kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

করোনার প্রভাব

লোকসানে স্বরূপকাঠির পেয়ারা চাষি

হযরত আলী হিরু, স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর)   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোকসানে স্বরূপকাঠির পেয়ারা চাষি

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির কুড়িয়ানায় পেয়ারার ভাসমান বাজার। ছবি : কালের কণ্ঠ

চলতি বছর পেয়ার ফলন ভালো হলেও লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ধলহার গ্রামের পেয়ারা চাষি সৈকত মিস্ত্রি। মহামারি করোনার কারণে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তাঁর এই লোকসান। ‘বাংলার আপেল’ নামে খ্যাত স্বরূপকাঠি জাতের পেয়ারা। এ জাতের পেয়ারার বাণিজ্যিকভাবে আবাদ চলছে ৭০-৭৫ বছর ধরে। গেল দুই বছর করোনার প্রভাবে ক্রেতা পাইকারও তেমন আসছেন না। ফলন ভালো হলেও চাষিদের মুখে হাসি নেই। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই ওঠাতে পারছেন না কৃষকরা। টানা দুই বছর লোকসানের মুখে পড়ে অনেকে পেয়ারা চাষ বাদ দিয়ে ঝুঁকে পড়েছেন আমড়া, লেবুসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য চাষে।

উপজেলা সদর থেকে মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের ৩২টি গ্রামের ৬৫৭ হেক্টর জমিতে দুই হাজার ৭০টি পরিবার এই পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িত, আর পেয়ারার চাষাবাদ ও বিপণনব্যবস্থার সঙ্গে ওই সব এলাকার প্রায় ছয়-সাত হাজার শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও আগেভাগে পেয়ারা বাগান কিনে রাখায় লোকসানের শঙ্কা করছেন পাইকাররা। আর যে চাষিরা বাগান বিক্রি করেননি তাঁরা বলেছেন এবার বাগানেই পড়ে থাকবে পেয়ারা। করোনার কারণে দেশব্যাপী লকডাউনে এলাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় পেয়ারার বাজার মন্দা। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের চাষি ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

উপজেলার কুড়িয়ানা, আটঘর, আদমকাঠি, জিন্দাকাঠি, ধলহারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই পেয়ারার হাট বসে। বর্তমানে পেয়ারা পাইকারিভাবে মণপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছর পেয়ারার এ মৌসুমে ঢাকা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের এক শ্রেণির পাইকাররা এখান থেকে সরাসরি হাজার হাজার মণ পেয়ারা কিনে লঞ্চ, ট্রাক ও পিকআপযোগে নিয়ে যেতেন।

পেয়ারার মৌসুমে বিগত দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক পেয়ারা বাগান দেখতে আসতেন। কিন্তু করোনার বিধি-নিষেধ থাকায় পর্যটকরা আসতে পারছেন না। এ ব্যাপারে আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার কালের কণ্ঠকে জানান, করোনার কারণে এখানকার সব স্তরের পেয়ারা চাষি এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ব্যাপক

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। লোকসানে অর্থসংকটে পড়ে এ ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছেন অনেকেই। এ ছাড়া কুড়িয়ানা-হিমানন্দকাঠি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় ওই পেয়ারা পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চপল কৃষ্ণ নাথ বলেন, ‘লকডাউনে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণনে সরকারি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কৃষিপণ্য পরিবহনে কোনো সমস্যার কথা শুনলে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁদের প্রত্যয়ন বা পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পেয়ারা চাষিদের সহজ শর্তে কৃষিঋণ দিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’



সাতদিনের সেরা