kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইসলামী ব্যাংকিংয়ে পৃথক আইন সময়ের দাবি

সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, এমডি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক

তামজিদ হাসান তুরাগ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসলামী ব্যাংকিংয়ে পৃথক আইন সময়ের দাবি

ছবি : মঞ্জুরুল করিম

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য পৃথক আইন দরকার। এটি না থাকায় ব্যাংকগুলো নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য আলাদা শরিয়াহ বোর্ড গঠন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী।

তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ডের মতো দেশে ইসলামী ব্যাংকিং চালু হয় ২০০৩ সালে, কিন্তু তারা ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়ন করে ২০০১ সালে। তাই বলা যায় দেশের বিশাল এই খাতের নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতার জন্য পৃথক আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য আলাদা শরিয়াহ বোর্ড গঠন এখন সময়ের দাবি।’

দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের শুরুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০০৯ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ২৮-৩০ শতাংশ ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দখলে রয়েছে এবং এটি ক্রমান্বয়ে বৃৃদ্ধি পাচ্ছে।’

করোনাকালীন অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ২০২০ সাল শেষে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহকের মোট আমানত ৪৪ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। ব্যবসা প্রসারের জন্য সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ১৯০টি পূর্ণাঙ্গ শাখা, ১০০টি উপশাখা, ৬৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং দেশব্যাপী ২০০ নিজস্ব এটিএম বুথ।

তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ২০২০ সাল শেষে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৪ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহকের মোট আমানত ৪৪ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। ব্যবসা প্রসারের জন্য সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ১৯০টি পূর্ণাঙ্গ শাখা, ১০০টি উপশাখা, ৬৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং দেশব্যাপী ২০০ নিজস্ব এটিএম বুথ। পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে নারী গ্রাহকদের সুবিধার জন্য আমরা নারী অফিসার নিয়োগ দিয়েছি।’

ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে মানুষের আগ্রহের কারণ জানাতে গিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশের বেশির ভাগ মানুষই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ইসলামে সুদ সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে স্পষ্ট আয়াত রয়েছে। সুদি ব্যাংকিংয়ের মতো ইসলামী ব্যাংকে টাকার বিনিময়ে টাকার লেনদেন হয় না বরং শরিয়াহ অনুমোদিত মালের বিনিময়ে মুনাফায় অর্থ বিনিয়োগ হয়। এ দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে শরিয়াহর ভিত্তিতে অর্থনৈতিক জীবন পরিচালনা করতে চায়, যা ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে মানুষের আগ্রহের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই খাতের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পূর্ণাঙ্গ ধারণা না থাকা। সুতরাং এই খাতের সম্প্রসারণ করতে হলে আগে মানুষকে জানানো উচিত ইসলামী ব্যাংকিং কী।’

সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সম্প্রসারণে জনসাধারণের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে থাকি। গ্রাহকদের জন্য আমাদের আমানত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আল ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য জন্য অংকুর ও আলো, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রজন্ম ও উদ্দীপন, শ্রমজীবী মানুষের জন্য মেহনতি, প্রবাসীদের জন্য স্বদেশ, নারীদের জন্য মহীয়সী, গৃহিণীদের জন্য ঘরণী, ষাটোর্ধ্ব সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য প্রবীণ, মুরুব্বিসহ বিভিন্ন সেক্টরের মানুষের প্রয়োজনমতো আমানত প্রকল্প। এ ছাড়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, এসএমই, কৃষি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চাহিদা মোতাবেক বাই-মুরাবাহা, বাই-মুয়াজ্জাল, বাই-সালাম, বাই-ইসতিশনা, মুদারাবা, মুশারাকা ও এইচপিএসএমভিত্তিক বিনিয়োগ প্রকল্প।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের দেশে বৈধভাবে পরিচালিত প্রায় সব শীর্ষ রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, এক্সপ্রেস মানি, প্লাসিড এন কে করপোরেশন, ট্রান্সফাস্ট, রিয়া মানি ট্রান্সফার, প্রভু মানি ট্রান্সফার ইত্যাদি এর মাধ্যমে বিভিন্ন রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করে থাকি। ২০২০ সালে আমরা প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা ফরেন রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছি।’



সাতদিনের সেরা