kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এসএমই, রিটেইল ও রপ্তানিতে বিনিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে

সোহেল আর কে হোসেন, এমডি ও সিইও, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এসএমই, রিটেইল ও রপ্তানিতে বিনিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে

এ বছর প্রিন্সিপাল শাখায় ইসলামিক উইন্ডো উদ্বোধনের মাধ্যমে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড। শুরুতে এসএমই, রিটেইল ও রপ্তানি কার্যক্রমে বিনিয়োগের জন্য প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সোহেল আর কে হোসেন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেন মেঘনা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার।

তিনি বলেন, ‘মূলত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক এক হাজার ৫৫৮টি শাখার মাধ্যমে আটটি কনভেনশনাল ব্যাংক তাদের ১৯টি ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে এবং ১১টি কনভেনশনাল ব্যাংক তাদের ১৭৮টি শাখার মাধ্যমে ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং বিনিয়োগের পরিমাণও প্রায় চার লাখ কোটি টাকা, যা মোট ব্যাংকিং খাতের প্রায় ২৮ শতাংশ। কভিড-১৯-এর ভয়াবহতা না কমলেও চলতি বছরের প্রথম অংশে ব্যাংকিং খাত বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। এতে আশা করা যায়, এ বছরও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রবৃদ্ধি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো হবে।’

সোহেল আর কে হোসেন বলেন, ‘আমরা ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে মেঘনা ব্যাংক প্রিন্সিপাল শাখায় ইসলামিক উইন্ডো উদ্বোধনের মাধ্যমে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করি। এ বছরের এপ্রিল থেকে কভিড-১৯-এর কারণে দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে লকডাউন শুরু হয়, যা শেষ হয় গত ১২ আগস্ট। দেশের এ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন পেয়ে একটি উইন্ডোর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেছি এবং দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে আশানুরূপ বিনিয়োগ করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে মেঘনা ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে প্রতি গ্রাহকদের যে আগ্রহ ও চাহিদা দেখা যাচ্ছে এতে আমরা আশা করছি যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মেঘনা ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি বাণিজ্য ও বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মেঘনা ব্যাংক আরো ৯টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো চালু করার জন্য কাজ করছে। এর জন্য ব্যাংক এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও পেয়েছে। তা ছাড়া আমরা খুব দ্রত মেঘনা ব্যাংকের কনভেনশনাল সব শাখায় অনলাইন ইসলামী ব্যাংকিং সার্ভিস ডেস্ক চালু করব। যাতে জনসাধারণ খুব সহজেই ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সেবা গ্রহণ করতে পারে।’

এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য আমানত সেবার ১১টি স্কিম আছে। সেগুলো হচ্ছে আল-ওয়াদিআহ্ কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, মুদারাবা শর্ট নোটিশ ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট, মুদারাবা সেভিংস অ্যাকাউন্ট, মুদারাবা মেয়াদি জমা হিসাব, মুদারাবা মাসিক মুনাফাভিত্তিক জমা হিসাব, মুদারাবা এনআরবি সেভিংস বন্ড হিসাব, মুদারাবা বিশেষ সঞ্চয়ী (পেনশন) হিসাব, মুদারাবা মোহর সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবা বিবাহ সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবা হজ সঞ্চয়ী হিসাব, মুদারাবা ওয়াকফ ক্যাশ জমা হিসাব। এ ছাড়া আমরা শিগগিরই আরো অনেক নতুন আমানত স্কিম চালু করব।’

বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও সেবামূলক সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য শরিয়াহ নীতিমালার আলোকে প্রণীত আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম চালু আছে বলে জানান মেঘনা ব্যাংকের সিইও। তিনি বলেন, ‘তবে আমরা শুরুতে এসএমই, রিটেইল ও রপ্তানি কার্যক্রমে বিনিয়োগের জন্য প্রাধান্য দিচ্ছি। এরই মধ্যে আমরা মেঘনা ইসলামিক হোম ফাইন্যান্স, মেঘনা ইসলামিক আপনালয় ফাইন্যান্স, মেঘনা ইসলামিক কার ফাইন্যান্স ও মেঘনা ইসলামিক হাউজহোল্ড ইনভেস্টমেন্ট নামে কয়েকটি বিনিয়োগ প্রডাক্ট চালু করেছি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা বাই-মুরাবাহা, বাই-সালাম, বাই-আস-সারফ, ইস্তিসনা ও হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক ইত্যাদি শরিয়াহ নীতিমালার আলোকে বিনিয়োগ সেবা প্রদান করছি।’

এই কর্মকর্তার মতে, ইসলামী ব্যাংকিং জনকল্যাণমুখী ব্যাংকিংব্যবস্থা। সুদ, ফটকাবাজি, জুয়া এবং ক্ষতিকর ব্যবসা-বাণিজ্য ইসলামে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের প্রতি ধর্ম ও বর্ণ-নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের আগ্রহ সমভাবে দেখা যায়। তাই বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং দ্রুত প্রসার ঘটছে, কিন্তু এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে আমাদের দেশে প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা রয়েছে। অর্থবাজার এবং পুঁজিবাজারে লেনদেনের জন্য এখন পর্যন্ত ইসলামিক ব্যাংকিং ইনস্ট্রুমেন্ট অপ্রতুল। তা ছাড়া এই মুহূর্তে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে জন্য পৃথক আইন ও আলাদা শরিয়াহ বোর্ড হলে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

মেঘনা ব্যাংকের সিইও বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আমরা নতুন। রেমিট্যান্স সেবার জন্য খুব শিগগিরই বিভিন্ন প্রডাক্ট চালু করার ইচ্ছা আছে আমাদের। এর পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসারে বিভিন্নমুখী পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। যথা ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে গ্রাহককে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা। লিফলেট ও বই ছাপিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।’



সাতদিনের সেরা