kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

মহামারিতে টিসিবির সেবা বেড়েছে ১০ গুণ

এম সায়েম টিপু   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহামারিতে টিসিবির সেবা বেড়েছে ১০ গুণ

কঠোর লকডাউনেও টিসিবির ট্রাকে মানুষের দীর্ঘ লাইন ছবি : মঞ্জুরুল করিম

দেশে যেকোনো উৎসব-পার্বণ মানেই নিত্যপণ্যের ঘাটতি তৈরি করা এবং ভোক্তার মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো। অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে এই কাজ করে থাকেন কয়েক বছর ধরেই। বাড়িয়ে দেন পণ্যের দামও। ফলে বাজার হয়ে পড়ে অস্থিতিশীল। এতে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ১০ টাকার পণ্য ১০০ টাকায় বিক্রি করে ফুলে-ফেঁপে ওঠে সিন্ডিকেট। এই সময়ে হাল ধরে সরকারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক মানুষের আস্থার জায়গা হলেও সক্ষমতার অভাবে বাজারে ভারসাম্য রাখতে পারে না। তবে সম্প্রতি করোনা ও রমজানে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে আস্থা কুড়িয়েছে টিসিবি।

শান্তিনগর বাজার এলাকায় টিসিবির ট্রাক সেলের সামনে রিকশাচালক রমিজ মিয়া বলেন, ‘প্রতিটি বাজারের মোড়ে যদি এ রকম মালের ট্রাক থাকত, তাইলে গরিবের জন্য ভালো হতো।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রোজা ও করোনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে কাজ করে টিসিবি। নানা সীমাবদ্ধতার পরও দেশের এমন ক্রান্তিকালে প্রান্তিক মানুষের ভোগান্তি কমানোর জন্য নানা উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ কম। এর পরও বাজারে চাহিদা জোগানের কিছুটা ঘাটতি দেখা দিলেই প্রয়োজন হয় বাজার নজরদারির। এটা করা না গেলে চরম ভোগান্তিতে পরে সাধারণ মানুষ। এই প্রেক্ষাপটে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল আর সক্ষমতার অভাবে তা করা যায় না।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি মো. নাজের হোসাইন বলেন, ‘কভিড মহামারির এই সময়ে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা দূর করাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখা ও পণ্যমূল্য সবার কাছে সহনীয় রাখতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। তবে বাজার নজরদারি এবং টিসিবির সক্ষমতা বাড়ানো গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যেত।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। একসময় বাজারের মোট চাহিদার ২ শতাংশ সেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও গত দেড় বছরে তা বেড়ে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এরই মধ্যে ১০ শতাংশ সক্ষমতা বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘টিসিবির কর্মীর সংখ্যা না বাড়লেও সেবা বেড়েছে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গোডাউন বাড়ানো হচ্ছে। ১০ থেকে ১১০০ কোটি টাকার পণ্য সেবা দিলেও চলতি বছর দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার পণ্যের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘টিসিবি আগে স্থানীয় বাজার থেকে পণ্য কিনে বিক্রি করলেও বর্তমানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিসিবি নিজেই আমদানি করতে পারে। সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় টিসিবি গত বছর নিজেই পেঁয়াজ আমদানি করেছে। স্থানীয় বাজার থেকেও ন্যায্য মূল্যে পণ্য কিনে থাকে।’

টিসিবির সেবার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টিসিবি আগে যেখানে ৮০ থেকে ৮৫টি ট্রাক সেল দিত সেখানে বর্তমানে প্রায় ৫০০ ট্রাক সেল দেয়।’

তিনি জানান, তিন হাজার টন চিনি থেকে সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টন, মসুর ডাল আড়াই থেকে তিন হাজার টন ছিল; সেখানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার টন। এ ছাড়া ভোজ্য তেল তিন হাজার টন থেকে ৫০ হাজার টন সরবরাহ করা হয়।

টিসিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতিতে টিসিবি দুই হাজার ৮৩৪ জন ডিলারের মাধ্যমে ২৬ হাজার ১৬২টি ট্রাকে তিন কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষের কাছে ন্যায্য মূল্যে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভোজ্য তেল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ, ছোলা ও খেজুর।