kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিশ্বজুড়ে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে ইসলামী ব্যাংকিং

১৯৬৩ সালে মিসরে ড. আহমদ আল নাজ্জার ‘মিটগামার ব্যাংক’ নামে সুদমুক্ত একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল আধুনিক বিশ্বের সর্বপ্রথম সুদবিহীন ইসলামী ব্যাংক।

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলামী অর্থব্যবস্থা তথা ইসলামী নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেন ইত্যাদি পরিচালিত হয়ে আসছে ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই। তবে ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকেই ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রখ্যাত কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিশ্ববরেণ্য কিছুসংখ্যক মনীষী চিন্তা ও গবেষণা শুরু করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা ও গবেষণা জোরদার হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থনীতি বিষয়ে নিম্নোক্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

♦    ১৯৬১ সালে মিসরে ইসলামী গবেষণার সর্বোচ্চ কেন্দ্ররূপে ‘কলেজ অব ইসলামিক রিসার্চ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

♦    ১৯৬২ সালে মালয়েশিয়ায় ‘পিলগ্রিমস সেভিংস করপোরেশন’ নামে হজের জন্য সঞ্চয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে সুদমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়।

♦    ১৯৬৩ সালে মিসরে ড. আহমদ আল নাজ্জার নিজ উদ্যোগে মিসরীয় বদ্বীপ শহর মিটগামারে ‘মিটগামার ব্যাংক’ নামে সুদমুক্ত একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল আধুনিক বিশ্বের সর্বপ্রথম সুদবিহীন ইসলামী ব্যাংক। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই ব্যাংক বিপুল সাফল্য অর্জন করে।

♦    ১৯৭৩ সালে সৌদি আরবের রাজধানী জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থ সংস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রথমবারের মতো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

♦    ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে পাকিস্তানের লাহোর সম্মেলনে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে এবং এ বছর জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে ‘ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক’ (আইডিবি) চার্টার গৃহীত হয়। বাংলাদেশ সরকার ‘ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সেই চার্টারে স্বাক্ষর করে।

♦    ১৯৭৫ সালে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক এই ‘ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক’টি তার যাত্রা শুরু করে এবং এ বছরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘দুবাই ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মুসলিম দেশগুলোর ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক এই ব্যাংকটির পদাঙ্ক অনুসরণ করে কুয়েত, সেনেগাল, বাহরাইন, পাকিস্তান, ইরান, সুইজারল্যান্ড, আম্মান, জর্দান ও বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রয়াস শুরু হয়।

♦    ১৯৮০ সালের মে মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয় ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একাদশ সম্মেলন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রফেসর মো. শামসুল হক এ সম্মেলনে একটি ইসলামী আধুনিক ব্যাংকব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি ইসলামী কমন মার্কেট প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব করেন।

♦    ১৯৮২ সালের নভেম্বর মাসে আইডিবির একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে এখানে বেসরকারিভাবে যৌথ উদ্যোগে একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে।

♦    ১৯৮৩ সালের ১৩ মার্চ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড নিবন্ধিত হয়, ২৮ মার্চ ব্যাংকিং লাইসেন্স লাভ করে এবং ৩০ মার্চ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম সুদমুক্ত ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। মূলত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।



সাতদিনের সেরা