kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সর্বস্তরে কল্যাণমুখী সেবা পৌঁছে দিচ্ছি

মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া, এমডি ও সিইও, এক্সিম ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সর্বস্তরে কল্যাণমুখী সেবা পৌঁছে দিচ্ছি

বিশ শতকের ষাটের দশকে মিসরে যখন মিটগামার ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন থেকেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আন্দোলন বেগবান হতে থাকে। ১৯৭৪ সালের আগস্ট মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) চার্টার স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমেই মূলত এ দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বীজ বপন হয়। পরে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের যাত্রা শুরু বাংলাদেশ থেকে ১৯৮৩ সালে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসার নিয়ে কথা বলেন এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া।

তিনি বলেন, ‘প্রথাগত ব্যাংকগুলোও আমূল পরিবর্তিত হয়ে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ ধারার প্রথম ব্যাংকটি হচ্ছে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড (এক্সিম ব্যাংক), যা ১৯৯৯ সালে কনভেনশনাল ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০৪ সালে একসঙ্গে সব কটি শাখা নিয়ে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তরিত হয় এবং দেশে ব্যাংকিং অপারেশনে রূপান্তরের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।’

মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া বলেন, ‘প্রণোদনা প্যাকেজের পাশাপাশি সরকারের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এ বছর গোড়ার দিকে আমাদের দেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিবেশও ক্রমাগত স্বাভাবিক হয়ে আসে। করোনা অতিমারির সময়ে এক্সিম ব্যাংক সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। ফলে এক্সিম ব্যাংকের গড় প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়নি, বরং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এক্সিম ব্যাংকের আমদানি বাণিজ্য বেড়েছে ৬৪.৪১ শতাংশ এবং রপ্তানি বাণিজ্য বেড়েছে ৩৭.২৭ শতাংশ। রেমিট্যান্সপ্রবাহও ঊর্ধ্বগামী। এই পরিপ্রেক্ষিতে গতবারের তুলনায় এ বছর ৬২ শতাংশ বেশি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। প্রতিবছরই আমানত ও বিনিয়োগ বেড়েছে সমান তালে সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান হারে মুনাফা অর্জন করেছি। সবার ওপরে গ্রাহক সাধারণের ক্রমবর্ধমান আস্থাই এর শতভাগ সাফল্যে সবচেয়ে বড় প্রমাণ।’

ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা মূলত কাস্টমার-ব্যাংকারের যৌথ অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা; যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় প্রবৃদ্ধি। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অতি ঝুঁকিপূর্ণ অথচ কল্যাণমূলক কারবারে বিনিয়োগ বরাদ্দ। ফলে কৃষি ও এসএমই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। তা ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যের ভেতরে রয়েছে মুনাফাবিহীন বিনিয়োগ সুবিধা অর্থাৎ কর্জে হাসানা এবং ক্যাশ ওয়াকফ।’

তিনি আরো বলেন, ‘এক্সিম ব্যাংকের উদ্দেশ্য হচ্ছে শরিয়াহসম্মত বিভিন্ন প্রকার উদ্ভাবনী আমানত ও বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে সব স্তরের জনগণের কাছে কল্যাণমুখী ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা। সেই সঙ্গে সঞ্চয়কৃত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করা। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের স্কিমগুলো ডিজাইন করা হয়েছে।’

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক্সিম ব্যাংক নিরলস কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে ব্যাংকের সিইও বলেন, “সারা দেশে আমাদের ১৩২টি শাখার অধীনে নতুন নতুন উপশাখা খোলা হচ্ছে, যাতে মানুষের দোড়গোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে পারি। প্রবাসীদের কাছ থেকে সরাসরি রেমিট্যান্স গ্রহণের জন্য বিদেশে এক্সিম ব্যাংকের রয়েছে নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউস। ফলে দ্রুততম সময়ে আমরা প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের হাতে পৌঁছে দিচ্ছি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এক্সিম প্রান্তিক আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের ব্যাংকিং খাতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ ব্যাংকিং প্রডাক্ট ডেভেলপ করছে। তেমনি একটি প্রডাক্ট হচ্ছে ‘এক্সিম মিহনাত’, যেখানে ১০ টাকার আমানত রেখে শ্রমজীবী মানুষ হিসাব খুলতে পারেন এবং বিশেষ সুবিধাসমন্বিত মাসিক সঞ্চয় প্রকল্পে আমানত রাখতে পারবেন।”

তিনি বলেন, “কর্মজীবী নারীদের জন্য রয়েছে ‘এক্সিম ফেমিনা’ এবং গৃহিণীদের জন্য রয়েছে ‘সুগৃহিণী’ নামে বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্প। তা ছাড়া ছাত্র, তৃতীয় লিঙ্গ, বয়স্ক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য বিশেষ বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা সম্ভব হয়েছে। এটিএম-সিডিএমের পাশাপাশি আমরা তাদের ইন্টারনেট ও মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছি।”

এক্সিম ব্যাংক দ্রুত উপশাখা সম্প্রসারণ ও অধিকতর মোবাইলনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভেতরে শরিয়াহ ব্যাংকিংয়ের সুবিধা ছড়িয়ে দিচ্ছে জানিয়ে হায়দার আলী মিয়া বলেন, “এক্সিম ব্যাংক একান্ত নিজস্ব প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন করেছে ‘আইসার’ নামের ইন্টারনেট ও মোবাইল অ্যাপ ভিক্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। শরিয়াহ ব্যাংকিংকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তোলাই এই অ্যাপটির উদ্দেশ্য।”

এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে ইসলামী ব্যাংকিং গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে। কিন্তু বিগত ১০ বছরে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কর্মকাণ্ডের পরিধি ও বৈচিত্র্য দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে।  বিদ্যমান গাইডলাইনটিই পূর্ণাঙ্গ আইনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি আলাদা শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হলে দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরো সুনিয়ন্ত্রিত ও কাঠামোবদ্ধ হবে।



সাতদিনের সেরা