kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

পুঁজিবাজারে লোকসানি তালিকায় আরো ২৩ কম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুঁজিবাজারে লোকসানি তালিকায় আরো ২৩ কম্পানি

এক বছরের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে লোকসানি কম্পানির সংখ্যা বেড়েছে। কম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এক বছর আগেও পুঁজিবাজারে লোকসানি কম্পানি ছিল ৩৮টি। এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১টিতে। অর্থাৎ এক বছরে লোকসানি কম্পানির তালিকায় যোগ হয়েছে মুনাফায় থাকা আরো ২৩টি কম্পানি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১০ সালের দীর্ঘ মন্দার পর গত এক বছর পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। এই সময়ে পুঁজিবাজারে বেড়েছে লেনদেন, বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের বিচরণ, বেড়েছে শেয়ারদরও। আলোচ্য সময়ে লোকসানি কম্পানির তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে, যা স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।

তাঁরা বলছেন, গত এক বছরে পুঁজিবাজারে অনেক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি তৈরিতে দৃশ্যমান অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তারপর ফাঁকফোকর গলিয়ে তালিকাভুক্ত অসাধু কম্পানিগুলোর অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা অনেক বেড়েছে। যে কারণে পুঁজিবাজারে লোকসানি কম্পানির তালিকা আরো দীর্ঘ হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লোকসানি কম্পানির সংখ্যা ছিল কম-বেশি ৩৮টি। গত এক বছরে আরো ২৩টি মুনাফায় থাকা কম্পানি নতুন করে লোকসানের খাতায় নাম লেখিয়েছে। কম্পানিগুলো হলো আফতাব অটোমোবাইল, আজিজ পাইপ, বাটা শু, ফাইন ফুড, জেমিনি সি ফুড, গোল্ডেন হার্ভেস্ট, জিকিউ বলপেন, হাক্কানী পাল্প, হামিদ ফ্যাব্রিকস, খান ব্রাদার্স, নর্দার্ন জুট, ন্যাশনাল টি, ন্যাশনাল টিউবস, প্রাইম টেক্স, রিজেন্ট টেক্সটাইল, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, আরএসআরএম স্টিল, সাফকো স্পিনিং, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, স্টাইলক্রাপ্ট, ইউনিক হোটেল ও ইয়াকিন পলিমার।

আলোচ্য ২৩টি নতুন কম্পানি ছাড়াও আরো ৩৮টি কম্পানি আগের থেকেই লোকসানের তালিকায় ছিল। এর মধ্যে কিছু কম্পানি ২০১৯ সালের পর লোকসানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে বেশির ভাগ কম্পানিই লোকসানি কম্পানির স্থায়ী তকমা নিয়ে পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করছে।

নতুন ২৩টি লোকসানি কম্পানি বাদে পুরনো ৩৮টি লোকসানি কম্পানি হলো অলটেক্স, এটলাস বাংলাদেশ, অ্যাপেলো ইস্পাত, বিডি সার্ভিস, বিচ হ্যাচারি, বিআইএফিসি ফাইন্যান্স, সিভিও পেট্রো, ঢাকা ডায়িং, দেশবন্ধু পলিমার, দেশ গার্মেন্ট, দুলামিয়া কটন, ইভিন্স টেক্সটাইল, ইস্টার্ণ কেবলস, ফ্যামিলি টেক্স, ফার কেমিক্যাল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জেনারেশন নেক্সট, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইমাম বাটন, জুট স্পিনার্স, খুলনা প্রিন্টিং, মেঘনা কনডেন্স মিল্ক, মেঘনা পেট, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, আরএন স্পিনিং, সমতা লেদার, সাভার রিফেকটরিজ, শ্যামপুর সুগার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, তাল্লু স্পিনিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, উসমানিয়া গ্লাস, জাহিন স্পিনিং, জাহিন টেক্সটাইল, জিলবাংলা সুগার মিল।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব লোকসানি কম্পানির লোকসানের পাল্লা ভারী হলেও কম্পানিগুলোর শেয়ার দর আচমকা আকাশচুম্বী হয়ে যায়। একটি অসাধু গোষ্ঠী এসব লোকসানি কম্পানির শেয়ার নিয়ে বছরজুড়েই কারসাজিতে লিপ্ত। কম্পানিগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কম্পানি কারসাজিকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হঠাৎ হঠাৎ মুনাফার চমকও দেখায়। তারপর উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে গেলে ফের লোকসানে ডুবে যায়।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কারসাজিকারীরা এসব লোকসানি কম্পানির শেয়ারদর হঠাৎ হঠাৎ বাড়িয়ে আকাশচুম্বী করে তোলে। তারপর নানা গুজব ছড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে। লোকসানি কম্পানির শেয়ারদরে যাতে লম্ফঝম্প ঘটাতে না পারে, সে জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জকেও প্রথাগত শোকজের গণ্ডিতে না থেকে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার আহবান জানান তাঁরা।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তালিকাভুক্ত কিছু কিছু কম্পানি এক বছর বড় লোকসানে থাকলে পরের বছরই বড় মুনাফায় ফিরে আসতে দেখা যায়। আবার এক প্রান্তিকে লোকসানে থাকলে পরের প্রান্তিকেই বড় মুনাফা নিয়ে হাজির হয়। এসব কম্পানির মালিকরা কম্পানির আসল ব্যবসা বাদ দিয়ে শেয়ার কারসাজিতেই বেশি মশগুল। যে কারণে কম্পানি আর্থিক হিসাব শ্রাবণ মাসের বৃষ্টির মতো রাতারাতি অন্ধকার-আলোকিত হয়। এসব জালিয়াতির ও জোচ্চুরির কম্পানির ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে তাঁরা মনে করেন।