kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে মাস্ক রপ্তানি

সুরক্ষাসামগ্রী রপ্তানিতে বাজিমাত

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুরক্ষাসামগ্রী রপ্তানিতে বাজিমাত

বাংলাদেশ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মেডিক্যাল ও নন-মেডিক্যাল মাস্ক রপ্তানি হয়েছিল মাত্র এক কোটি ৯২ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার কাছাকাছি। দুই বছরের ব্যবধানে মাস্ক রপ্তানি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ডলার বা এক হাজার ১৯ কোটি টাকার মাস্ক রপ্তানি হয়েছে বিশ্বের ৪৩টি দেশে। মাস্কসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) রপ্তানি হয়েছে ৬১ কোটি ৮২ লাখ ডলার। প্রথমবারের মতো সুরক্ষাসামগ্রী রপ্তানি খাত থেকে আয় দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ শতাংশের বেশি। আর জাতীয় রপ্তানিতে এই খাতের অবদান ১.৫৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী অতিমারি করোনাভাইরাস ব্যবসা-বাণিজ্যের সব খাতে ধস নামালেও সেই করোনাকে পুঁজি করে সুরক্ষাসামগ্রী রপ্তানি ব্যবসা এসেছে আশীর্বাদ হয়ে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬১ কোটি ৮২ লাখ ডলারের পিপিই রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে পিপিই গাউন রপ্তানি হয়েছে ৩২ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের। আগের অর্থবছরে পিপিই গাউন রপ্তানি হয়েছিল ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। পিপিই রপ্তানি কমেছে ৬.৪৮ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ৫৮টি দেশে পিপিই গাউন রপ্তানি হলেও সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে জার্মানিতে। ইউরোপের দেশটিতে ১২ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পিপিই গাউন রপ্তানি হয়েছে গত অর্থবছরে। তবে পিপিই গাউন রপ্তানির ঘাটতি মিটিয়ে দিয়েছে মাস্ক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে তিন কোটি ৯৩ লাখ ডলারের ফেস কাভার, ওভেন ও সার্জিক্যাল মাস্ক রপ্তানি হয়েছিল। সেখানে গত বছরে রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের। প্রবৃদ্ধির হার ৩০৫ শতাংশ। এই মাস্কের সবচেয়ে বড় ক্রেতা সংযুক্ত আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে মোট চার কোটি সাত লাখ ডলার বা ৩৪৬ কোটি টাকার মাস্ক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক রপ্তানি হয়েছে এক কোটি ৪৩ লাখ ডলারের। এর মধ্যে এক কোটি সাত লাখ ডলারের সার্জিক্যাল মাস্ক গেছে তুরস্কে।

এদিকে পিপিই উৎপাদনে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এগিয়ে আসায় আগামীতে এই খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের আওতায় ম্যাচিং গ্রান্ট প্রগ্রামের দি এক্সপোর্ট রেডিয়েন্স ফান্ড (ইআরএফ) হিসেবে ১৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করা হবে। গত এপ্রিল থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। অনুদান পাওয়া যাবে ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) উৎপাদন, ডায়াগনস্টিক ইকুইপমেন্ট ও ক্লিনিক্যাল ইকুইপমেন্ট তৈরিতে যুক্ত উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারবেন।

বিশ্বব্যাপী চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে চট্টগ্রামের স্মার্ট গ্রুপ আলাদা করে বিশেষায়িত মাস্ক কারখানা চালু করেছে। চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় স্থাপিত অ্যাপারেল প্রমোটারস লিমিটেড নামের কারখানায় সার্জিক্যাল মাস্ক ছাড়াও এন-৯৫, কেএন-৯৫ এবং এফএফপি২-এর মতো সর্বোচ্চ মানের মাস্ক তৈরির পাশাপাশি শু কভার, হেড কভার ও গাউনও তৈরি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সনদ নিয়ে ২০২০ সালের জুন-জুলাই থেকে আলাদা কারখানায় মাস্ক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় উৎপাদিত মাস্ক বাংলাদেশ সরকার ছাড়াও জার্মানি ও জাপানে রপ্তানি হয়েছে। নতুন বছরেও ভালো চাহিদা রয়েছে। চাহিদার একটি বড় অংশজুড়ে থাকে সার্জিক্যাল মাস্ক। বিদেশে রপ্তানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও এই মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। নিজস্ব ল্যাব থাকায় সব মান নিয়ন্ত্রণ করেই মাস্ক উৎপাদন করা হয়।’

তবে কঠোর লকডাউনের কারণে দীর্ঘ ছুটিতে মাস্ক উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে বলে জানান গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘লকডাউনে কারখানা বন্ধের খবরে কাস্টমার খুশি না।’

আশাতীত প্রবৃদ্ধির পরেও সুরক্ষাসামগ্রী খাতকে এখনই রপ্তানির নতুন খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি নন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা, কানাডার মতো অনেক দেশে যেখানে বেশির ভাগ মানুষের টিকা প্রদান শেষ হয়েছে, সেখানে এরই মধ্যে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। টিকা প্রদানের হার যত বাড়বে, ততই এসব সামগ্রীর চাহিদা কমবে। তবে করোনা যেভাবে কিছুদিন পর পর নতুন ধরন নিয়ে ফিরে আসে, এই ধরনের কিছু হলে সুরক্ষাসামগ্রীর চাহিদা আরো বেশ কয়েক বছর থাকবে।’



সাতদিনের সেরা