kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

মহাকাশ পর্যটনে যেভাবে যাচ্ছেন শীর্ষ ধনীরা

♦ বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু ২০২২ সালে
♦ টিকিট বিক্রি করছে দুই প্রতিষ্ঠান

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মহাকাশ পর্যটনে যেভাবে যাচ্ছেন শীর্ষ ধনীরা

মহাকাশে ওজনশূন্য হয়ে ভাসার আনন্দ উপভোগ করছেন রিচার্ড ব্রানসন

রোমাঞ্চ আর প্রতি মুহূর্তের উত্তেজনায় যাঁরা চমকিত হতে চান, মহাকাশভ্রমণ তাঁদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বিশ্বের দুই বিলিয়নেয়ার জেফ বেজস ও রিচার্ড ব্রানসন ঘুরে এসে জানিয়ে দিলেন মহাকাশভ্রমণ এখন আর নভোচারীর হাতে নেই, যেতে পারেন সাধারণরাও। তাই আগামী বছর থেকে মহাকাশে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। 

 

মহাকাশভ্রমণের টিকিট বিক্রি হচ্ছে

আপাতত দুটি প্রতিষ্ঠান মহাকাশভ্রমণের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। জেফ বেজসের ব্লু অরিজিন এবং রিচার্ড ব্রানসন প্রতিষ্ঠিত ভার্জিন গ্যালাকটিক। দুটিই আমেরিকান কম্পানি। ব্লু অরিজিনের কয়েক শ টিকিট এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে, যার দাম দুই লাখ মার্কিন ডলার। ভার্জিন গ্যালাকটিকও ৬০০ টিকিট অগ্রিম বিক্রি করেছে আড়াই লাখ ডলার দরে। টিকিট কেটে মহাকাশভ্রমণকারীদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে টম হ্যাংকস ও লেডি গাগার মতো সেলিব্রিটিও রয়েছেন। আর রয়েছেন আরেক মহাকাশবিষয়ক সংস্থার মালিক এলন মাস্ক।

 

শুধু কি ধনীরাই যাবেন

তাহলে কি শুধু ধনীরাই মহাকাশে বেড়াতে যেতে পারবেন? এর উত্তরে নাসার বিজ্ঞানী অমিতাভ ঘোষ বিবিসিকে বলেন, ‘দেখুন, কতজন মানুষ বাংলাদেশ থেকে ইংল্যান্ডে বেড়াতে যেতে পারেন? যাঁদের অর্থ আছে, তাঁরাই পারেন। মহাকাশে গেলে হয়তো আরো একটু বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে।’ তবে তিনি মনে করেন, এই খরচ নামিয়ে আনা সম্ভব। মোটামুটি ১০ বছর পর ৫০ হাজার ডলারে মানুষ হয়তো চাঁদেও যেতে পারবে। এ জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।

 

একসঙ্গে কতজন যেতে পারবেন

ব্লু অরিজিনের নিউ শেফার্ড রকেট ক্রু ক্যাপসুল নিয়ে খাড়াভাবে ওপরে উঠবে, এক পর্যায়ে ক্যাপসুল ছেড়ে দিয়ে রকেট নিচে নেমে আসবে। কারমিন লাইন ছাড়িয়ে ৬২ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার ওপরে উঠবে ক্যাপসুলটি। পরে পৃথিবীতে নেমে আসবে প্যারাশুটের মাধ্যমে। বেজসের পুরো ভ্রমণে সময় লেগেছিল মাত্র ১১ মিনিট। কিন্তু এ অল্প সময়ই ছিল রোমাঞ্চ আর উত্তেজনায় ভরা এক দুঃসাহসিক অভিযান। আর ভার্জিন গ্যালাকটিকের বিমান সাধারণ বিমানের মতো আনুভূমিকভাবেই ওপরে উঠবে। ৫০ মাইল পর্যন্ত ওপরে উঠে নেমে আসবে। উভয় ক্ষেত্রেই মাত্র ছয়জন করে যাত্রী যেতে পারবেন। কয়েক মিনিটের এই যাত্রায় তাঁরা কিছু সময় শূন্যে ভাসার সুযোগ পাবেন। মহাকাশ থেকে দেখতে পাবেন পৃথিবী।

 

কখন যেতে পারবেন

ভার্জিন গ্যালাকটিক জানিয়েছে, তাদের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হবে ২০২২ সালে। এর আগে মহাকাশে আরো দুটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করবে তারা। কম্পানি জানায়, তারা বছরে ৪০০ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, তারা এ বছরে আরো দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এরপর আগামী বছর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।

 

পুরস্কার হিসেবে টিকিট জয়ের সুযোগ

ভার্জিন গ্যালাকটিক জানায়, শুরুর ফ্লাইটগুলোর একটিতে তারা দুটি টিকিট লটারির ড্র বিজয়ীর জন্য রেখেছে। এ জন্য নিবন্ধন চলছে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। টেলিভিশন রিয়ালিটি শোয়ের মাধ্যমেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আসছে রিয়ালিটি শো স্পেস হিরো। তারা জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীকে তারা ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বেড়াতে পাঠাবে।

 

সাশ্রয়ী ভ্রমণের বিশেষ ব্যবস্থা

মহাশূন্য থেকে যাঁরা পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইচ্ছুক কিন্তু খুব বেশি অর্থ খরচ করতে রাজি নন, তাঁদের জন্য একটি অফার আছে ফ্লোরিডাভিত্তিক কম্পানি স্পেস পারস্পেকটিভের। তাদের ক্যাপসুল স্পেস নেপচুনে এক লাখ ২৫ হাজার ডলারে মহাকাশ ঘুরে আসতে পারেন। এটি এক লাখ ফুট ওপরে উঠবে, যাতে ৩৬০ ডিগ্রি জানালা থাকবে। তবে এই দূরত্বে ওজনহীনতা হবে না। ফলে শূন্যে ভাসা যাবে না। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩০০ সিটের সব কটি বিক্রি হয়ে গেছে, যদিও ২০২৫ সাল পর্যন্ত টিকিট বুকিং দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

শারীরিক সক্ষমতার প্রয়োজন আছে কি

স্বাভাবিক সুস্থতা থাকলেই মহাকাশভ্রমণে যাওয়া যাবে। যাত্রার প্রাক্কালে ভার্জিন গ্যালাকটিক তার যাত্রীকে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেবে। ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, তারা যাত্রার আগের দিন যা প্রয়োজন সব কিছুই আপনাকে শিখিয়ে দেবে। তবে কিছু শারীরিক সক্ষমতা থাকা লাগবে। ৯০ সেকেন্ডে সাততলার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে (লাঞ্চ টাওয়ারের উচ্চতার সমান)। তাঁকে ১৫২ সেন্টিমিটার ও ৫০ কেজির মধ্যে হতে হবে এবং ১৯৩ সেন্টিমিটার ও ১০০ কেজির মধ্যে হতে হবে।

 

কী দেখা যাবে মহাকাশে

পর্যটক হিসেবে কোথাও বেড়াতে গেলে আমরা প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করি। নদীনালা, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র দেখি। কিন্তু মহাকাশে দেখার কী আছে? অমিতাভ ঘোষ বলেন, ‘পৃথিবীটা যে গোল সেটা আমরা ৫০ থেকে ৭০ মাইল ওপরে গেলেই দেখতে পাব। তার বৃত্তাকার রেখা তখন স্পষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া পৃথিবী থেকে আমরা আকাশের রং দেখি নীল। কিন্তু আকাশ নীল নয়। পৃথিবীতে যে আলো এসে পড়ে তার সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের মিশ্রণে সেই নীল রং তৈরি হয়। যে মুহূর্তে আপনি বায়ুমণ্ডলের ওপরে চলে যাবেন, ঠিক তখনই দেখতে পাবেন যে আকাশ হচ্ছে কালো। এ ছাড়া কেউ যদি চাঁদের বুকে হাঁটেন, তিনি সেখানে পাহাড় ও ভূমি দেখতে পাবেন, যেখানে কোনো ধরনের সবুজ নেই, পানি নেই এক ফোঁটাও—এর সবটাই তাঁর জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আর ওজনশূন্যতা অনুভব করতে পারা তো দারুণ এক ব্যাপার।’

সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা, এএফপি।



সাতদিনের সেরা