলতার আরেকটি জীবন।

তিনি বলেন, ‘শখের বশে কখনো দু-একটি লাউ-কুমড়ার চারাগাছ লাগালেও বেশির ভাগ সময় পতিত থাকত জমিগুলো। ২০১৮ সাল থেকে সন্তানরা উচ্চশিক্ষার জন্য এলাকার বাইরে যায়। পড়ালেখার বাইরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাকে নানা প্রজাতির কয়েকটি করে ফলের চারাগাছ এনে দেয়। এর সঙ্গে নিয়ে আসে অ্যারাবিকা ও রোভাস্টা জাতের কফিগাছের চারা। শখের বশে করা সেই বাগানে এখন দুই হাজার ৮০টি কফিগাছসহ ২০ প্রজাতির ফল গাছ আছে। সেটি এখন আমাকে বাণিজ্যিক সুফলও দিচ্ছে। এসব সম্ভব হয়েছে সন্তানদের উৎসাহ ও সহযোগিতায়।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলাটিতে ৬২টি বিভিন্ন ফল ও মিশ্র ফলের বাগান আছে। এর মধ্যে শুধু একটি কফিবাগান আছে। বাগানটির উদ্যোক্তা জলঢাকার কৈমারী সুনগর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা আক্তারের (৫৫)। ভালো সম্ভাবনা থাকায় কফিবাগানটি নিয়মিত দেখভাল ও পরিচর্যার পরামর্শ কৃষি অফিস থেকে দেওয়া হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তারের ছোট ছেলে শেফায়েত নাশরাত নয়ন জানান, মায়ের একাকিত্বের কথা চিন্তা করে মূলত কিছু ফল গাছের চারা এনে দিই। পর্যায়ক্রমে পাঁচ বিঘা জমিতে সেসব চারা লাগানো হয়। কিন্তু শখের কাজ যে আজ বাগানে রূপান্তরিত হবে ও এত ফলন আসবে, ভাবতেই পারিনি।

কফিবাগানের সঙ্গে ড্রাগন, শরিফা, রামভুটান, অ্যাভোগ্যাডো, আম ও কোকোগাছ আছে। কফিবাগানেও প্রচুর ফলন এসেছে। আমদানিপণ্য হওয়ায় এভাবে কফিবাগান করলে একদিকে আমাদের অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে মানুষও তাজা জিনিস পাবে।

এলাকার ইউনুছ আলী, কেচুয়া মণ্ডল ও মিন্টু মিয়া বলেন, ‘আগে কফির নাম শুনেছি। এখন বাস্তবে কফি ফল দেখছি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই কফিবাগান দেখতে আসে। তারাও বাগান করার পরামর্শ নিচ্ছে খাদিজা আক্তারের কাছ থেকে।’ পরিচর্যায় নিয়োজিত কর্মীরা জানান, গাছগুলোতে যখন ফুল আসে ও ফল ধরে, তখন আরো বেশি শ্রমিক দৈনিক জনপ্রতি ৫০০ টাকা হাজিরায় কাজ করে থাকে। এ ছাড়া আমরা ছয়জন বাগানে প্রতিদিন কাজ করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘নারী উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। খাদিজা আক্তারের আগ্রহ দেখে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এক হাজার ৫০০ কফির চারা প্রদান করা হয়েছে। ওই এলাকার মাটি পলি-দোআঁশ। এসব মাটিতে কফির ফলন ভালো হয়। পরিশ্রম ও খরচ কম। এভাবে কফিবাগান করলে দেশে কফির বাজার তৈরি হবে। আমাদের আর আমদানিনির্ভরতায় থাকতে হবে না। আমি মনে করি খাদিজা আক্তারকে দেখে অনেকেই কফিবাগান করতে উৎসাহী হবে।’



সাতদিনের সেরা