kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

লকডাউনে দিশাহারা কাপড় ব্যবসায়ীরা

এ এস এম সাদ   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লকডাউনে দিশাহারা কাপড় ব্যবসায়ীরা

সাইদুল ইসলাম (৩৪) একজন কাপড় বিক্রেতা। গত বছর লকডাউনের পর থেকে তাঁর ব্যবসায় মন্দা। চলমান ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনে তাঁর ব্যবসা পুরো বন্ধ। রাজধানী মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায় তাঁর দোকান। প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি ও অন্যান্য কাপড় বিক্রি করেন। গত বছর লকডাউনে পুরো দুই মাস ব্যবসা বন্ধ ছিল তাঁর। এ সময় কোনো রকমের আয় ছাড়াই দোকানের ভাড়া দিতে হয় । দোকান ভাড়া ১২ হাজার টাকা। করোনার আগে তাঁর ব্যবসা থেকে মাসে ৬০ হাজার আয় হতো। গত বছর লকডাউনের পর তিনি পুনরায় ব্যবসা শুরু করেন। এ সময় তাঁর কেনাবেচাও কম ছিল। একসময় মাসে পাঁচ হাজার টাকা সঞ্চয় হতো। তবে করোনা-পরবর্তী সময় সঞ্চয় ভেঙে ফেলতে হয়েছে তাঁকে। বেসরকারি একটি ব্যাংকে ডিপিএসও করেছিলেন তিনি। পাঁচ বছর মেয়াদি সেই ডিপিএস মাঝপথেই ভাঙতে হয় তাঁর।

গত বছর সাইদুল বাবা হন। সংসারের খরচও বাড়ে। তিনি বলেন, ‘গত বছর থেকেই ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। করোনার পর দোকান খোলা রাখলে মাসে ৩০ হাজার টাকার বেশি আয় হয় না। আর জুলাই মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হয়েছে আমার। জানি না এরপর কী হবে। কিভাবে সংসার চলবে আর কেমনে দোকানের ভাড়া দেব।’  

সাইদুলের মতো এ রকম লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লকডাউনে জর্জরিত। শেখ হুজাইফা (২৬) ধানমণ্ডি ১৫ নম্বর রোডে ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার বিক্রি করতেন। করোনার পর থেকে তাঁর ব্যবসা একেবারে বন্ধ। সন্ধ্যার পর তাঁর ব্যবসা জমে উঠত। আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন তাঁর বানানো বার্গার, রোল, সসেজসহ খাবার খেতে আসতেন। করোনার পর তাঁর ব্যবসা বন্ধ। জুলাই মাস থেকে সরকারঘোষিত লকডাউনে তাঁর বেচাকেনাও বন্ধ। ব্যবসা না হওয়ায় গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই মাস ধরে তো আমার ব্যবসাই নাই। রোজার মাস গেল, সে সময়ও তেমন বেচাকেনা হয় নাই। আর এখন আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন। সন্ধ্যার পর দোকান নিয়ে বসতে দেয় না এখানকার পুলিশ।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সিএমএসএমই খাতের যে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তার বড় অংশই পেয়েছেন ব্যবসা ও সেবা খাতের উদ্যোক্তারা। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং সানেমের গবেষণায় উঠে আসে সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বড় শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পেলেও সহায়তার বাইরে ছিলেন ক্ষুদ্র ও ব্যক্তি উদ্যোক্তারা।

ফলে সাইদুল ও হুজাইফার মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে অর্থ সহায়তা পাননি। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ ব্যাংক দেয় নাই আমাকে। ব্যাংকের কাছে অর্থ চাইলেও ব্যবসা পরিধি কম বলে আমাকে অর্থ দেয়নি। ছোট ব্যবসা করি, তাই ব্যাংক লোন দেয় না।’

এ ব্যাপারে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই আনুষ্ঠানিক খাত। ফলে তাঁরা সহজেই ব্যাংকে যেতে পারেন। কিন্তু ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে সুবিধা পান না। ফলে শুধু মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা দিয়েই ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়।’



সাতদিনের সেরা